হোম > শিক্ষা

শিক্ষায় নতুন লক্ষ্যের চেয়ে বিদ্যমান সংস্কার গুরুত্বপূর্ণ: ইউনিসেফের গবেষণা

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎

বাংলাদেশের শিক্ষা খাতে নতুন লক্ষ্য নির্ধারণের চেয়ে বিদ্যমান সংস্কারগুলোকে আরও বাস্তবসম্মত ও টেকসইভাবে বাস্তবায়ন করা গুরুত্বপূর্ণ বলে উঠে এসেছে নতুন গবেষণায়; বিশেষ করে সবচেয়ে পিছিয়ে পড়া শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের চাহিদা ও সক্ষমতাকে গুরুত্ব দিয়ে শিক্ষার্থীকেন্দ্রিক শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুললে সবার জন্য সমান শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে মত দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ সরকার ও ইউনিসেফের এক গবেষণায় এ কথা উঠে এসেছে। আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর বনানীর একটির হোটেলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে গবেষণার ফলাফল প্রকাশ করা হয়।

গবেষণার তথ্যে বলা হয়, বাংলাদেশে শিক্ষার মানোন্নয়ন শুধু শক্তিশালী নীতিমালা প্রণয়নের ওপর নির্ভর করে না; বরং সেই নীতিগুলো শ্রেণিকক্ষ ও শিক্ষাকেন্দ্রগুলোতে কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে, তার ওপরই মূলত সাফল্য নির্ভর করে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন, বাংলাদেশে ইউনিসেফের ভারপ্রাপ্ত প্রতিনিধি স্ট্যানলি গুয়াভুইয়া এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল।

তিন বছরব্যাপী এ গবেষণায় শিক্ষাব্যবস্থার বিভিন্ন সংস্কার বাস্তবে কীভাবে কাজ করছে, তা বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এতে দেখা হয়েছে—কোন উদ্যোগ কার্যকর হচ্ছে, কোন বাধাগুলো অগ্রগতিকে ব্যাহত করছে এবং নীতিনির্ধারণ ও শ্রেণিকক্ষভিত্তিক বাস্তব শিক্ষাদানের মধ্যে ব্যবধান কেন তৈরি হচ্ছে।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি), উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোসহ বিভিন্ন শিক্ষাসংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় এ গবেষণা চালানো হয়।

গবেষণায় বলা হয়েছে, অনেক শিক্ষার্থী মৌলিক সাক্ষরতা ও গণনা দক্ষতা অর্জনের আগেই মাধ্যমিক পর্যায়ে প্রবেশ করছে। ফলে শ্রেণিভিত্তিক ধারণার পরিবর্তে শিক্ষার্থীর প্রকৃত শেখার স্তর অনুযায়ী পাঠদান করলে শিক্ষার মান উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হতে পারে।

এতে আরও বলা হয়, শিক্ষার্থীদের ভিন্ন ভিন্ন চাহিদা অনুযায়ী আলাদা শিক্ষাদানের পদ্ধতিকে পাঠ্যক্রম, শিক্ষক প্রশিক্ষণ ও বিদ্যালয়ব্যবস্থার বাধ্যতামূলক অংশ করতে হবে; এটিকে ঐচ্ছিক হিসেবে দেখলে চলবে না।

গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২২ সালের নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়নে শিক্ষকেরা চেষ্টা চালালেও বাস্তব ক্ষেত্রে নানা সীমাবদ্ধতা রয়েছে। বিশেষ করে প্রশিক্ষণ প্রদানে বিলম্ব, পর্যাপ্ত শিক্ষাসামগ্রীর অভাব এবং দুর্বল মূল্যায়নব্যবস্থাকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

গবেষণায় সুপারিশ করা হয়েছে, ভবিষ্যতের পাঠ্যক্রম সংস্কারে আরও টেকসই পরিকল্পনা, শ্রেণিকক্ষ উপযোগী উপকরণ এবং কার্যকর যোগাযোগব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

গবেষণায় বলা হয়েছে, শিক্ষার্থীরা ছোট ছোট দক্ষতা উন্নয়নমূলক কার্যক্রম থেকে উপকৃত হলেও এই সুযোগ এখনো সীমিত এবং সবার জন্য সমানভাবে পৌঁছায়নি।

এসব দক্ষতাকে মূল পাঠ্যক্রমের বাইরে সহশিক্ষা কার্যক্রম হিসেবে দেখায় শিক্ষকেরা বাস্তবায়নে সমস্যায় পড়ছেন। তাই পাঠ্যক্রম, সময়সূচি ও মূল্যায়নব্যবস্থার সঙ্গে এসব কার্যক্রমকে আরও সমন্বিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

