হোম > অর্থনীতি

রাষ্ট্রায়ত্ত বিসিএসএল: বিদেশের বাজারে যাচ্ছে ফাইবার কেব্‌ল

কাজী শামিম আহমেদ, খুলনা

­ফাইবার অপটিক কেব্‌ল উৎপাদিত হচ্ছে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন খুলনার বাংলাদেশ কেব্‌ল ইন্ডাস্ট্রি লিমিটেডে। ছবি: আজকের পত্রিকা

২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৩১ কোটি টাকা মুনাফা করেছে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বাংলাদেশ কেব্‌ল ইন্ডাস্ট্রি লিমিটেড (বিসিএসএল)। আর গত পাঁচ বছরে এর মোট মুনাফা ছিল ১৪৮ কোটি টাকা। প্রতিষ্ঠানটি বিদেশে ফাইবার অপটিক কেব্‌ল রপ্তানির প্রস্তুতি নিচ্ছে। খুলনার শিরোমণি শিল্প এলাকায় অবস্থিত বিসিএসএল এখন জেলার একমাত্র ধারাবাহিকভাবে লাভজনক রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠান।

প্রতিষ্ঠান সূত্র জানায়, ২০২৮ সালের মধ্যে নেপাল ও কয়েকটি আফ্রিকান দেশে ফাইবার অপটিক কেব্‌ল রপ্তানির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ২০১০ সালে অপটিক্যাল ফাইবার কেব্‌ল উৎপাদন শুরু করার পর থেকে প্রযুক্তি আধুনিকায়ন, পণ্য বৈচিত্র্য এবং পরিকল্পিত সম্প্রসারণের মাধ্যমে বাজারে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে বিসিএসএল। বর্তমানে দেশে ব্যবহৃত অপটিক্যাল ফাইবার টেলিকম কপারের প্রায় ৬০ শতাংশ সরবরাহ করে প্রতিষ্ঠানটি।

বিসিএসএল মধ্য মেয়াদে ওয়াসার জন্য উপযোগী উঁচু ঘনত্ব পলি (এইচডিপি) পাইপ উৎপাদনের জন্য নতুন যন্ত্রপাতি সংযোজন এবং ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে একটি লোকাল এরিয়া নেটওয়ার্ক (এলএএন) কেব্‌ল প্ল্যান্ট স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়েছে। দীর্ঘ মেয়াদে ২০৩০ সালের মধ্যে বিদ্যুৎ খাতে কন্ডাক্টর ও কেব্‌ল সরবরাহ বাড়ানোর লক্ষ্যও রয়েছে।

আগামী পাঁচ বছরে অপটিক্যাল ফাইবার কেব্‌ল প্ল্যান্টে আরও তিনটি মেশিন যুক্ত করে বার্ষিক উৎপাদন ২০ হাজার কিলোমিটার থেকে ২৫ হাজার কিলোমিটারে উন্নীত করার রোডম্যাপ নেওয়া হয়েছে। এইচভিপিই টেলিকম ডাক্ট প্ল্যান্টে আরও দুটি নতুন মেশিন সংযোজনের ফলে উৎপাদন ক্ষমতা ৬ হাজার ৫০০ কিলোমিটার থেকে ৮ হাজার কিলোমিটারে পৌঁছেছে। সুপার এনামেল কপার ওয়্যার প্ল্যান্টের উৎপাদন ক্ষমতা ৩০০ থেকে ৬০০ টনে উন্নীত করা হয়েছে। পাশাপাশি নিজস্ব অর্থায়নে কারখানার ছাদে সৌর প্যানেল স্থাপনের উদ্যোগ রয়েছে।

ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অধীন পরিচালিত বিসিএসএল একই কম্পাউন্ডে অবস্থিত টেলিফোন শিল্প সংস্থার (টেশিস) সঙ্গে পশ্চিম জার্মানির সিমেন্স এজির কারিগরি সহায়তায় প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৬৭ সালের ৮ মে ভৈরব নদীর তীরে ৩১ দশমিক ৫৮ একর জমির ওপর কারখানাটি স্থাপিত হয়। স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি দেশীয় তামার টেলিকম কেব্‌লের চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ২০০৫ সালে সিমেন্স শেয়ার বিক্রি করার পর কোম্পানি আইনের অধীনে কার্যক্রম পরিচালনা শুরু হয়।

২০১০ সালে অপটিক্যাল ফাইবার কেব্‌ল প্ল্যান্ট, ২০১৬ সালে এইচভিপিই টেলিকম ডাক্ট প্ল্যান্ট এবং ২০১৯ সালে ওভারহেড কন্ডাক্টর ও কেব্‌ল প্ল্যান্ট স্থাপনের মাধ্যমে উৎপাদন পরিধি বাড়ানো হয়। ১৯৯৮ থেকে ২০০৪ সালের মধ্যে প্রি-হিটিং ইউনিট, ট্যান্ডেম লাইন, স্ট্র্যান্ডিং লাইন ও ড্রাম টুইস্টার মেশিন সংযোজন উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করে।

বিসিএসএলের মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মোসলেম উদ্দিন বলেন, ধারাবাহিক প্রযুক্তি আপগ্রেডই বিসিএসএলকে প্রতিযোগিতায় টিকিয়ে রেখেছে। বর্তমানে এখানে ৩৩ জন কর্মকর্তা, ১৬৩ জন স্থায়ী কর্মী এবং ১২৫ জন আউটসোর্স কর্মী কাজ করছেন।

জেনারেল ম্যানেজার (প্রোডাকশন) এনামুল হক, বাংলাদেশ কেব্‌ল ইন্ডাস্ট্রি লিমিটেডে উৎপাদনের জন্য আমদানি করা কাঁচামাল এবং উৎপাদিত পণ্যের মান বুয়েট, কুয়েট, চুয়েট ও এমআইএসটি দ্বারা পরীক্ষা করা হয়। দেশে অন্তত ৫ লাখ কিলোমিটার ফাইবার অপটিক নেটওয়ার্ক প্রয়োজন হলেও বর্তমানে রয়েছে মাত্র দেড় লাখ কিলোমিটার, যার ৭৫ শতাংশই ওভারহেড। দুর্যোগঝুঁকি কমাতে ধীরে ধীরে ভূগর্ভস্থ নেটওয়ার্কে রূপান্তর এবং সরকারি-বেসরকারি পুরোনো কেব্‌ল অবকাঠামো একীভূত করার সুযোগ রয়েছে। এতে ফাইবার অপটিক কেব্‌ল শিল্পে বড় সম্ভাবনা তৈরি হবে।

বিনা খরচে কারিনা কায়সারের মরদেহ দেশে আনছে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস

ডিসিসিআইয়ের ত্রৈমাসিক মূল্যায়ন: মন্থর হচ্ছে অর্থনীতির চাকা

ঢাকায় নতুন প্ল্যাটফর্মের যাত্রা: পুনর্ব্যবহারভিত্তিক নতুন অর্থনীতির পথে এশিয়া

ভারতে ৩ কোটি ব্যারেল তেল রাখবে আরব আমিরাত, অবকাঠামোতে বিনিয়োগ করবে ৫ বিলিয়ন ডলার

সোনার দামে বড় পতন, কমল ৪৩৭৪ টাকা

ট্রাম্পের সফরে ২০০ উড়োজাহাজ কেনার প্রতিশ্রুতি চীনের, তবু কেন বোয়িংয়ের শেয়ারে দরপতন

সোনার দাম কমল ২২১৫ টাকা

২০২৬-২৭ অর্থবছর: বাজেটে প্রতিশ্রুতির চাপ

বিটুমিন সরবরাহে হয়রানি, সরানো হলো যমুনার মহাব্যবস্থাপককে

আইডিএলসির ১৫ শতাংশ নগদ ও ৫ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ ঘোষণা