তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ): একদিকে গ্রীষ্মকাল অন্যদিকে দাবদাহ শুরু হওয়ায় চলনবিল অঞ্চলে পানির স্তর নিচে নেমে গেছে। এতে নলকূপ দিতে পানি উঠছে না। ফলে গ্রামের শত শত পরিবার পানির সংকটে পড়েছেন।
এদিকে বিশুদ্ধ খাওয়ার পানির সংকট মোকাবেলায় অনেকেই বাড়ির নলকূপ উঠিয়ে অপেক্ষাকৃত নিচু জায়গায় স্থানান্তর করছেন। এছাড়াও পানির অভাব মেটাতে নারীরা বাড়ির নিকটবর্তী বোরো স্কিমের অগভীর নলকূপে (শ্যালা মেশিন) সকাল–বিকাল ভিড় করছেন।
বাংলাদেশের বৃহত্তম চলনবিল অঞ্চলের সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর, উল্লাপাড়া, তাড়াশ, রায়গঞ্জ ,পাবনার ভাঙ্গুড়া, চাটমোহর, ফরিদপুর, নাটোরের গুরুদাসপুর, সিংড়া ও নওগাঁর আত্রাই এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে বিরূপ পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। অপরদিকে চলনবিলে খননকৃত খাল শুকিয়ে যাওয়ায় বোরো ধানে পানি দিতে পারছে না কৃষক।
নাটোর জেলার সিংড়া উপজেলার বেড়াবাড়ি গ্রামের জালাল খন্দকার বলেন, আমাদের গ্রামের বেশিরভাগ নলকূপে প্রয়োজনীয় খাওয়ার পানি মিলছে না। পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় নলকূপগুলোতে পানি ওঠে না।
তাড়াশ উপজেলার ওয়াশিন গ্রামের আরেক বাসিন্দা জাহানারা জানান, প্রায় একমাস ধরে আমার বাড়ির নলকূপে পানি উঠছে না। তাই ওই নলকূপ উঠিয়ে অপেক্ষাকৃত নিচু জায়গায় স্থানান্তর করা হয়। কিন্তু এতেও কোনো কাজ হচ্ছে না। এজন্য বাধ্য হয়ে পানি সংগ্রহের জন্য বোরো স্কিমের শ্যালো মেশিনে যেতে হচ্ছে।
রায়গঞ্জ উপজেলার সাহেবগঞ্জ গ্রামের কৃষক হেকমত আলী বলেন, শুধু খাওয়ার পানি নয় গৃহস্থালী কাজের জন্যও বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে। এলাকায় প্রচুর পুকুর থাকলেও বেশিরভাগ পুকুরে মাছ চাষের জন্য মুরগীর বিষ্ঠা ব্যবহার করা হয়। ফলে ওইসব পুকুরে গোসল করা, থালা বাসন মাজা, কাপড় ধোয়া যাচ্ছে না।
তাড়াশ উপজেলা জনস্বাস্থ্য বিভাগের প্রকৌশলী মেহেদী হাসানের সাথে এ বিষয়ে কথা হলে তিনি বলেন, চলনবিল একটি বৃহৎ এলাকা । এখানকার একেক জায়গার পানির স্তর একেক রকম। তাই চলনবিল অঞ্চলে গ্রীষ্মকালে পানির স্তর নিচে নেমে যায়। যার জন্য নলকূপগুলোতে পর্যাপ্ত পানি ওঠে না এবং বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দেয়। তবে এ অবস্থা সাময়িক। বর্ষা এলেই আবার ঠিক হয়ে যাবে।