মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে দীর্ঘ ৪৭ দিন ধরে আটকে থাকা বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) জাহাজ বাংলার জয়যাত্রা হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করছে। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) বাংলাদেশ সময় ১১টা ৫০ মিনিটে হরমুজ প্রণালিতে বাংলাদেশি জাহাজ জয়যাত্রা ঢুকে পড়ে। তার পেছনে আরও ৮-১০টি জাহাজ হরমুজ অতিক্রম করছে।
রাত ১২টা ১৫ মিনিটে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর মাহমুদুল মালেক। তিনি বলেন, আজ রাত তিনটা নাগাদ বাংলাদেশি জাহাজ জয়যাত্রা হরমুজ অতিক্রম করবে।
গত সপ্তাহে আমেরিকা ইসরায়েল ইরানের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর সৌদি আরবের রাস আল খায়ের বন্দর থেকে রওনা দিয়েছিল হরমুজ প্রণালির উদ্দেশ্যে কাছে আসে। প্রায় ৪০ ঘণ্টা জাহাজ চালিয়ে সকালে কাছাকাছি এসে পৌঁছে ইরান সরকারের কাছে হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার অনুমতি চাইলে তা প্রত্যাখ্যান করে। এতে, জাহাজটি ঘুরিয়ে আবারও নিরাপদে আরব আমিরাতের মিনাসাকার বন্দরের বহির্নোঙরে নোঙর করে।
বিএসসির কর্মকর্তারা জানান, হরমুজ অতিক্রম করে আরব আমিরাতের ফুজিরাহ বন্দর থেকে তেল ব্যাংকারিং করা হবে। জাহাজটির পরবর্তী গন্তব্য মোজাম্বিক বা সাউথ আফ্রিকা যাওয়ার কথা। জাহাজে থাকা ৩১ জন নাবিকের জন্য পর্যাপ্ত খাবারের মজুত আছে। জাহাজটি প্রতিদিন ১৮ টন সামুদ্রিক পানি পরিশোধন করতে পারে। তবে তার জন্য ইঞ্জিন পুরোদমে চালু রাখতে হয়। রেশনিং করে পানির ব্যবহার দৈনিক ৬ টনে নামিয়ে আনা হয়েছে।
মাহমুদুল মালেক বলেন, ‘নাবিকদের মনোবল শক্ত রাখার জন্য আমরা ইতিমধ্যে দৈনিক খাবারের বরাদ্দ জনপ্রতি ৭ ডলার থেকে বাড়িয়ে ১২ ডলার করেছি। এ ছাড়া বেসিকের সমপরিমাণ ওয়ার অ্যালাউন্স দেওয়া হচ্ছে।’
বিএসসির তথ্যমতে, ভারত থেকে পণ্য বহন করে গত ২ ফেব্রুয়ারি হরমুজ প্রণালি পেরিয়ে পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করে ‘বাংলার জয়যাত্রা’। পরে কাতারের একটি বন্দর থেকে স্টিল কয়েল বোঝাই করে ২৭ ফেব্রুয়ারি সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেবেল আলী বন্দরে পৌঁছায় জাহাজটি। এর পরদিনই ইরানে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালালে সংঘাত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
গত ১১ মার্চ জেবেল আলী বন্দরে জাহাজটি থেকে পণ্য খালাস শেষ হয়। এরপর কুয়েতের একটি বন্দরে নতুন করে পণ্য বোঝাই করার সূচি ছিল। তবে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি চলমান থাকায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা ছেড়ে নিরাপদে জাহাজটি ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেয় বিএসসি। কিন্তু জাহাজটি হরমুজ প্রণালির দিকে যাত্রা শুরু করলেও নিরাপত্তার কারণে। মিনাসাকার ফিরে যেতে বাধ্য হয় জাহাজটি। জাহাজটি ৩৭ হাজার টন সার নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউনে যাওয়ার কথা।