সুনামগঞ্জে টানা ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় জেলার নদ-নদীর পানি বাড়ছে। ভারতের মেঘালয়ে ভারী বর্ষণের ফলে পাহাড়ি ঢল নেমে আসায় জেলার নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় চলতি মৌসুমের সর্বোচ্চ ২৬৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র এ তথ্য জানায়।
পাউবোর দুপুর ১২টার তথ্য অনুযায়ী, গত তিন ঘণ্টায় সুনামগঞ্জ পয়েন্টে সুরমা নদীর পানি ৪ সেন্টিমিটার বেড়ে ৭ দশমিক ২৪ মিটার, ছাতক পয়েন্টে ৬ সেন্টিমিটার বেড়ে ৮ দশমিক ২৩ মিটার এবং যাদুকাটা নদীর শক্তিয়ারখলা পয়েন্টে ৮ সেন্টিমিটার বেড়ে ৭ দশমিক ৭৮ মিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানায়, বুধবার সকাল থেকে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত সুনামগঞ্জে ২৬৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা চলতি মৌসুমের সর্বোচ্চ। ভারতের মেঘালয় ও সুনামগঞ্জের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ভারী বর্ষণের কারণে নদ-নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। আগামী দুই দিন সিলেট বিভাগের উত্তর-পূর্বাঞ্চলসহ ভারতের মেঘালয়, ত্রিপুরা, আসাম ও পশ্চিমবঙ্গে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।
সংস্থাটি আরও জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় উত্তর-পূর্বাঞ্চলের যাদুকাটা, সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। আগামী তিন দিনে এসব নদীর পানি আরও দ্রুত বাড়তে পারে। ফলে সুনামগঞ্জের নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী পার্থ প্রতীম বড়ুয়া বলেন, আগামী দুই থেকে তিন দিন উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও ভারতের উজানে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এর প্রভাবে সুনামগঞ্জের নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে। তাই ওই এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।