ইরান–ইসরায়েল চলমান সংঘাতে নিহত দুবাইপ্রবাসী আহম্মেদ আলীর মরদেহ দেশে পৌঁছেছে। তাঁকে বহনকারী বিমান সোমবার (৯ মার্চ) দুপুরে সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করলে মরদেহ গ্রহণ করেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।
মরদেহ গ্রহণ শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে মন্ত্রী জানান, চলমান যুদ্ধে এ পর্যন্ত চারজন বাংলাদেশি প্রবাসী নিহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে আহম্মেদ আলীর মরদেহ দেশে পৌঁছেছে। বাকি তিনজন প্রবাসীর মরদেহও বিদেশে প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন শেষে দেশে আনা হবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পরপরই প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে একটি ক্রাইসিস টিম গঠন করা হয়েছে। এই টিমের মাধ্যমে যুদ্ধের কারণে যারা ঘর থেকে বের হতে পারছেন না তাদের খাদ্য সহায়তা এবং আহতদের চিকিৎসাসহ প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটির আশপাশে অবস্থানরত প্রবাসীদের নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট দেশের বাংলাদেশ দূতাবাসগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান।
যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে প্রবাসীদের ধৈর্য ধারণের আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, প্রবাসীদের সংকট মোকাবিলায় সরকারের পূর্ণ প্রস্তুতি রয়েছে। যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে পরিস্থিতি বিবেচনায় সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। প্রবাসীদের জন্য যা যা করা প্রয়োজন সরকার তা করবে। এ সময় তিনি জানান, লেবাননেও আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও)-এর মাধ্যমে বাংলাদেশি প্রবাসীদের বিভিন্ন ধরনের সহযোগিতা প্রদান করা হচ্ছে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে নিহত আহম্মেদ আলীর স্বজন কামাল আহমেদ প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, তাঁর ভাই প্রায় ২৭ বছর ধরে প্রবাসে ছিলেন। যুদ্ধের ঘটনায় মৃত্যুর পর মরদেহ দেশে আনা পর্যন্ত সরকার যে সহযোগিতা করেছে, তার জন্য পরিবার কৃতজ্ঞ। তিনি বলেন, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রীও শুরু থেকেই পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে মরদেহ দেশে আনার ক্ষেত্রে সহযোগিতা করেছেন।
লাশ গ্রহণের সময় বিমানবন্দরে নিহত প্রবাসীর সন্তান আব্দুল হক, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. নেয়ামত উল্ল্যা ভূঁইয়া, ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের মহাপরিচালক ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়া, সিলেট বিভাগীয় কমিশনার খান মো. রেজা-উন-নবী, রেঞ্জ ডিআইজি মো. মুশফেকুর রহমান, এসএমপি কমিশনার আব্দুল কুদ্দুছ চৌধুরী এবং জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম উপস্থিত ছিলেন।
পরে মন্ত্রী আহম্মেদ আলীর মরদেহ নিয়ে মৌলভীবাজারের বড়লেখায় তাঁর গ্রামের বাড়িতে যান।
আরও পড়ুন: