বিএনপি সরকার যতবার দেশে সরকার পরিচালনা করেছে, কখনোই ব্যাংক, আর্থিক খাতসহ পুঁজিবাজারে কোনো সংকট সৃষ্টি হয়নি বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।
অর্থমন্ত্রী বাজেট বক্তৃতায় বলেন, লুটপাট, অব্যবস্থাপনা, স্ক্যাম ও ভুল নীতি গ্রহণের মাধ্যমে পুঁজিবাজারকে সম্পূর্ণ ধ্বংস এবং এর ওপর বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুরোপুরি নষ্ট করা হয়েছে। বিএনপি সরকার যতবার এ দেশে সরকার পরিচালনা করেছে, কখনোই ব্যাংক, আর্থিক খাতসহ পুঁজিবাজারে কোনো সংকট সৃষ্টি হয়নি।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ২০২৪ সালের জানুয়ারি শেষে মোট বাজার মূলধন ছিল ৭ লাখ ৫১ হাজার ৭৩৪ কোটি টাকা; ২০২৬ সালের এপ্রিল শেষে তা কমে ৬ লাখ ৮৫ হাজার ১১৯ কোটিতে নেমে এসেছে। একই সময়ে ডিএসইর প্রধান সূচক ৬১৫৩ থেকে কমে ৫২৮৭-এ দাঁড়িয়েছে। এই প্রবণতা থেকে বোঝা যায়, পুঁজিবাজারে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি, গভীরতা এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের উপযোগী কাঠামো এখনো যথেষ্ট শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড়াতে পারেনি।
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, সরকার দেশের অর্থনীতির পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে একটি আধুনিক, শক্তিশালী ও টেকসই আর্থিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে ব্যাংক ও পুঁজিবাজার খাতে কাঠামোগত সংস্কার বাস্তবায়ন করবে। দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ অর্থায়নের জন্য বন্ড মার্কেট এবং বিকল্প অর্থায়ন ব্যবস্থার উন্নয়ন করা হবে, যাতে ব্যাংকনির্ভর অর্থায়নের ওপর চাপ কমে। পুঁজিবাজারকে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের কার্যকর প্ল্যাটফর্মে রূপান্তরের জন্য নিয়ন্ত্রক কাঠামো শক্তিশালী করা হবে এবং বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা জোরদার করা হবে। এই উদ্দেশ্যে শেয়ারবাজারের পাশাপাশি করপোরেট বন্ড মার্কেট, মিউচুয়াল ফান্ড, গ্রিন বন্ড, সুকুক এবং অন্যান্য দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ উপকরণের উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
মন্ত্রী বলেন, যোগ্য কোম্পানিকে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হতে উৎসাহিত করতে তালিকাভুক্তির ধাপসমূহ পর্যালোচনা ও সরলীকরণ করা হবে। প্রতিবেদন ও তথ্য প্রকাশের শর্তাবলি সংশোধনপূর্বক আরও সহজ, সুস্পষ্ট এবং বাস্তবসম্মত করা হবে, যাতে ভালো কোম্পানি পুঁজিবাজারে আসতে উৎসাহিত হয়। দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের বিকল্প উৎস গড়ে তুলতে করপোরেট বন্ড মার্কেট সম্প্রসারণ, স্থানীয় সরকার ও নগর অবকাঠামো উন্নয়নে পৌর বন্ড ইস্যুর কাঠামো প্রণয়ন করা হবে।
অর্থমন্ত্রী বাজেট বক্তৃতার ২৭ পৃষ্ঠায় বলেন, ‘বিশ্বব্যাপী পুঁজি গঠনের প্ল্যাটফর্ম হিসেবে পুঁজিবাজার প্রধান ভূমিকা পালন করে এলেও আমাদের দেশে এই ধারা অনুপস্থিত। এ ক্ষেত্রে উদ্যোক্তারা ব্যাংকের ওপরই ভরসা করে এসেছে। যে পুঁজিবাজার শিল্পায়নের মূলধন গঠনে ভূমিকা রেখে দেশকে অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথা, আস্থাহীনতার কারণে সেখানে হয়েছে উল্টোটা। আমরা ঋণনির্ভর বিনিয়োগকে ইক্যুইটিতে রূপান্তর করতে চাই।’
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য বর্তমান ঋণভিত্তিক অর্থনীতি থেকে দূরে সরে এসে বিনিয়োগভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে তোলা। এই লক্ষ্যে পুঁজিবাজারকে শক্তিশালী করতে এবং এর প্রতি জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে আমরা কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করব।’