হোম > বিনোদন > গান

পারিবারিক জটিলতায় আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন আশা ভোঁসলে

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

ছবি: আনন্দবাজারের সৌজন্যে

শনিবার সন্ধ্যায় অসুস্থ হলে মুম্বাইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছিল ভারতীয় সংগীতশিল্পী আশা ভোঁসলেকে। হাসপাতালে ভর্তির পর চিকিৎসকেরা জানান, তাঁর অবস্থা সংকটাপন্ন। কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হয়েছে। ইমার্জেন্সি ইউনিটে চিকিৎসা চলছে।

আজ সকালে তাঁর মৃত্যু হয়। আশার মৃত্যুতে সংগীতপ্রেমীদের মনে বিষাদের সুরে ভেসে উঠছে ‘আভি না যাও ছোড় কর, কে দিল আভি ভরা নেহিঁ’।

শ্বাসপ্রশ্বাস থেমে গেলে মানুষের মৃত্যু হয়। তাঁর কাছে সংগীতই ছিল শ্বাসগ্রহণ করার সমতুল্য। সংগীতচর্চার মধ্যে নিজের যাপনের সন্ধান পেতেন বর্ষীয়ান সংগীতশিল্পী আশা ভোসলে। ৯০ বছর বয়সেও মঞ্চে টানা তিন ঘণ্টা পারফর্ম করেছিলেন তিনি। রোববার সকালে অসুস্থতার কারণে মারা গেলেন আশা। কিন্তু তাঁর ‘শ্বাসপ্রশ্বাস’, তাঁর সংগীত অমর হয়ে রইল। ছবি: সংগৃহীত

আশার ক্যারিয়ারের ঝুলিতে ছিল ১২ হাজারেরও বেশি গান। সংগীতে অবদানের জন্য দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কারে সম্মানিত হয়েছিলেন। ২০০৮ সালে পেয়েছিলেন পদ্মভূষণ। তা ছাড়া, ১৯৯৭ সালে গ্র্যামির জন্যও মনোনীত হয়েছিলেন তিনি। আশার পেশাগত জীবন সাফল্যের আলোয় যতটা রঙিন, ব্যক্তিজীবন ছিল ততোধিক আঁধারময়। ছবি: সংগৃহীত

আশা তখন মাত্র ১৬ বছরের কিশোরী। ওই সময় ব্যক্তিগত সচিব গণপতরাও ভোসলের প্রেমে পড়ে গিয়েছিলেন আশা। দু’জনের বয়সের পার্থক্য ছিল ২০ বছরের। গণপতরাওয়ের সঙ্গে আশার সম্পর্ক মেনে নিতে পারেনি তাঁর পরিবার। তবে পরিবারের অমতেই গণপতরাওকে বিয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন আশা। ছবি: সংগৃহীত

১৯৪৯ সালে গণপতরাওকে বিয়ে করেছিলেন আশা। কিন্তু বিয়ের পর বাপের বাড়ির সঙ্গে সম্পর্কে চি়ড় ধরতে থাকে। গণপতরাও চাইতেন না যে, আশা তাঁর বাপের বাড়ির কোনো সদস্যের সঙ্গে যোগাযোগ রাখুন। অন্যদিকে, দিদি লতা মঙ্গেশকরের সঙ্গেও তা নিয়ে আশার বিবাদ লেগে থাকত। ছবি: সংগৃহীত

এক সাক্ষাৎকারে আশা বলেছিলেন, ‘লতাদিদি আমার সঙ্গে বহু দিন কথা বলেননি। প্রেম করে বিয়ে করেছিলাম। কিন্তু সেই বিয়ে সুখের ছিল না। আমার শ্বশুরবাড়ি ছিল খুব রক্ষণশীল। এক গায়িকা তাঁদের বাড়ির পুত্রবধূ হয়েছে, তা মেনে নিতে পারেননি কেউ।’ শ্বশুরবাড়িতে অধিকাংশ সময় মানসিক নির্যাতনের শিকার হতেন বলেও জানিয়েছিলেন আশা। ছবি: সংগৃহীত

