আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে তৈরি হচ্ছে বিশেষ নাটক ‘চিঠিওয়ালা’। ২১ ফেব্রুয়ারি চ্যানেল আইয়ে প্রচার করা হবে নাটকটি। চিঠিওয়ালা রচনা করেছেন শফিকুর রহমান শান্তনু। চিত্রনাট্য ও পরিচালনা করেছেন রশীদ হারুন।
নাটকের গল্প এগিয়েছে শহরের একটি পরিবারকে ঘিরে। স্ত্রী শৈলী ও ছেলে অনিন্দ্যকে নিয়ে শহরে থাকে অনিক। নাগরিক আধুনিকতার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে নানা চেষ্টা তার। ছেলেকেও পড়ায় ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে। একদিন হঠাৎ তাদের বাড়ি বেড়াতে আসে গ্রামের হাশেম চাচা। একটি চিঠি নিয়ে এসেছে সে। নানা ব্যস্ততায় সেই চিঠি আর পড়া হয় না অনিকের। কিন্তু হাশেম চাচার আগমনে এই বাড়িতে ঘটতে থাকে নানা পরিবর্তন। নানা ঘটনা ঘটার পর একদিন হাশেম চাচার আনা চিঠিটা পড়ে অনিক। চিঠিটি অনিকের প্রয়াত বাবার বন্ধু একজন ভাষাসৈনিকের লেখা। আবেগমাখা সেই চিঠি পড়ে অনিক বুঝতে পারে, যেই স্বপ্ন নিয়ে ভাষার জন্য প্রাণ দিয়েছে দেশের মানুষ, যে স্বপ্ন নিয়ে প্রাণের বিনিময়ে স্বাধীন করেছে দেশ, সেই স্বপ্ন আজ ভুলতে বসেছে অনেকে। একটা চিঠি বদলে দেয় পুরো পরিবারের বোধ।
নাটকে হাশেম চাচা চরিত্রে অভিনয় করেছেন মামুনুর রশীদ, অনিক চরিত্রে আহসান হাবিব নাসিম এবং শৈলীর চরিত্রে সুষমা সরকার।
অনেক দিন যুক্তরাষ্ট্রে থাকার পর গত ১৪ জানুয়ারি দেশে ফিরেছেন অভিনেতা মামুনুর রশীদ। ৩১ জানুয়ারি তিনি শুটিং করেছেন চিঠিওয়ালা নাটকের। গতকাল নাট্যদল আরণ্যকের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আয়োজনে ব্যস্ত সময় কাটিয়েছেন। আজ চিঠিওয়ালার শেষ দিনের শুটিং করার কথা তাঁর। মামুনুর রশীদ বলেন, ‘অনেক দিন পর দেশে ফিরেছি। এখন অনেকটাই সুস্থ আছি। আরণ্যকের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আয়োজন নিয়ে ব্যস্ততা ছিল। এরই মাঝে শুটিং করছি চিঠিওয়ালা নাটকের। খুব সুন্দর একটি গল্প রয়েছে এই নাটকে।’
আহসান হাবিব নাসিম বলেন, ‘গল্পটা একটু ভিন্ন ধরনের। কেবল ভাষা দিবসেই নয়, যেকোনো সময়ে যেকোনো দর্শকের মনে চিন্তার খোরাক জোগাবে এই গল্প। বিদেশি সংস্কৃতির জোয়ারে গা ভাসিয়ে যাঁরা আধুনিক হওয়ার চেষ্টায় নিজের দেশ ও সংস্কৃতিকে ভুলে যেতে বসেছেন, তাঁদের নতুন করে ভাবাবে চিঠিওয়ালা।’