১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও সাংবিধানিক গণভোট ঘিরে উপকূলীয় এলাকায় নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মাঠে নেমেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। ভোলার সদর উপজেলাসহ উপকূলের ১১৫টি ঝুঁকিপূর্ণ ও স্পর্শকাতর ভোটকেন্দ্রে বিশেষ গোয়েন্দা নজরদারির পাশাপাশি প্রথমবারের মতো ড্রোন ব্যবহার করে টহল জোরদার করা হয়েছে।
আজ রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে কোস্ট গার্ড দক্ষিণ জোনের জোনাল কমান্ডার ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ আরিফ হোসেন এক ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, নির্বাচন উপলক্ষে গত ১৮ জানুয়ারি থেকে তারা মাঠে কাজ শুরু করেছে, যা ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে। মোট ২৮ দিনব্যাপী এই বিশেষ মোতায়েনকালে কোস্ট গার্ডের সদস্যরা উপকূলীয় ও নদী তীরবর্তী দুর্গম এলাকাগুলোতে ভ্রাম্যমাণ দল এবং স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
কোস্ট গার্ড দক্ষিণ জোনের বেশ কিছু উপজেলাগুলোর ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বিশেষ নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—ভোলা সদর উপজেলা, দৌলতখান, তজুমদ্দিন, চরফ্যাশন ও মনপুরা।
অন্য এলাকার মধ্যে রয়েছে মেহেন্দীগঞ্জ, হাতিয়া, বাউফল, রাঙ্গাবালী, কলাপাড়া ও রামগতি।
ব্রিফিংয়ে ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ আরিফ হোসেন বলেন, ‘একটি উৎসবমুখর ভোটের পরিবেশ নিশ্চিত করতে আমরা বদ্ধপরিকর। বিশেষ গোয়েন্দা নজরদারি ও ড্রোন টহলের মাধ্যমে যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা দমনে আমরা সর্বদা প্রস্তুত।’
অন্তর্বর্তী সরকার একই দিনে ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ নিয়ে যে গণভোটের আয়োজন করেছে, সেটির পবিত্রতা রক্ষায় কোস্ট গার্ড বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। বাহিনীর মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সিয়াম-উল-হক জানান, সাধারণ জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে এবং যেকোনো ধরনের নির্বাচনী সহিংসতা প্রতিরোধে তাঁরা স্থানীয় প্রশাসন ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছেন।
প্রতিষ্ঠার পর থেকে সমুদ্র ও উপকূলবাসীর আস্থার প্রতীকে পরিণত হওয়া বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড এবার নির্বাচনী দায়িত্বেও তাদের সক্ষমতার পরিচয় দিচ্ছে। বিশেষ করে দুর্গম চরাঞ্চলে ড্রোনের ব্যবহার ভোটারদের মনে বাড়তি নিরাপত্তা ও আস্থার সঞ্চার করেছে।