গুঞ্জন শোনা গিয়েছিল, আশার সঙ্গে খুব খারাপ ব্যবহার করতেন গণপতরাও। নিজের সিদ্ধান্ত আশার ওপর চাপিয়ে দিতেন। বহুবার হেনস্তার শিকার হয়েছিলেন আশা। দ্বিতীয় সন্তানের জন্মের পর পরিস্থিতি কিছুদিনের জন্য স্বাভাবিক হলেও তাঁর জীবন আবার অন্ধকারে তলিয়ে গিয়েছিল। ছবি: সংগৃহীত

আশা তখন চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা। তাঁর সঙ্গে কন্যাসন্তান বর্ষা ভোসলে এবং পুত্রসন্তান হেমন্ত ভোসলে। পাশাপাশি ক্যারিয়ারে চরম ব্যস্ততা। সব মিলিয়ে আর পেরে উঠছিলেন না আশা। তাঁর জীবনীমূলক গ্রন্থ ‘আশা ভোসলে: আ লাইফ ইন মিউজ়িক’ থেকে জানা যায়, অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় ঘুমের ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন আশা। ছবি: সংগৃহীত

আশা জানান, তিনি জীবনে এমন অসহনীয় যন্ত্রণার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছিলেন যে, বেঁচে থাকার ইচ্ছাটুকুও হারিয়ে গিয়েছিল। নিজেকে শেষ করতে এক বোতল ঘুমের ওষুধ খেয়ে ফেলেছিলেন তিনি। পরে হাসপাতালের বিছানায় জ্ঞান ফিরলে আশা সিদ্ধান্ত নেন, সন্তানদের জন্য তিনি নতুন জীবন শুরু করবেন। ছবি: সংগৃহীত

অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় শ্বশুরবাড়ি ছেড়ে দুই সন্তানকে নিয়ে নিজের বাড়িতে ফিরে গিয়েছিলেন আশা। এর পর তৃতীয় তথা কনিষ্ঠ পুত্রসন্তান আনন্দ ভোসলের জন্ম হয়। তিন সন্তান এবং ক্যারিয়ার নিয়ে জীবন নতুনভাবে শুরু করেছিলেন তিনি। এরপর ১৯৬০ সালে গণপতরাওয়ের সঙ্গে তাঁর বিবাহবিচ্ছেদ হয়। ছবি: সংগৃহীত

আশার জীবনে একরাশ আলো নিয়ে এসেছিলেন রাহুলদেব বর্মন। ‘পিয়া তু অব তো আজা’, ‘দম মারো দম’, ‘চুরা লিয়া হ্যায় তুমনে’, ‘মেরা কুছ সামান’-এর মতো হিন্দি গানের পাশাপাশি ‘মহুয়া জমেছে আজ’, ‘চোখে চোখে কথা বলো’, ‘চোখে নামে বৃষ্টি’র মতো বহু বাংলা গান সংগীতপ্রেমীদের উপহার দিয়েছিলেন রাহুল-আশা জুটি। ছবি: সংগৃহীত

সংগীতজগতে রাহুল এবং আশার জুটি ছিল বহুলচর্চিত। জনশ্রুতি আছে, পেশাগত কারণে আলাপ হলেও আশার প্রেমে পড়ে গিয়েছিলেন রাহুল। বিয়ের জন্য বহুবার আশাকে নাকি সেধেওছিলেন তিনি। অবশেষে, রাহুলের প্রস্তাবে রাজি হয়ে ১৯৮০ সালে তাঁকে বিয়ে করেছিলেন আশা। ছবি: সংগৃহীত

গুঞ্জন শোনা গিয়েছিল, বিয়ের কয়েক বছরের মধ্যে মতাদর্শের পার্থক্য দেখা গিয়েছিল রাহুল এবং আশার। পাশাপাশি, ক্যারিয়ারের ব্যস্ততার জন্যও দুই সংগীতশিল্পীর সম্পর্কে দূরত্ব তৈরি হয়েছিল। তবে, পারস্পরিক শ্রদ্ধা-ভালোবাসা বজায় রেখেছিলেন দু’জনে। ছবি: সংগৃহীত

১৯৯৪ সালে মারা গিয়েছিলেন রাহুল। স্বামীর মৃত্যুর পাশাপাশি দুই সন্তানের মৃত্যুর সাক্ষী থাকতে হয়েছিল আশাকে। কানাঘুষো শোনা যায়, আশার কন্যা বর্ষা মানসিক অবসাদগ্রস্ত ছিলেন। ২০০৮ সালে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন তিনি। ২০১২ সালে আবারও আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন বর্ষা। সে বার আর মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরতে পারেননি তিনি। ২০১২ সালে কন্যাসন্তানকে চিরতরের জন্য হারিয়ে ফেলেন আশা। ছবি: সংগৃহীত

