হোম > সারা দেশ > সিরাজগঞ্জ

সিরাজগঞ্জের জাতীয় জুট মিল: অচল কারখানার পেছনে মাসে ব্যয় ৭০ লাখ টাকা

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি  

সিরাজগঞ্জের জাতীয় জুট মিলের কার্যক্রম বন্ধ। এর পর থেকে অবহেলায় পড়ে আছে যন্ত্রপাতি। অধিকাংশেই এখন মরিচা ধরেছে। গত বুধবার সিরাজগঞ্জ জেলা শহরের রায়পুরে। ছবি: আজকের পত্রিকা

কয়েক বছর আগেই থেমে গেছে সিরাজগঞ্জের জাতীয় জুট মিল লিমিটেডের মেশিনগুলো। একসময় হাজারো শ্রমিক কাজ করলেও এখন সেখানে রয়েছে শুধু মরিচা ধরা যন্ত্রপাতি। তবে থামেনি খরচ। এই অচল কারখানার কর্মকর্তা-শ্রমিকদের বেতন ও রক্ষণাবেক্ষণে প্রতি মাসে সরকারের ব্যয় হচ্ছে প্রায় ৬৫ থেকে ৭০ লাখ টাকা।

সিরাজগঞ্জ জেলা শহরের রায়পুরে প্রায় ৭৫ একর জায়গাজুড়ে গড়ে ওঠা জাতীয় জুট মিল একসময় জেলার অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি ছিল। হাজারো মানুষের কর্মসংস্থান, স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য এবং পাটশিল্পের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল প্রতিষ্ঠানটি। কিন্তু দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি, প্রশাসনিক জটিলতা ও রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগে মিলটি বারবার বন্ধ হয়েছে। সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিশাল উৎপাদন ভবনগুলো ধীরে ধীরে জরাজীর্ণ হয়ে পড়ছে। কোথাও ছাদের প্লাস্টার খসে পড়ছে, কোথাও ধুলায় ঢেকে আছে মেশিন। একসময় যে যন্ত্রগুলো নিরবচ্ছিন্নভাবে চলত, সেগুলোর অধিকাংশেই এখন মরিচা ধরেছে। কোটি কোটি টাকার যন্ত্রাংশ বছরের পর বছর অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে রয়েছে।

কারখানা সূত্রে জানা গেছে, এসব সম্পদ রক্ষায় এখনো কর্মরত আছেন ১৮৯ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী। তাঁদের বেতন, বিদ্যুৎ বিল ও অন্যান্য ব্যয় মিলিয়ে মাসে সরকারের খরচ হচ্ছে প্রায় ৬৫ থেকে ৭০ লাখ টাকা।

১৯৬০ সালে প্রতিষ্ঠিত এই জুট মিল পরে জাতীয়করণ হয়ে ‘জাতীয় জুট মিল’ নামে পরিচালিত হতে থাকে। দীর্ঘ সময় লাভজনকভাবে চললেও লোকসানের কারণ দেখিয়ে ২০০৭ সালে উৎপাদন বন্ধ করে দেওয়া হয়।

শ্রমিকদের আন্দোলনের মুখে ২০১১ সালে মিলটি আবার চালু হয়। কিন্তু সেই স্বস্তিও দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। ২০২০ সালের ১ জুন আবারও উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। এরপর ২০২২ সালের আগস্টে কুষ্টিয়ার রশিদ গ্রুপ লিজ নিয়ে উৎপাদন শুরু করলেও দুই বছরের মাথায় অর্থাৎ ২০২৪ সালের আগস্টে শ্রমিকদের বেতন-ভাতা ও বোনাস বকেয়া রেখেই কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়। এরপর থেকে মিলটি অচল।

মিল বন্ধ হওয়ার সবচেয়ে বড় ধাক্কা লেগেছে শ্রমিকদের জীবনে। যাঁদের সংসার চলত এই প্রতিষ্ঠানের আয়ে, তাঁরা এখন নানা পেশায় ছড়িয়ে পড়েছেন। একসময় প্রতিষ্ঠানটিতে কাজ করা রতন আলী নামের এক শ্রমিক বলেন, মিল চালু থাকলে সপ্তাহে চার থেকে পাঁচ হাজার টাকা আয় হতো। সংসার ভালোই চলত। মিল বন্ধ হওয়ার পর বাধ্য হয়ে ঘটকালি করছি। পাশাপাশি সামান্য জমিতে কৃষিকাজ করে কোনোমতে সংসার চালাচ্ছি।

বেলাল হোসেন নামের আরেক শ্রমিক বলেন, এই মিলই ছিল পরিবারের প্রধান আয়ের উৎস। এখন বিভিন্ন কাজ করে কোনো রকমে সংসার চলছে। মিল আবার চালু হলে আমাদের মতো পুরোনো শ্রমিকদের কাজে নেওয়া হোক এটাই সরকারের কাছে দাবি।

সিরাজগঞ্জ স্বার্থরক্ষা সংগ্রাম কমিটির সদস্য নবকুমার কর্মকার বলেন, জাতীয় জুট মিল চালুর দাবিতে আমরা বহুবার আন্দোলন করেছি। দলীয়করণ, দুর্নীতি ও লুটপাটের কারণেই সম্ভাবনাময় এই শিল্পপ্রতিষ্ঠান বারবার ধ্বংসের মুখে পড়েছে। এতে হাজারো মানুষ কর্মহীন হয়েছেন।

জাতীয় জুট মিলের মহাব্যবস্থাপক সাজ্জাদ হোসেন বলেন, বাংলাদেশ জুট মিলস করপোরেশনের (বিজেএমসি) অধীন পরিচালিত এই মিলটি নতুন করে লিজ দেওয়ার উদ্যোগ চলছে। তিনি আরও বলেন, ‘মিলটি বন্ধ থাকলেও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ১৮৯ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মরত আছেন। তাঁদের বেতন, বিদ্যুৎ বিলসহ প্রতি মাসে প্রায় ৬৫ থেকে ৭০ লাখ টাকা ব্যয় হচ্ছে। নতুন কোনো প্রতিষ্ঠান লিজ নিলেই উৎপাদন আবার শুরু করা সম্ভব হবে বলে আমরা আশা করছি।’

সিরাজগঞ্জে উৎসবমুখর পরিবেশে রথযাত্রা

১০ সন্তানের বাবা-মা, তবু দুবেলা খাবারের জন্য অন্যের দ্বারে

রায়গঞ্জে খালে গোসল করতে নেমে কিশোরের মৃত্যু

সিরাজগঞ্জ কারাগারে অসুস্থ হয়ে যুবলীগের সাবেক নেতার মৃত্যু

মরিচা ধরা মেশিন পাহারায় মাসে ব্যয় প্রায় ৭০ লাখ টাকা

বৃষ্টি নামলেই বাড়ির উঠানে হাঁটুপানি, দুর্ভোগে সিরাজগঞ্জ পৌরবাসী

সিরাজগঞ্জে খেজুরের রস বিক্রেতা হত্যা: ১৯ বছর পর বাবা-মা ও মেয়েসহ ৫ জনের যাবজ্জীবন

ফেসবুকে একটি পোস্ট, সংগৃহীত অর্থে এতিম জান্নাতির জাঁকজমকপূর্ণ বিয়ে

কানে হেডফোন লাগিয়ে ফুটবল ম্যাচ দেখছিলেন যুবক, ট্রেনে কাটা পড়ে মৃত্যু

বেলকুচিতে সুতার রোল তৈরির মোটরে ওড়না পেঁচিয়ে নারী শ্রমিকের মৃত্যু