গবেষণায় দেখা গেছে, কমিকভিত্তিক শিক্ষাসামগ্রী শিক্ষার্থীদের জ্ঞান অর্জনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে, বিশেষ করে বাড়িতে ব্যবহারের ক্ষেত্রে। তবে ডিজিটাল শিক্ষাসামগ্রী কার্যকর হলেও ডিভাইস ও বিদ্যুৎ সুবিধার সীমাবদ্ধতা বড় বাধা হিসেবে কাজ করছে। পাশাপাশি পরিবার ও সহপাঠীদের সম্পৃক্ততা শিক্ষার মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

গবেষণায় উঠে এসেছে, শিক্ষকেরা জেন্ডার সমতাভিত্তিক শিক্ষাকে সমর্থন করলেও বাস্তব প্রয়োগে তাঁদের প্রয়োজনীয় দক্ষতার ঘাটতি রয়েছে। বিদ্যালয়ের পরিবেশ, সামাজিক রীতিনীতি এবং নারী শিক্ষকের সীমিত উপস্থিতি এ ক্ষেত্রে অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করছে। এ জন্য বাস্তবভিত্তিক প্রশিক্ষণ ও কমিউনিটির অধিক সম্পৃক্ততার সুপারিশ করা হয়েছে।

সবচেয়ে প্রান্তিক শিশুদের জন্য পরিচালিত কর্মসূচিতে দেখা গেছে, তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী পাঠদান করলে দ্রুত শেখার ঘাটতি পূরণ সম্ভব। গবেষণায় উল্লেখ করা হয়, ৮০ শতাংশের বেশি শিক্ষার্থী পুনরায় আনুষ্ঠানিক শিক্ষাব্যবস্থায় ফিরতে সক্ষম হয়েছে।

তবে এই অগ্রগতি টেকসই করতে শিক্ষকদের আরও সক্রিয় সহায়তা ও সুপরিকল্পিত পদক্ষেপ প্রয়োজন বলে মত দেওয়া হয়েছে।

গবেষণায় বলা হয়েছে, মৌলিক শিক্ষার সঙ্গে কারিগরি দক্ষতার সমন্বয় শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ায়। বিশেষ করে মেয়েদের মধ্যে শিক্ষানবিশ কার্যক্রমের মাধ্যমে কর্মজীবনে প্রবেশের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। তবে শ্রমবাজারের সঙ্গে আরও শক্তিশালী সংযোগ এবং দক্ষতার আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

বাল্যবিবাহের ঝুঁকিতে থাকা কন্যাশিশুদের জন্য শিক্ষানবিশ কার্যক্রম আত্মবিশ্বাস ও দক্ষতা বাড়াতে সহায়ক হচ্ছে বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে। তবে সামাজিক রীতিনীতি, চলাচলে সীমাবদ্ধতা এবং আর্থিক সেবায় প্রবেশাধিকারের অভাব অগ্রগতিকে সীমিত করছে। দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিশ্চিত করতে অর্থনৈতিক সহায়তা, টেকসই জীবিকা এবং শ্রমবাজারের সঙ্গে সংযোগ বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে।

গবেষণার উপসংহারে বলা হয়েছে, শিক্ষা সংস্কার তখনই সফল হবে, যখন পুরো ব্যবস্থাটি তা বাস্তবায়নের জন্য প্রস্তুত থাকবে। এ জন্য শিক্ষক প্রশিক্ষণ, পর্যাপ্ত উপকরণ, বিদ্যালয়ভিত্তিক নেতৃত্ব, অভিভাবক ও কমিউনিটির সম্পৃক্ততা এবং নীতির ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

গবেষণায় অবদানের জন্য সম্মাননা পেলেন আইএসইউর ড. হাকিকুর

প্রশিক্ষণ ছাড়া কোনো শিক্ষককে পাঠদান করতে দেওয়া হবে না: ববি হাজ্জাজ

শিক্ষার মান নিয়ে হতাশা প্রকাশ করলেন শিক্ষামন্ত্রী

ঢাবির নতুন প্রোভিসি আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী

সরকারি প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের বিনা মূল্যে ব্যাগ, ড্রেস দ্রুত বিতরণ করা হবে: গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী

পরিবেশ রক্ষায় সহযোগিতা জোরদারে একমত ঢাবি ও সুইডেন দূতাবাস

এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের পাশাপাশি প্রধানদেরও বদলির সুযোগ, নতুন নীতিমালা জারি

জাপানিদের সাফল্যের ৭ রহস্য

ঢাবির হলে ‘ব্যানার টানানো’ ঘিরে মুখোমুখি ছাত্র সংসদ-ছাত্রদল

এইউবিতে ২৪ কলেজের অংশগ্রহণে আন্তকলেজ ক্রিকেট টুর্নামেন্টের উদ্বোধন