উচ্চশিক্ষার জন্য ইউরোপ ও এশিয়ার সংযোগস্থল তুরস্ক এখন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের কাছে অন্যতম জনপ্রিয় গন্তব্য। ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য প্রায় ৫ হাজার বৃত্তির ঘোষণা দিয়েছে তুরস্ক সরকার। বিশ্বের যেকোনো দেশের শিক্ষার্থীরা স্নাতক, স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি প্রোগ্রামে আবেদন করতে পারবেন।
উচ্চশিক্ষায় প্রবেশাধিকারের দিক থেকে তুরস্ক বর্তমানে বিশ্বের দ্বিতীয় শীর্ষ দেশ। দেশটিতে সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়ে রয়েছে ২০০টির বেশি বিশ্ববিদ্যালয়। এর মধ্যে বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ক্ষেত্রে আইইএলটিএস বা টোফেল বাধ্যতামূলক নয়।
এ ছাড়া বিশ্বের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় তুরস্কের অন্তত ৯টি বিশ্ববিদ্যালয় স্থান পেয়েছে। দেশটির সরকার জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তির সংখ্যা আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো স্কলারশিপগুলোর জন্য কোনো আবেদন ফি লাগে না এবং অনেক ক্ষেত্রে ইংরেজি ভাষা দক্ষতার সনদ ছাড়াই আবেদন করা যায়।
তুরস্কের বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের আইইএলটিএস ছাড়াই আবেদনের সুযোগ দিচ্ছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য—
⬤ বিলকেন্ট ইউনিভার্সিটি
⬤ বাহচেশেহির ইউনিভার্সিটি
⬤ ইস্তাম্বুল মেডিপোল ইউনিভার্সিটি
⬤ ইস্তাম্বুল জাইম ইউনিভার্সিটি
⬤ আতিলিম ইউনিভার্সিটি
⬤ ফাতিহ সুলতান মেহমেত ইউনিভার্সিটি
⬤ চাঙ্কায়া বিশ্ববিদ্যালয়
⬤ ইস্তাম্বুল আইদিন ইউনিভার্সিটি
⬤ বাসকেন্ট ইউনিভার্সিটি
⬤ উফুক ইউনিভার্সিটি
১. কাদির হাস ইউনিভার্সিটি স্কলারশিপ
ইস্তাম্বুলভিত্তিক কাদির হাস ইউনিভার্সিটি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য স্নাতক, মাস্টার্স ও পিএইচডি পর্যায়ে বৃত্তি দেওয়া হয়। এই স্কলারশিপে আইইএলটিএস ও টোফেল ছাড়াই আবেদন করা যায়।
২. সাবানজি ইউনিভার্সিটি স্কলারশিপ
তুরস্কের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ প্রতিষ্ঠান সাবানজি ইউনিভার্সিটি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য স্নাতক, স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি পর্যায়ে বৃত্তির সুযোগ দিচ্ছে।
৩. বিলকেন্ট ইউনিভার্সিটি স্কলারশিপ
বিলকেন্ট ইউনিভার্সিটির ২০২৬ ফল টার্ম স্কলারশিপ স্নাতক, মাস্টার্স ও পিএইচডি শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত। বিশ্ববিদ্যালয়টি তুরস্কের অন্যতম শীর্ষ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত।
৪. কচ ইউনিভার্সিটি স্কলারশিপ
কচ ইউনিভার্সিটি ২০২৬ সালের ফল সেশনের জন্য আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে মাস্টার্স ও পিএইচডি প্রোগ্রামে আবেদন গ্রহণ করছে। এশিয়ার শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যেও এর অবস্থান উল্লেখযোগ্য।
৫. তুরকিয়ে বুরসলারি স্কলারশিপ
তুরস্ক সরকারের সবচেয়ে বড় স্কলারশিপ কর্মসূচি ‘তুরকিয়ে বুরসলারি স্কলারশিপ’-এর আওতায় প্রায় ৫ হাজার আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীকে পূর্ণ অর্থায়নে পড়াশোনার সুযোগ দেওয়া হবে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীরা এতে আবেদন করতে পারবেন।
তুরস্কের অধিকাংশ সরকারি স্কলারশিপ পূর্ণ অর্থায়নভিত্তিক। সাধারণত যেসব সুবিধা অন্তর্ভুক্ত থাকে—
⬤ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি সুবিধা
⬤ মাসিক ভাতা ও সম্পূর্ণ টিউশন ফি মওকুফ
⬤ যাওয়া-আসার বিমান টিকিট
⬤ স্বাস্থ্যবিমা ও আবাসন সুবিধা
⬤ এক বছর মেয়াদি তুর্কি ভাষা কোর্স
⬤ সাকসেস স্কলারশিপ প্রোগ্রাম
⬤ তুরস্ক রিসার্চ স্কলারশিপ প্রোগ্রাম
⬤ সাইপ্রাস ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির আংশিক আন্তর্জাতিক স্নাতক বৃত্তি
⬤ একাডেমিশিয়ানস অ্যান্ড পাবলিক অফিশিয়ালস টার্কিশ ল্যাঙ্গুয়েজ প্রোগ্রাম
⬤ ওস্টিম টেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটির আন্তর্জাতিক স্নাতক বৃত্তি
⬤ আইটিইউ এআই ডিপমাইন্ড স্কলারশিপ
যারা আইইএলটিএস ছাড়াই বিদেশে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন দেখছেন, তাঁদের জন্য তুরস্ক হতে পারে সম্ভাবনাময় গন্তব্য।