উত্তর আমেরিকার দেশ কানাডায় যাঁরা উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন দেখছেন, তাঁদের জন্য সুখবর নিয়ে এসেছে দেশটির ইউনিভার্সিটি অব ম্যানিটোবা। দেশটির বিশ্ববিদ্যালয়টি ২০২৬ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক, স্নাতকোত্তর এবং পিএইচডি পর্যায়ে অধ্যয়নের জন্য আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বৃত্তির আবেদন আহ্বান করেছে। বাংলাদেশসহ যেকোনো দেশের শিক্ষার্থীরা বৃত্তিটির জন্য আবেদনের সুযোগ পাবেন।
কানাডার ম্যানিটোবা প্রদেশে অবস্থিত ইউনিভার্সিটি অব ম্যানিটোবা দেশটির অন্যতম শীর্ষস্থানীয় এবং পশ্চিমাঞ্চলীয় কানাডার প্রথম পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়। ১৮৭৭ সালে প্রতিষ্ঠিত এই প্রাচীন বিদ্যাপীঠটি তার সমৃদ্ধ একাডেমিক ঐতিহ্য এবং গবেষণাধর্মী শিক্ষার জন্য বিশ্বজুড়ে সমাদৃত।
সুযোগ-সুবিধা
কানাডার এই বিদ্যাপীঠে উচ্চশিক্ষার জন্য নির্বাচিত মেধাবী শিক্ষার্থীরা একগুচ্ছ আর্থিক সুবিধা উপভোগ করবেন। এই স্কলারশিপের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হলো সম্পূর্ণ টিউশন ফি মওকুফ। অনেক ক্ষেত্রে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের জন্য থাকছে বিনা মূল্যে আবাসন বা ফ্রি রেসিডেন্সি সুবিধা। এর পাশাপাশি, দৈনন্দিন ব্যক্তিগত খরচ মেটানোর জন্য শিক্ষার্থীদের নিয়মিত মাসিক উপবৃত্তি বা স্টাইপেন্ড দেওয়া হবে। শিক্ষার্থীদের যাতায়াত খরচও বৃত্তির অন্তর্ভুক্ত।
আবেদনের যোগ্যতা
এই মর্যাদাপূর্ণ বৃত্তির জন্য বিশ্বের যেকোনো দেশের শিক্ষার্থীরা আবেদনের সুযোগ পাবেন। যাঁরা স্নাতক ডিগ্রির জন্য আবেদন করতে চান, তাঁদের অবশ্যই উচ্চমাধ্যমিক বা সমমানের সার্টিফিকেট থাকতে হবে। একইভাবে, মাস্টার্স প্রোগ্রামে ভর্তির জন্য আবেদনকারীর একটি স্বীকৃত আন্ডারগ্র্যাজুয়েট ডিগ্রি থাকা বাধ্যতামূলক। আর যাঁরা পিএইচডির লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছেন, তাঁদের জন্য স্নাতকোত্তরের সনদ থাকতে হবে। এ ছাড়া ইংরেজি ভাষায় দক্ষতার সনদ জমা দিতে হবে।
আবেদনের প্রয়োজনীয় তথ্য
প্রার্থীদের প্রথমেই সব একাডেমিক ও ব্যক্তিগত নথিপত্র প্রস্তুত করতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে আপনার পূর্ববর্তী সব পরীক্ষার অফিশিয়াল ট্রান্সক্রিপ্ট ও সার্টিফিকেটের স্ক্যান কপি। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী হিসেবে ইংরেজি ভাষার দক্ষতার প্রমাণ দিতে আইইএলটিএস বা টোফেলের মতো পরীক্ষার স্কোরকার্ড থাকা বাধ্যতামূলক। এ ছাড়া একটি হালনাগাদ সিভি, স্টেটমেন্ট অব পারপাস বা মোটিভেশন লেটার জমা দিতে হবে। মাস্টার্সে আবেদনকারীদের জন্য অতিরিক্ত হিসেবে দুটি সুপারিশপত্র জমা দিতে হবে।
অধ্যয়নের ক্ষেত্র
কৃষি ও জীববিজ্ঞানে আগ্রহীদের জন্য রয়েছে অ্যাগ্রিবিজনেস ও অ্যাগ্রিকালচারাল ইকোনমিকস, অ্যানিমেল সায়েন্স, প্ল্যান্ট সায়েন্স, সয়েল সায়েন্স, এন্টারমোলজি (কীটতত্ত্ব) এবং ফুড অ্যান্ড হিউম্যান নিউট্রিশনাল সায়েন্সেসের মতো বিভাগ। যাঁরা স্থাপত্য ও নকশা নিয়ে কাজ করতে চান, তাঁদের জন্য রয়েছে আর্কিটেকচার, সিটি প্ল্যানিং, ইন্টেরিয়র ডিজাইন এবং ল্যান্ডস্কেপ আর্কিটেকচারের মতো সৃজনশীল কোর্স। প্রকৌশল ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়টি বায়োসিস্টেম ইঞ্জিনিয়ারিং, সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং এবং মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মতো বিভাগ অফার করছে।
আবেদন পদ্ধতি
আগ্রহী প্রার্থীরা এ লিংকে গিয়ে অনলাইনের মাধ্যমে আবেদন করতে পারবেন।
আবেদনের শেষ সময় : ১ ডিসেম্বর, ২০২৬।