নিখোঁজের পাঁচ দিন পর সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে করতোয়া নদী থেকে শরিফুল ইসলাম (৩০) নামের এক যুবকের হাত-পা বাঁধা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহত শরিফুলের মা-বাবা, স্ত্রীসহ চারজনকে থানায় আনা হয়েছে।
আজ শনিবার দুপুরে করতোয়া নদী থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত শরিফুল ইসলাম শাহজাদপুর উপজেলার আগনুকালী গ্রামের মৃত আবু সামার ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ৯ জানুয়ারি রাতে শরিফুল ইসলাম শ্বশুরবাড়ি শাহজাদপুর উপজেলার চর বেতকান্দি গ্রামে যান। ওই দিন শরিফুলের সঙ্গে স্ত্রী ফারজানা খাতুনের বাগ্বিতণ্ডা হয়। এর পর থেকেই শরিফুল নিখোঁজ হন। এ ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়। গত বৃহস্পতিবার সকালে করতোয়া নদী পাড়ে শরিফুলের রক্তমাখা জামা-কাপড় পান এলাকাবাসী। এরপর আজ শনিবার সকালে করতোয়া নদীতে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় শরিফুলের মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেন এলাকাবাসী। পরে শাহজাদপুর থানা-পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।
নিহত শরিফুলের মা সূর্য বানু বলেন, ‘দেড় মাস আগে শরিফুলের সঙ্গে ফারজানার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই ফারজানা শরিফুলকে পছন্দ করত না। শরিফুল তার স্ত্রী ফারজানাকে প্রচণ্ড ভালোবাসলেও সে শরিফুলকে সহ্য করতে পারত না। একপর্যায়ে ফারজানা বাপের বাড়ি চলে গেলে শরিফুল সেখানে স্ত্রীর কাছে যায়। সেখানে গিয়েই নিখোঁজ হয় শরিফুল।’
ঘটনাস্থলে থাকা শাহজাদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম মৃধা বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এটি একটি হত্যাকাণ্ড। ময়নাতদন্তের জন্য নিহতের মরদেহ সিরাজগঞ্জের বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহত শরিফুলের স্ত্রী, বাবা-মাসহ চারজনকে থানায় আনা হয়েছে।