ঠাকুরগাঁওয়ে পৃথক দুটি ঘটনায় এক অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য ও এক অটোরিকশাচালকের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে একজনের লাশ পুকুর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে এবং অপরজন অটোরিকশার ব্যাটারি চার্জ দিতে গিয়ে বিদ্যুতায়িত হয়ে মারা গেছেন।
বুধবার রাতে ও বৃহস্পতিবার সকালে ঠাকুরগাঁওয়ের রুহিয়া ও ভূল্লী থানা এলাকায় এসব ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ স্বজন ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় মরদেহ দুটি উদ্ধার করে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভূল্লী থানার বালিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম বগুলা ডাঙ্গী গ্রামের বাসিন্দা অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য আব্দুল কুদ্দুস (৭৬) ২০০৯ সালে স্ট্রোক করার পর থেকে শারীরিক প্রতিবন্ধকতায় ভুগছিলেন।
বৃহস্পতিবার ভোরে ফজরের নামাজ শেষে প্রতিদিনের মতো লাঠিতে ভর দিয়ে বাড়ির পাশে হাঁটতে বের হন তিনি। দীর্ঘ সময় পার হলেও বাড়িতে ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা তাকে খুঁজতে শুরু করেন। পরে সকাল ৮টার দিকে বাড়ির পশ্চিম পাশে নিজ পুকুরে তার লাশ ভাসতে দেখেন স্বজনেরা।
পরিবারের ধারণা, হাঁটার সময় শারীরিক অসুস্থতার কারণে পা পিছলে পুকুরে পড়ে গিয়ে পানিতে ডুবে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে সাজেদুর রহমান বাদী হয়ে ভূল্লী থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা করেছেন।
অন্যদিকে, রুহিয়া থানার সেনুয়া ইউনিয়নের মোলানখুড়ি গ্রামে অটোরিকশার ব্যাটারি চার্জ দিতে গিয়ে বিদ্যুতায়িত হয়ে ইন্তাজুল হক (৪০) নামে এক চালকের মৃত্যু হয়েছে।
জানা গেছে, বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে অটোরিকশা চালিয়ে বাড়ি ফেরেন ইন্তাজুল। পরে নিজ ঘরে গাড়ির ব্যাটারি চার্জ দিতে গেলে বিদ্যুতায়িত হন তিনি। কিছুক্ষণ পর পরিবারের সদস্যরা তাঁকে ঘরের মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখেন।
চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে বিদ্যুৎ অফিসে ফোন দিয়ে লাইন বন্ধ করান। পরে ঘরের ভেতর থেকে তাঁকে উদ্ধার করা হলেও ততক্ষণে তাঁর মৃত্যু হয়।
ঘটনা দুটির সত্যতা নিশ্চিত করে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, উভয় ঘটনায় নিজ নিজ থানায় পৃথক দুটি অপমৃত্যুর মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে। পরিবারের কোনো অভিযোগ না থাকায় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।