দেশের লাখো তরুণের স্বপ্নের নাম বিসিএস। কিন্তু সেই স্বপ্নের পথ খুব সহজ নয়। বিশাল সিলেবাস, কঠিন প্রতিযোগিতা আর দীর্ঘ প্রস্তুতির কথা ভেবে অনেকে শুরুতে দমে যান।
অনেকের ধারণা, পড়া মুখস্থ করলেই সফল হওয়া যায়। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। কোথা থেকে শুরু করবেন, কীভাবে প্রস্তুতি নিলে অন্যদের চেয়ে এগিয়ে থাকা সম্ভব—এসব প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার এবং ৪৭তম বিসিএসে (শিক্ষা ক্যাডার) সুপারিশপ্রাপ্ত পাপ্পু সরকার।
বিসিএসের সিলেবাস অনেকের কাছে সমুদ্রের মতো। কিন্তু এটিকে ভয় নয়, বরং বন্ধুর মতো চিনুন। প্রথমে পুরো সিলেবাস মন দিয়ে পড়ুন। কোথায় কী আছে, কোন বিষয় কতটা গুরুত্বপূর্ণ—এ বিষয়ে পরিষ্কার ধারণা নিন।
এরপর বিগত বছরের প্রশ্ন বিশ্লেষণ করুন। বিশেষ করে ৩৫তম থেকে ৫০তম বিসিএসের প্রশ্নগুলো। এতে প্রশ্নের ধরন, পরীক্ষার প্রবণতা এবং গুরুত্বপূর্ণ টপিকগুলো সহজে ধরা পড়ে।
অনেকে প্রথমে শুধু প্রিলিমিনারি নিয়ে ভাবেন; পরে লিখিত, তারপর ভাইভা। এই পদ্ধতি এখন খুব কার্যকর নয়। বর্তমান বিসিএস পরীক্ষায় শুরু থেকে সমন্বিত প্রস্তুতি প্রয়োজন। বেসিক ভালো হলে প্রিলির পাশাপাশি লিখিত ও ভাইভার ভিত্তিও তৈরি হয়ে যায়।
প্রস্তুতির শুরুতে বাংলা, ইংরেজি, গণিত, বিজ্ঞান, বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলির মৌলিক বইগুলো ভালোভাবে পড়ুন। ভিত শক্ত হওয়ার পর প্রয়োজন অনুযায়ী ভালো মানের গাইডবই ব্যবহার করুন। শেষ সময়ের দ্রুত রিভিশনের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য ডাইজেস্টও কাজে আসতে পারে। মনে রাখবেন, বেশি বই নয়; একটি বিষয় ভালোভাবে বোঝাই আসল শক্তি।
গণিত আর বিজ্ঞানকে ভয় নয়
আর্টস বা কমার্সের অনেক শিক্ষার্থীর কাছেই গণিত ও বিজ্ঞান আতঙ্কের নাম। এই ভয় কাটানোর একটাই উপায়—নিয়মিত অনুশীলন। প্রতিদিন অল্প সময় হলেও গণিতের জন্য রাখুন। ধারাবাহিক চর্চাই একসময় আত্মবিশ্বাস তৈরি করবে।
বিসিএস লিখিত পরীক্ষায় সবচেয়ে বড় পার্থক্য গড়ে দেয় লেখার দক্ষতা। নিয়মিত ফ্রি-হ্যান্ড রাইটিংয়ের অভ্যাস করুন। বাংলা থেকে ইংরেজি এবং ইংরেজি থেকে বাংলায় অনুবাদ অনুশীলন করুন। নিজের ভাষায় পরিষ্কার, গুছিয়ে এবং যুক্তিসংগতভাবে লিখতে পারলে লিখিত পরীক্ষায় বড় সুবিধা পাওয়া যায়।
একজন বিসিএস প্রার্থীর জানার পরিধি যত বড় হবে, প্রস্তুতিও তত শক্ত হবে। নিয়মিত বাংলা ও ইংরেজি দৈনিক পত্রিকা পড়ুন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম, গবেষণাধর্মী জার্নাল, থিঙ্কট্যাংকের প্রতিবেদন এবং তথ্যভিত্তিক ইউটিউব চ্যানেল অনুসরণ করুন। আর যদি নন-একাডেমিক বই পড়ার অভ্যাস থাকে, সেটি হবে আপনার বাড়তি শক্তি। কারণ, বই শুধু তথ্য দেয় না, দৃষ্টিভঙ্গিও বদলে দেয়।
ছাত্রজীবনে বা প্রস্তুতির শুরুতে যাঁরা নিজেদের ভিত্তি গড়ে তুলতে সময় ও শ্রম বিনিয়োগ করেন, চূড়ান্ত প্রতিযোগিতায় সাফল্যের সম্ভাবনা তাদেরই বেশি।
গ্রন্থনা: সাব্বির হোসেন