বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডায় এক গ্লাস বিয়ার, দিনের শেষে একটু ওয়াইন বা কোনো উৎসবে গলা ভেজানো—এভাবে অ্যালকোহল গ্রহণ অনেকের কাছে স্বাভাবিক জীবনের অংশ। কিন্তু বিজ্ঞান বলছে, এই আপাত নিরীহ অভ্যাসই শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে এবং ক্যানসারসহ নানা দীর্ঘমেয়াদি রোগের ঝুঁকি বাড়ায়।
ডেনভারের ন্যাশনাল জিউইশ হেলথের কার্ডিওভাসকুলার বিশেষজ্ঞ ডা. অ্যান্ড্রু ফ্রিম্যান বলেন, ‘অ্যালকোহল মূলত বিষাক্ত পদার্থ। জীবাণু ধ্বংস করতেও এটি ব্যবহার করা হয়। তাই প্রশ্ন হচ্ছে—এর কোনো নিরাপদ মাত্রা আদৌ আছে কি?’
সাম্প্রতিক গবেষণাগুলো বলছে, অ্যালকোহল অন্তত ৬২টি রোগের জন্য সরাসরি দায়ী। এর মধ্যে রয়েছে হৃদ্রোগ, গ্যাস্ট্রিক, আলসার, প্যানক্রিয়াটাইটিস, ফ্যাটি লিভার, লিভার সিরোসিস এবং মানসিক জটিলতা। এ ছাড়া স্তন ক্যানসার, স্ট্রোক, ডায়াবেটিস ও ডিমেনশিয়ার মতো আরও অন্তত ৩০টি রোগে অ্যালকোহল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
গবেষকদের মতে, মাত্র একবার মদ্যপানও ২০ মিনিটের মধ্যে শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল করে দেয়। অতিরিক্ত মদ্যপান দীর্ঘ মেয়াদে শরীরের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরোধক কোষ নষ্ট করতে পারে, ফলে নিউমোনিয়া, যক্ষ্মা ও অন্যান্য সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে।
তবে আশার খবরও আছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, সময়মতো অ্যালকোহল ত্যাগ করলে শরীরের অনেক ক্ষতি ধীরে ধীরে কমে যেতে পারে। রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা কয়েক দিন বা এক সপ্তাহের মধ্যে কিছুটা স্বাভাবিক হয়ে ওঠে। মস্তিষ্কের ক্ষেত্রেও ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যায়। গবেষণায় দেখা গেছে, মদ্যপান বন্ধ করার কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই স্মৃতি ও মনোযোগের উন্নতি হতে পারে।
অ্যালকোহল ক্যানসারেরও অন্যতম কারণ। যুক্তরাষ্ট্রে তামাক ও স্থূলতার পর এটি ক্যানসারের তৃতীয় প্রধান প্রতিরোধযোগ্য কারণ হিসেবে বিবেচিত। বিশেষজ্ঞদের মতে, অ্যালকোহল ডিএনএ ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং শরীরে দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ তৈরি করে, যা ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়। তবে মদ্যপান বন্ধ করলে অ্যালকোহলজনিত ক্যানসারের অগ্রগতি থামানো সম্ভব হতে পারে।
হৃদ্রোগের ক্ষেত্রেও অ্যালকোহলের তথাকথিত উপকারিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিদিন অল্প পরিমাণ অ্যালকোহলও রক্তচাপ বাড়াতে পারে। বিশেষজ্ঞরা এখন মানুষকে যত কম সম্ভব মদ্যপান করতে, অথবা পুরোপুরি বন্ধ করতে পরামর্শ দিচ্ছেন।
বিজ্ঞানীদের ভাষায়, অ্যালকোহল শরীরের জন্য যতটা ক্ষতিকর, তা অনেকেই উপলব্ধি করেন না। তবে সঠিক সময়ে সিদ্ধান্ত নিলে শরীরের অনেক ক্ষতি আংশিক বা পুরোপুরি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।
সিএনএন অবলম্বনে