হোম > সারা দেশ > হবিগঞ্জ

২ একরজুড়ে বটগাছ, ক্ষমা চেয়ে করা হয় পূজা

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি

কেউ বলেন শতবর্ষী, আবার কেউ বলেন ৩০০ বছরের পুরোনো। বয়স যতই হোক না কেন, সুরমা চা বাগানের প্রকাণ্ড বটগাছ দেখে মুগ্ধ হননি এমন সংখ্যা কম। হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার সুরমা চা বাগানের ১০ নম্বর সেকশনে পুরোনো এ বটগাছ প্রায় পৌনে দুই একর জায়গা জুড়ে বিস্তৃত। 

সরেজমিনে দেখা যায়, উঁচু নিচু টিলার বুক জুড়ে সারি সারি সবুজ চা গাছ। এর মধ্যে বাগানের নাচঘরের পাশে বিশালাকৃতির এ বটগাছের ডালপালাগুলো সৃষ্টি করেছে এক অন্যরকম সৌন্দর্য। এক থেকে দুইশ হাত লম্বা, প্রায় অর্ধশত ডালপালা ছাতার মত মেলে রয়েছে। গাছের অন্তত প্রকাণ্ড ২০ টি ডাল যাতে মাটিতে শুয়ে না পড়ে এ জন্য প্রায় ৫ ফুট উঁচুতে গাছের গুঁড়ি দিয়ে ঠেস দিয়ে রাখা হয়েছে। এর পাশেই নির্মাণ করা হচ্ছে দুর্গামন্দির।

 স্থানীয়রা বলছে, প্রাচীন এই বটগাছ ভ্রমণ পিপাসুদের আগ্রহের স্থানে পরিণত হয়েছে। যারা এখানে আসেন তারাই মুগ্ধ হন। নানা প্রজাতির পাখির অভয়ারণ্য এ বটগাছ। প্রায়শই পাখির কলকাকলিতে ভরে ওঠে। চা বাগানে ভ্রমণের পাশাপাশি প্রতিবছর দেশ বিদেশের বহু মানুষ এই বটগাছটি দেখতে আসেন। তারা গাছের ছবি ও ভিডিও করে নিয়ে যান। বাগানের পঞ্চায়েত কমিটি মন্দির ও বটগাছের দেখভাল করেন। তবে গাছটি কবে জন্মেছে এ বিষয়ে বাগানে বসবাসরত তরুণ বৃদ্ধ কেউই সঠিক তথ্য জানেন না। 

এ বিষয়ে ধারণা করে একজন চা শ্রমিকের ছেলে রনজন সবর (৩৫) বলেন, ‘বটগাছটির বয়স কমপক্ষে ৩০০ বছর হবে।’ 

চা বাগানের প্রবীণ চা শ্রমিক অধীর সবর (৭৫) ও শিবু গোয়ালা (৭০) নামে দুজনের সঙ্গে কথা হয় এ প্রতিবেদকের। তাঁরা জানান, তাদের পূর্ব পুরুষদের মুখে শুনেছেন ১২৫ বছর আগে অর্থাৎ ১৮৯৬ সালে ভারতের আসাম থেকে আসা মকর তন্তবায় নামে বৃক্ষপ্রেমী চা শ্রমিক রেজি প্রজাতির একটি বটগাছ রোপণ করেছিলেন। পরবর্তীতে ওই গাছটির পাশেই প্রাকৃতিকভাবে বেড়ে উঠে আরেকটি বট গাছ। কালের পরিক্রমায় ওই বট গাছটি রোপণ করা বটগাছটিকে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে এ বিশালাকার ধারণ করেছে। 

এ বিষয়ে জানতে সুরমা চা বাগান প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিশ্বজিৎ মুন্ডার সঙ্গে কথা হয়। তিনি জানান, এই গাছটিকে ঘিরে প্রথমে পঞ্চতত্ব পূজা হতো। স্বাধীনতার আগ থেকেই মাঘের শেষে দিকে নারায়ণ পূজা ও ফাল্গুন মাসে শিবচতুর্দশী পূজা হয় গাছটির তলায়। এ সব পূজায় জগদীশপুর, নয়াপাড়া বৈকন্টপুর, দেউন্দি, লস্করপুর, চাকলা, সাতছড়িসহ জেলার বিভিন্ন চা বাগানের ১০–১২ হাজার সনাতন হিন্দু ধর্মাবলম্বী চা শ্রমিকেরা অংশ নেন। 

তিনি আরও জানান, প্রায় দুই যুগ আগে নারায়ণ মন্দির তৈরির সময় বটগাছের কিছু ডাল কাটা পড়ে। এ জন্য পূজা অর্চনা করে বটগাছের কাছে ক্ষমা চাওয়া হয়। মন্দির ও বটগাছের নিরাপত্তা জন্য চারদিকে দেয়াল করা হয়েছে। দেয়ালের ভেতরে এই গাছের ডাল–পাতা জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হয় না। ঝরে যাওয়া পাতা মন্দিরের পাশে এক জায়গায় স্তূপ করে রাখা হয়। সেখানেই এগুলো পচে গিয়ে মাটির সঙ্গে মিশে যায়।  

সিলেটে পেট্রলপাম্পের ধর্মঘট প্রত্যাহার

সিলেট বিভাগের সব সিএনজি ও পেট্রলপাম্পে ধর্মঘট চলছে

বিমার টাকায় ঋণমুক্ত অসহায় দুই পরিবার

৩০ এপ্রিল সিলেটে আসছেন প্রধানমন্ত্রী

সিলেটে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৩ রোগী হাসপাতালে ভর্তি

সিলেটে হামের লক্ষণ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি ২০ রোগী, ২ শিশুর অবস্থা আশঙ্কাজনক

গোয়াইনঘাটে অবৈধ ইটভাটা স্থাপনের চেষ্টার প্রতিবাদে মানববন্ধন

সিলেটে হামের সংক্রমণ বেড়েছে, আইসোলেশন সেন্টার চালু

গোয়াইনঘাটে উপসহকারী ভূমি কর্মকর্তাকে অপসারণের দাবি

ললী ছড়ার অবৈধ স্থাপনা অপসারণের দাবিতে সোচ্চার এলাকাবাসী