যুবরাজ মুহাম্মদ বিন সালমানের আমন্ত্রণে সৌদি আরব গিয়ে একসঙ্গে খাবার খাচ্ছেন শেখ হাসিনা এবং তাঁকে সম্মানের সঙ্গে দেশে ফিরতে না দিলে কঠোর পদক্ষেপ নেবে সৌদি সরকার—এমন দাবিতে একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। পোস্টগুলোতে আরও বলা হচ্ছে, এই মন্তব্য করেছেন সৌদি আরবের যুবরাজ নিজেই।
এ দাবিতে পোস্ট রয়েছে এখানে, এখানে, এখানে, এখানে।
‘আমার বাংলাদেশ’ নামের একটি ফেসবুক পেজ থেকে ১৯ এপ্রিল সন্ধ্যা ৬টায় আলোচিত দাবিতে একটি পোস্ট শেয়ার করা হয়। এটিই সম্ভাব্য প্রথম পোস্ট এবং সবচেয়ে বেশি ছড়িয়েছে। পোস্টটিতে ২১ এপ্রিল দুপুর ২টা পর্যন্ত ২ হাজার ৭০০ রিয়েকশন রয়েছে। এ ছাড়া ৩০৭ কমেন্ট এবং ৪৪৭ শেয়ার রয়েছে।
ভাইরাল পোস্টগুলোর কমেন্ট বিশ্লেষণে দেখা যায়, অধিকাংশ ব্যবহারকারী দাবিটিকে সত্য ধরে নিয়ে কমেন্ট করেছেন।
আজকের পত্রিকার অনুসন্ধান
ছবিটি পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, একটি গোল টেবিলে বিভিন্ন খাবার ও খালি প্লেট সাজানো। চারপাশে অতিথিরা বসে আছেন। ফেসবুক পোস্টে দাবি করা হয়েছে, অতিথিদের মধ্যে মাঝখানে সৌদি যুবরাজ প্রিন্স মুহাম্মদ বিন সালমান, তাঁর বাম পাশে সৌদি আরবের বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সৌদ এবং ডানপাশে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাঁদের সঙ্গে সামরিক উর্দি পরা দুজনকেও দেখা যায়।
রিভার্স ইমেজ সার্চের মাধ্যমে অনুসন্ধানে ছবিটির কোনো নির্ভরযোগ্য উৎস কিংবা জাতীয় বা আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত এ সংক্রান্ত কোনো প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি। এমনকি সৌদি আরব বা বাংলাদেশের কোনো সরকারি সূত্র, গণমাধ্যম কিংবা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভেরিফায়েড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এ ধরনের বৈঠক বা মন্তব্যের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
বিষয়টি নিয়ে আরও অনুসন্ধানে জানা যায়, ‘গোপালগঞ্জ সংবাদপত্র’ নামের একটি ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে গত ১৯ এপ্রিল দুপুর ২টা ২৬ মিনিটে প্রথম এই দাবিতে একটি পোস্ট করা হয়। পরে বিভিন্ন পেজ ও অ্যাকাউন্টে সেটি শেয়ার করা হয়। ওই অ্যাকাউন্ট ও সংশ্লিষ্ট পেজগুলো পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, বেশিরভাগ কনটেন্টই আওয়ামী লীগের সমর্থনে এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রেই যাচাই অযোগ্য তথ্য শেয়ার করা হয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এমন একটি উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক বৈঠক—বিশেষ করে দুই দেশের এমন শীর্ষ নেতার সাক্ষাৎ ও হুঁশিয়ারির মতো বক্তব্য—ঘটলে তা আন্তর্জাতিক ও দেশীয় গণমাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ পাওয়ার কথা। কিন্তু এ ক্ষেত্রে কোনো সূত্রে এমন তথ্য না থাকায় দাবিটির সত্যতা আরও প্রশ্নবিদ্ধ হয়। এ ছাড়া এমন একটি বৈঠকে সামরিক কর্মকর্তাদের উপস্থিত থাকার কথা না।
এসব অসঙ্গতির কারণে ছবিটি গুগলের এআই শনাক্তকারী টুল সিন্থআইডি দিয়ে যাচাই করে দেখা যায়, এটি গুগলের জেমিনি এআই ব্যবহার করে তৈরি বা সম্পাদিত।
সিদ্ধান্ত
সৌদি যুবরাজের আমন্ত্রণে শেখ হাসিনার সৌদি সফর, একসঙ্গে ভোজ, তাঁকে বাংলাদেশে ফিরতে না দিলে সৌদি সরকারের কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি— সব দাবিই অসত্য ও বানোয়াট। এ ছাড়া ছবিটিও এআই দিয়ে তৈরি।