কন্যার মৃত্যুর তিন বছরের মধ্যে আরেক সন্তানবিয়োগ হয় আশার। ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করছিলেন তাঁর জ্যেষ্ঠ পুত্র হেমন্ত। ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করতে করতেই মৃত্যু হয় তাঁর। সর্বশেষ ২০২২ সালে প্রিয় লতাদিদির প্রয়াণে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন আশা। ছবি: সংগৃহীত

ব্যক্তিজীবনে বারবার আঘাত পেলেও সংগীতকে কখনো ফিরিয়ে দেননি আশা। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, ‘মানুষ যেমন শ্বাস নিলে বেঁচে থাকে, আমার কাছে সংগীত হলো শ্বাসপ্রশ্বাস নেওয়ার মতো।’ তাঁর যখন ৯০ বছর বয়স, তখন গানের অনুষ্ঠান করার জন্য গিয়েছিলেন দুবাইয়ে। টানা তিন ঘণ্টা দুবাইয়ের মঞ্চে পারফর্ম করেছিলেন তিনি। ছবি: সংগৃহীত

রান্না করতে ভীষণ ভালোবাসতেন আশা। নিজের শখকে পেশাদার রূপ দিতে ২০০২ সালে প্রথম রেস্তোরাঁ খুলেছিলেন তিনি। কম সময়ের মধ্যে সেই রেস্তোরাঁ আন্তর্জাতিকভাবে খ্যাতি পাওয়ায় বিদেশের বিভিন্ন জায়গায় তার শাখা খোলা হয়েছিল। আগামী সেপ্টেম্বরে ৯৩ বছর পূর্ণ হওয়ার কথা ছিল আশার। কিন্তু তার আগেই ঘটল ছন্দপতন। ছবি: সংগৃহীত

বলিউড সূত্রের খবর, শনিবার সন্ধ্যায় হঠাৎ শারীরিক অস্বস্তি শুরু হওয়ায় সে কথা গৃহকর্মীকে জানিয়েছিলেন আশা। সঙ্গে সঙ্গে মুম্বাইয়ের হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছিল তাঁকে। শনিবার তাঁর নাতনি জ়নাই ভোসলে সামাজিক মাধ্যমে লিখেছিলেন, ‘আমার ঠাকুমা আশা ভোসলে ক্লান্তি এবং বুকে সংক্রমণের কারণে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। আমরা আপনাদের কাছে আমাদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তাকে সম্মান করার অনুরোধ করছি। চিকিৎসা চলছে এবং আশা করি সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে। আগামী দিনে যা-ই হবে, আমরা আপনাদের জানাব।’ রোববার (১২ এপ্রিল) সকালে প্রয়াত হন সংগীতশিল্পী। তাঁর মৃত্যুশোকে সংগীতপ্রেমীদের মনে বিষাদের সুরে ভেসে উঠছে ‘আভি না যাও ছোড় কর, কে দিল আভি ভরা নেহিঁ’। ছবি: সংগৃহীত

তথ্যসূত্র: আনন্দবাজার

একই বিন্দুতে শেষ হলো দুই বোনের সুরের সফর

আশাজির মৃত্যুর সংবাদ শুনে নির্বাক হয়ে গিয়েছিলাম: সাবিনা ইয়াসমীন

রাহুল ও আশা: সুরে ও ছন্দে বাঁধা পড়েছিল দুই প্রাণ

বড় শিল্পীরা কেন বড় হয়, তাঁদের দেখে শিখেছি: রুনা লায়লা

আশা ভোঁসলে মারা গেছেন

সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়নপত্র কিনলেন শিল্পীরা

হৃদয় খানের সুরে গাইলেন ইমরান

হাসপাতালে আশা ভোঁসলে, অবস্থা সংকটাপন্ন

আবার শুরু হচ্ছে বিদেশি শিল্পীদের কনসার্ট

প্রীতম ও জেফারকে নিয়ে ওয়েব ফিল্ম ‘তুমি আমি শুধু’