হোম > শিক্ষা > ক্যাম্পাস

শিক্ষার্থীদের ভাবনায় পয়লা বৈশাখ

মুহিবুল হাসান রাফি

পয়লা বৈশাখ বাঙালির ঐতিহ্যের অন্যতম ধারক ও বাহক। এটি বাঙালির সর্বজনীন লোক-উৎসব। পুরোনো বছরের ভুলত্রুটি ভুলে নতুন উদ্যমে জীবন শুরু করার দিন। নতুন বছরের সূচনায় বাঙালি মেতে ওঠে নাচ, গান ও উৎসবে। সময়ের পরিবর্তনে তরুণ প্রজন্মের চোখে বৈশাখ এখন নতুনভাবে ধরা দেয়। শিক্ষার্থীদের অনুভূতির সমন্বয়ে এই উপস্থাপনা তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের ভাবনার কথা তুলে ধরেছেন চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজের শিক্ষার্থী মুহিবুল হাসান রাফি

পয়লা বৈশাখের উৎপত্তি ও উদ্‌যাপন

রাকিবুল ইসলাম চৌধুরী, শিক্ষার্থী, প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়

মূলত মোগল সম্রাট আকবরের সময়ে বাংলা সনের সূচনা। কৃষিভিত্তিক অর্থনীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে খাজনা আদায় সহজ করতে তিনি ফসল তোলার সময় অনুযায়ী বাংলা সন বা বঙ্গাব্দ প্রবর্তন করেন। সময়ের প্রবাহে তা আজ বাঙালির সর্ববৃহৎ সাংস্কৃতিক উৎসবে রূপ নিয়েছে। একসময় বৈশাখে জমির খাজনা আদায়ের সুবিধার্থে ব্যবসায়ীরা হালখাতা করতেন, যা এখনো অনেক স্থানে প্রচলিত। আধুনিক পয়লা বৈশাখে যুক্ত হয়েছে নানা রং। ভোরের আলোয় পান্তা-ইলিশ, রঙিন পোশাকে মানুষের মিলনমেলা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা—সব মিলিয়ে দিনটি হয়ে ওঠে উৎসবমুখর। শহর থেকে গ্রাম—সবখানে বসে বৈশাখী মেলা, শিশু থেকে বৃদ্ধ—সবার অংশগ্রহণে মুখর হয়ে ওঠে পরিবেশ। পত্রপত্রিকা ও টেলিভিশনও সাজে বৈশাখের আয়োজনে।

পয়লা বৈশাখের একাল-সেকাল

শাম্মী তুলতুল, শিক্ষার্থী, চট্টগ্রাম আইন কলেজ

মনকে রাঙিয়ে তোলার অন্যতম দিন পয়লা বৈশাখ। একসময় এই উৎসবের পরিসর ছিল মূলত পরিবার ও গ্রামীণ সমাজকেন্দ্রিক। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বৈশাখের একাল-সেকালে এসেছে বড় পরিবর্তন—বিশেষ করে গ্রামীণ ঐতিহ্য থেকে নাগরিক উৎসবে রূপান্তর। সেকালে হালখাতা, গ্রামীণ মেলা ও পারিবারিক মিলনই ছিল বৈশাখের প্রধান আকর্ষণ। গ্রামের মানুষ একসঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করত, উৎসবের মূল শক্তি ছিল পারস্পরিক সম্পর্ক ও একাত্মতা। এখন সেই বৈশাখ অনেকটাই শহরকেন্দ্রিক। মঙ্গল শোভাযাত্রা, পান্তা-ইলিশ, করপোরেট আয়োজন—সব মিলিয়ে এটি একটি সর্বজনীন উৎসবে পরিণত হয়েছে। বর্তমান সময়ে তরুণ প্রজন্ম অনেকে একা অথবা বন্ধুবান্ধব নিয়ে ঘুরতে বেশি স্বচ্ছন্দ বোধ করে। তবে পারিবারিক অংশগ্রহণ কিছুটা কমেছে।

পয়লা বৈশাখ ঘিরে অপসংস্কৃতি

জান্নাতুল নাঈম মনিকা, শিক্ষার্থী, ক্রিমিনোলজি অ্যান্ড পুলিশ সায়েন্স, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

পয়লা বৈশাখ একটি সর্বজনীন মিলনমেলা। মঙ্গল শোভাযাত্রা, হালখাতা ও দেশীয় লোকজসংগীত, নজরুলগীতি, লালনগীতি, ভাওয়াইয়া আর ভাটিয়ালি—এসবের মধ্য দিয়ে বাঙালির প্রাণের আবেগ ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা প্রকাশ পায়।

তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই উৎসব ঘিরে কিছু অপসংস্কৃতিরও জন্ম হয়েছে; বিশেষ করে পান্তা-ইলিশ খাওয়ার প্রচলন, যা মূলত গত শতকের আশির দশকে শুরু হয়। ১৯৮৩ সালে ঢাকার রমনার বটমূলে ছায়ানটের বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের সময় কিছু মানুষ শখের বশে পান্তা-ভাত ও ইলিশ ভাজা বিক্রি শুরু করেন। অনেকে এটিকে মূল সংস্কৃতির অংশ হিসেবে দেখলেও এর ঐতিহাসিক ভিত্তি তুলনামূলক নতুন। তাই কৃত্রিমতা ও অপসংস্কৃতি পরিহার করে বাঙালির মৌলিক সংস্কৃতির চর্চার মাধ্যমে পয়লা বৈশাখকে আরও অর্থবহ এবং প্রাণবন্ত করে তোলা প্রয়োজন।

শৈশবের পয়লা বৈশাখ

জুবায়ের ইসলাম, শিক্ষার্থী, ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ

কবে যে বড় হয়ে গেছি, টেরই পাইনি। মনে হয়, এই তো সেদিন স্কুলজীবন শেষ হলো। তারও আগে, বাড়ির পাশে পয়লা বৈশাখের সেই মেলা। মায়ের কাছে ১০ টাকা চেয়ে নিয়ে ছুটে যেতাম মেলায়। হরেক রকম খেলনা, মাটির জিনিসপত্র, মুখরোচক খাবার—সব মিলিয়ে সে ছিল এক অন্য জগৎ। সেই ১০ টাকাতেই যেন রাজ্যের সুখ পাওয়া যেত। প্রতিবছর একটা বাঁশি কিনতাম, ফুঁ দিলেই বেজে উঠত। আমরা যাকে বলতাম ‘কুত্তা বাঁশি’। বন্ধুরা মিলে প্রতিযোগিতা হতো, কার বাঁশিতে কত দূর পর্যন্ত শব্দ শোনা যায়। সপ্তাহজুড়ে চলত মেলা। আজ এখানে, তো কাল ওখানে—সবখানেই হাজির হওয়ার চেষ্টা। বাজেট সেই একই—১০ টাকা। তাতেই ছিল অফুরন্ত আনন্দ।

বৈশাখের আনন্দে অতীত ও বর্তমান

নাদিয়া খানম মিম, শিক্ষার্থী, সলিমা সিরাজ মহিলা মাদ্রাসা

পয়লা বৈশাখ এলেই মনে হয়, আসলে কি আগের মতো আনন্দটা এখনো আছে? নাকি সবকিছু বদলে গেছে, শুধু নামটাই এক রয়ে গেছে? সেকালের বৈশাখ ছিল খুব সহজ, খুব আপন। ভোরে ঘুম ভাঙা, নতুন কাপড়, আর মায়ের হাতের পিঠা-পায়েস—এই ছোট ছোট জিনিসেই লুকিয়ে থাকত বড় আনন্দ। গ্রামজুড়ে মেলা, লোকগান, আর সবাই মিলে হাসি-আড্ডা—কোনো আড়ম্বর ছিল না; কিন্তু আনন্দটা ছিল খাঁটি। মানুষ মানুষকে সময় দিত, একসঙ্গে থাকাটাই ছিল উৎসবের মূল সৌন্দর্য। আর এখনকার বৈশাখ যেন অনেকটাই ভিন্ন। চারদিকে আয়োজন, ছবি তোলা, সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট—সবকিছুই যেন দেখানোরও অংশ। বৈশাখের শোভাযাত্রা, কনসার্ট, নতুন পোশাক—সবই আছে, তবু মাঝেমধ্যে প্রশ্ন জাগে, ভেতরের অনুভূতিটা কি আগের মতো আছে?

জ্ঞানসন্ধানী এক তরুণের বৈশ্বিক যাত্রা: মো. আবদুর রউফ

বাকৃবির সেরা তিন দর্শনীয় স্থান

ঢাবিতে জাতীয় জলবায়ু সম্মেলন অনুষ্ঠিত

ডিজিটাল নিরাপত্তা সচেতনতায় বয়োজ্যেষ্ঠদের প্রশিক্ষণ দিলেন ড্যাফোডিল শিক্ষার্থীরা

জবিতে প্রথম বর্ষের ক্লাস শুরু ৩ মে

জবিতে ষষ্ঠ মেধাতালিকা প্রকাশ, ভর্তি শুরু আজ থেকে

আইইউবিতে হাম সচেতনতা বিষয়ক সেমিনার

জবিতে প্রথম ‘ভাইস চ্যান্সেলর গবেষণা পুরস্কার’ পেলেন চার শিক্ষক

দেশে সুযোগ না হলেও হার্ভার্ডে সফল আসিফ

১৫৩ বছরের ঐতিহ্যে উজ্জ্বল রাজশাহী কলেজ