বাণিজ্য সহজীকরণ, সরবরাহ ব্যবস্থার দক্ষতা বৃদ্ধি এবং এয়ারকার্গো খাতের আধুনিকায়নের লক্ষ্যে ‘এয়ারকার্গো অপারেটর স্টেশন’ স্থাপন সংক্রান্ত নতুন বিধিমালা জারির প্রস্তাব করেছে সরকার। এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পর্যায়ক্রমে পূর্ণাঙ্গ লজিস্টিক হাবে পরিণত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপনকালে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।
বাজেট বক্তৃতায় তিনি বলেন, বাণিজ্য সহজীকরণ এবং সাপ্লাই চেইনের লিড টাইম কমানোর লক্ষ্যে বিশ্বের স্বনামধন্য লজিস্টিকস প্রতিষ্ঠান ও দেশীয় বেসরকারি খাতকে এয়ারকার্গো ক্লিয়ারেন্স কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে ‘এয়ারকার্গো অপারেটর স্টেশন স্থাপন সংক্রান্ত বিধিমালা’ প্রণয়ন করা হবে।
অর্থমন্ত্রী জানান, নতুন বিধিমালার আওতায় আন্তর্জাতিক মানের কার্গো ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা হবে। এর ফলে আমদানি-রপ্তানি পণ্য দ্রুত খালাস করা সম্ভব হবে এবং ব্যবসায়িক কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে। একই সঙ্গে দেশের ক্রমবর্ধমান ই-কমার্স খাতের সম্প্রসারণেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশকে একটি আধুনিক ও প্রতিযোগিতামূলক আঞ্চলিক অ্যাভিয়েশন হাবে পরিণত করার লক্ষ্যে সরকার সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। এর অংশ হিসেবে জাতীয় এয়ার কানেকটিভিটি গ্রিড গড়ে তোলা, নতুন আন্তর্জাতিক গেটওয়ে প্রতিষ্ঠা এবং ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিমানবন্দরকে পূর্ণাঙ্গ লজিস্টিকস ও যাত্রী হাবে উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বাজেট বক্তৃতায় আরও বলা হয়, দেশের উত্তরাঞ্চল, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল এবং পর্যটননির্ভর অঞ্চলগুলোর আন্তর্জাতিক যোগাযোগ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে রাজশাহী, কক্সবাজার, যশোর ও সৈয়দপুর বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক গেটওয়ে হিসেবে গড়ে তোলা হবে।
এ ছাড়া একীভূত ডিজিটাল লজিস্টিকস প্ল্যাটফর্ম চালুর মাধ্যমে কার্গো ব্যবস্থাপনা, পণ্য পরিবহন ও সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক, দ্রুত ও কার্যকর করার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী।