হোম > অর্থনীতি

যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানি কমেছে

মাহফুজুল ইসলাম, ঢাকা

বিশ্বের সবচেয়ে বড় পোশাক বাজার যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের অবস্থান ক্রমেই দুর্বল হচ্ছে। চলতি বছরের প্রথম চার মাসে দেশটিতে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি কমেছে ১১ দশমিক ২৪ শতাংশ। একই সময়ে দেশটিতে বাংলাদেশের প্রতিযোগী দেশ ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া ও ইন্দোনেশিয়া প্রবৃদ্ধি ধরে রেখেছে। বিশেষ করে কম্বোডিয়ার রপ্তানি বেড়েছে ১৪ শতাংশের বেশি। যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য দপ্তরের অধীন অফিস অব টেক্সটাইলস অ্যান্ড অ্যাপারেল (ওটেক্সা) প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য বিশ্লেষণে এ চিত্র উঠে এসেছে।

ওটেক্সার তথ্য বলছে, ২০২৬ সালের জানুয়ারি-এপ্রিল সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে মোট পোশাক রপ্তানি ১২ শতাংশ কমে ২৩ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলারে নেমেছে। বৈশ্বিক চাহিদা কমে যাওয়ায় প্রায় সব রপ্তানিকারক দেশই চাপে রয়েছে। তবে বাংলাদেশের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীরা একই বাজারে নিজেদের অংশ বাড়াতে সক্ষম হয়েছে। এই সময়ে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানি কমেছে ১১ দশমিক ২৪ শতাংশ। বিপরীতে ভিয়েতনামের রপ্তানি বেড়েছে ১ দশমিক ৩১ শতাংশ, ইন্দোনেশিয়ার ২ দশমিক ২৭ শতাংশ এবং কম্বোডিয়ার ১৪ দশমিক ৭ শতাংশ।

২০২৫ সালের জানুয়ারি-এপ্রিল সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে ২৯৮ কোটি ১৪ লাখ ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছিল বাংলাদেশ। চলতি বছরের একই সময়ে তা কমে দাঁড়িয়েছে ২৬৪ কোটি ৬২ লাখ ডলারে। অন্যদিকে ভিয়েতনামের রপ্তানি ৫০৮ কোটি ৯৪ লাখ ডলার থেকে বেড়ে হয়েছে ৫১৫ কোটি ৫৮ লাখ ডলার। কম্বোডিয়ার রপ্তানি ১২৩ কোটি ১০ লাখ ডলার থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪০ কোটি ৪১ লাখ ডলারে।

শুধু মূল্যমানেই নয়, পণ্যের পরিমাণের হিসাবেও বাংলাদেশ পিছিয়েছে। চার মাসে বাংলাদেশ থেকে রপ্তানি হওয়া পোশাকের সংখ্যা কমেছে ৯ দশমিক ১ শতাংশ। বিপরীতে ভিয়েতনামের ক্ষেত্রে তা বেড়েছে ২ দশমিক ৬৯ শতাংশ, ইন্দোনেশিয়ায় ৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ এবং কম্বোডিয়ায় ১৭ দশমিক ৭৭ শতাংশ।

বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) সাবেক পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে মোট রপ্তানি কমলেও উদ্বেগের বিষয় হলো—বাংলাদেশের প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলো একই বাজারে প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে পেরেছে। অর্থাৎ বাজার ছোট হলেও তারা বেশি অংশ দখল করছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ভিয়েতনাম ও কম্বোডিয়া উচ্চমূল্যের ফ্যাশন পোশাক, স্পোর্টসওয়্যার এবং কৃত্রিম তন্তুভিত্তিক পণ্যে জোর দিয়ে আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলোর বড় অর্ডার পাচ্ছে। অন্যদিকে বাংলাদেশের রপ্তানি এখনো মূলত তুলাভিত্তিক বেসিক পোশাকের ওপর নির্ভরশীল।

ওটেক্সার তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের প্রতিটি পোশাকের গড় মূল্য ২ দশমিক ৪৫ শতাংশ কমেছে। অর্থাৎ রপ্তানিকারকেরা কম দামে পণ্য বিক্রি করেও অর্ডার ধরে রাখার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু তাতেও রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি ফেরেনি।

খাতসংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, সাম্প্রতিক বছরগুলোয় কম্বোডিয়া ও ভিয়েতনাম বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, শিল্প অবকাঠামো উন্নয়ন এবং নতুন ধরনের পোশাক উৎপাদনে বড় বিনিয়োগ করেছে। চীন থেকে উৎপাদন স্থানান্তরের সুযোগও দেশ দুটি কার্যকরভাবে কাজে লাগিয়েছে। অন্যদিকে বাংলাদেশে জ্বালানিসংকট, ডলার-সংকট, ব্যাংকঋণের উচ্চ সুদহার এবং উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধির কারণে উদ্যোক্তারা প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছেন।

বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক নীতির প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে চাহিদা কমেছে। একই সঙ্গে দেশে জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধি, গ্যাস-সংকট, সরবরাহব্যবস্থার দুর্বলতা ও নীতিগত অস্থিরতা বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

বিশ্বব্যাংক ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, ধীর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং ভোক্তাদের ব্যয় সংকোচনের কারণে আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলো কম অর্ডার দিচ্ছে। তবে ভিয়েতনাম, তুরস্ক ও ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশগুলো উচ্চমূল্যের পণ্যে জোর দেওয়ায় চাপের মধ্যেও ইউনিট মূল্য বাড়াতে পারছে।

সোনার দামে আবারও বড় পতন, দুই দফায় কমল ১১০২৩ টাকা

লক্ষ্য বড়, দুশ্চিন্তা টাকার

মাথাপিছু আয় ও জিডিপি বেড়েছে বিনিয়োগে মন্দা

সরকারি ভাতা বিতরণে নগদের প্রতি আস্থা অব্যাহত

কমতে পারে ইলেকট্রিক গাড়ির দাম, বাড়তে পারে তেলচালিত গাড়ির

বাজেটে বাড়তে পারে করমুক্ত আয়সীমা

২০২৬ সালের সবচেয়ে জনপ্রিয় ডাউনলোড টুল

আরও বেশি গানসমৃদ্ধ মিউজিক ডাউনলোডার

২০২৬ সালের সেরা ডেটা-সাশ্রয়ী মিউজিক ডাউনলোডার

ইসলামী ব্যাংকে পর্যবেক্ষক নিয়োগ করল কেন্দ্রীয় ব্যাংক