ছয় দফা দাবি বাস্তবায়নের দাবিতে রাজধানীর শাহবাগে অবস্থান কর্মসূচি করেছেন ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা। অংশগ্রহণকারীরা স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের ১৯ মে জারি করা এফসিপিএস প্রশিক্ষণসংক্রান্ত সিদ্ধান্তকে ‘বৈষম্যমূলক’ আখ্যা দিয়ে তা দ্রুত প্রত্যাহারের দাবি জানান।
তাঁরা বলছেন, চিকিৎসকদের ন্যায্য অধিকার, নিরাপদ কর্মপরিবেশ এবং মর্যাদাপূর্ণ পেশাগত অবস্থান নিশ্চিত করতে ছয় দফা দাবি অবিলম্বে বাস্তবায়ন করতে হবে।
আজ সোমবার দুপুরে শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে বিভিন্ন মেডিকেলের ইন্টার্ন চিকিৎসক, পোস্টগ্র্যাজুয়েট ট্রেইনি চিকিৎসক এবং মেডিকেল শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।
ইন্টার্ন চিকিৎসকদের প্রতিনিধি রাসেল মাহমুদ বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরেই আমরা আমাদের যৌক্তিক দাবিগুলো সরকারের কাছে তুলে ধরছি। কিন্তু এখনো কার্যকর কোনো সমাধান পাইনি। নতুন প্রজ্ঞাপনে একজন চিকিৎসককে কোর্স সম্পন্ন করার পর আরও দুই বছর উপজেলা পর্যায়ে কাজ করতে বলা হয়েছে। অথচ প্রায় পাঁচ হাজার প্রশিক্ষণার্থীর মধ্যে মাত্র এক হাজার ভাতা পাবেন, বাকি চার হাজার কোনো ভাতা পাবেন না। এটি স্পষ্ট বৈষম্য।’
রাসেল মাহমুদ আরও বলেন, ‘প্রায় ছয় বছর চিকিৎসাশাস্ত্রে অধ্যয়ন এবং পরবর্তী প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করার পর যদি বিনা ভাতায় উপজেলা পর্যায়ে কাজ করতে হয়, তাহলে আমাদের জীবিকা নির্বাহের সুযোগ কোথায়? পাশাপাশি উপজেলা পর্যায়ে প্রয়োজনীয় সংখ্যক বিশেষজ্ঞ শিক্ষক না থাকায় প্রশিক্ষণের মানও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।’
আন্দোলনরত ইন্টার্ন চিকিৎসকদের দাবি, দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি চিকিৎসক সমাজ দীর্ঘদিন ধরে অবহেলা, বৈষম্য ও নিরাপত্তাহীনতার শিকার। চিকিৎসকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত না হলে স্বাস্থ্যসেবার সামগ্রিক মানও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
অবস্থান কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা ‘ডাক্তারদের অপমান, মানি না মানব না’, ‘আমার সোনার বাংলায়, বৈষম্যের ঠাঁই নাই’, ‘ইন্টার্নদের কর্মবিরতি চলছে, চলবে’ এবং ‘ইন্টার্নদের কর্মঘণ্টা বেশি কেন, জবাব চাই, জবাব চাই’ স্লোগান দেন।
ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ছয় দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—১৯ মে জারি করা এফসিপিএস প্রশিক্ষণসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত বাতিল করে নতুন নির্দেশনা জারি, স্বাস্থ্যকর্মী সুরক্ষা আইন প্রণয়ন ও দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে এর বাস্তবায়ন, ইন্টার্ন চিকিৎসকদের মাসিক ভাতা ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ, ট্রেইনি চিকিৎসকদের জন্য উপযুক্ত বেতন কাঠামো প্রণয়ন, বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডারে প্রবেশের বয়সসীমা বৃদ্ধি, বিএমডিসি আইনকে পূর্ণাঙ্গ আইনে রূপান্তর এবং ভুয়া চিকিৎসক পরিচয়দানকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিশ্চিত করা। পাশাপাশি বিএমইউ ও বিসিপিএসের ভর্তি পরীক্ষার ফি এক হাজার টাকার মধ্যে নির্ধারণের দাবিও জানান তারা।