মারা গেছেন অস্কার বিজয়ী অভিনয়শিল্পী ও যুক্তরাজ্যের সাবেক রাজনীতিক গ্লেনডা জ্যাকসন। ষাট ও সত্তরের দশকে দুবার অস্কার বিজয়ী এই অভিনেত্রীর বয়স হয়েছিল ৮৭ বছর। তাঁর মৃত্যুসংবাদ যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে নিশ্চিত করেছেন গ্লেনডা জ্যাকসনের এজেন্ট লিওনেল লারনার।
গতকাল বৃহস্পতিবার গ্লেনডা জ্যাকসনের এজেন্ট লিওনেল লারনার সিএনএনকে বলেন, ‘আজ সকালে অস্কার বিজয়ী অভিনেত্রী ও রাজনীতিক গ্লেনডা জ্যাকসন ৮৭ বছর বয়সে লন্ডনে নিজের বাসায় মারা গেছেন। তিনি কিছুদিন যাবৎ অসুস্থ ছিলেন এবং শান্তিপূর্ণভাবে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। এ সময় পরিবারের সদস্যরা তাঁর পাশে ছিলেন।’
১৯৩৬ সালে ইংল্যান্ডের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর ব্রিকেনহেডে জন্মগ্রহণ করেন গ্লেনডা। কিশোর বয়সেই একটি অপেশাদার নাট্যদলে নাম লেখান। এরপর তিনি লন্ডনের রয়্যাল অ্যাকাডেমি অব ড্রাম্যাটিক আর্টে পড়ার জন্য বৃত্তি অর্জন করেন। সেখান থেকে পাস করে তিনি লন্ডনের ওয়েস্ট এন্ডে অভিনয়জীবন শুরু করেন এবং ১৯৬৫ সালে ‘মারাট/শেইড’ নাটকের মধ্য দিয়ে নিউইয়র্কের ব্রডওয়েতে পা রাখেন।
এর আগেই অবশ্য রানি প্রথম এলিজাবেথের চরিত্র চিত্রণের জন্য খ্যাতি মেলে গ্লেনডার। বিবিসির আত্মজৈবনিক চলচ্চিত্র ‘এলিজাবেথ আর’ এবং ঐতিহাসিক পটভূমিতে নির্মিত ‘মেরি, কুইন অব স্কটস’ সিনেমায় ব্রিটিশ রানির চরিত্রকে বাস্তব করে তোলেন এই অভিনেত্রী।
২০১৮ সালে ব্রডওয়ের নাটক ‘থ্রি টল উইমেনে’র জন্য টনি অ্যাওয়ার্ডও জিতেছেন তিনি।
রাজনীতিক হিসেবেও সফল ছিলেন গ্লেনডা জ্যাকসন। ১৯৯২ সালে রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার পর লেবার পার্টির এমপি নির্বাচিত হন তিনি। তখন তাঁর দল পার্লামেন্টে বিরোধী দলে ছিল। তাঁর দীর্ঘ ২৩ বছরের এমপি জীবনে টনি ব্লেয়ারের নেতৃত্বে যুক্তরাজ্যে সরকারও গঠন করে লেবাররা। ১৯৯৭ সাল থেকে গ্লেনডা পরের দুই বছরের জন্য কনিষ্ঠ পরিবহনমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন। ২০০০ সালে লন্ডনের মেয়র নির্বাচনেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন, কিন্তু জিততে পারেননি।