বিশ্বজুড়ে কোরিয়ান পপ বা কে-পপের বৈশ্বিক জনপ্রিয়তা নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে কে-পপ অ্যালবামের আন্তর্জাতিক রপ্তানি সব রেকর্ড ভেঙে গড়েছে নতুন মাইলফলক।
দক্ষিণ কোরিয়ার কাস্টমস সার্ভিসের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত কে-পপ অ্যালবামের বৈশ্বিক রপ্তানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৫ কোটি ৭৪ লাখ ৮০ হাজার মার্কিন ডলার, যা গত বছরের এই সময়ের তুলনায় ১২৫ শতাংশ বেশি।
সাধারণত ধারণা করা হতো, এশিয়ান দেশগুলোতেই কে-পপের জনপ্রিয়তা বেশি। তবে কাস্টমসের সাম্প্রতিক তথ্য বলছে ভিন্ন কথা। এই প্রথম কে-পপ অ্যালবামের সবচেয়ে বড় বাজার বা আমদানিকারক দেশ হিসেবে শীর্ষস্থান দখল করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এ বছরের প্রথম ছয় মাসে যুক্তরাষ্ট্রে রেকর্ড ৭ কোটি ৪১ লাখ ২০ হাজার ডলারের অ্যালবাম রপ্তানি হয়েছে।
তালিকার দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে রয়েছে যথাক্রমে চীন (৬ কোটি ১১ লাখ ৮০ হাজার ডলার) এবং জাপান (৪ কোটি ৫৬ লাখ ১০ হাজার ডলার)। শীর্ষ ১০টি দেশের তালিকায় এরপরেই জায়গা করে নিয়েছে জার্মানি, তাইওয়ান, হংকং, নেদারল্যান্ডস, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও পোল্যান্ড।
কে-পপের এই রেকর্ড বাণিজ্যের পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে জনপ্রিয় দুই ব্যান্ড বিটিএস ও ব্ল্যাকপিংক। দীর্ঘ প্রায় চার বছর পর চলতি বছরের মার্চে বিটিএস তাদের পঞ্চম স্টুডিও অ্যালবাম ‘আরিরাং’ প্রকাশ করে। অন্যদিকে, গত ফেব্রুয়ারিতে ব্ল্যাকপিংক নিয়ে আসে তাদের তৃতীয় মিনি অ্যালবাম ‘ডেডলাইন’। দুটি অ্যালবামই সাড়া ফেলেছে ভক্তদের মাঝে।
বিশ্লেষকদের মতে, স্ট্রিমিং যুগেও কে-পপের ফিজিক্যাল অ্যালবামের জনপ্রিয়তা কমেনি। বরং ফটোকার্ড, পোস্টার ও অন্যান্য সংগ্রহযোগ্য উপকরণের কারণে ভক্তরা অ্যালবাম কেনার প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠেছে। এই অনন্য বিপণন কৌশলের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে কে-পপ অ্যালবামের বিক্রি রেকর্ড পরিমাণ বেড়েছে।