সিরাজগঞ্জে ফুয়েল কার্ড চালুর পর তেল নেওয়ার ভোগান্তি কিছুটা কমেছে বলে জানান মোটরসাইকেলচালকেরা। আজ মঙ্গলবার সরেজমিনে শহরের মেসার্স পার্ক ফিলিং স্টেশন, মেসার্স মিরপুর ফিলিং স্টেশনসহ কয়েকটি পাম্প ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
পাম্পগুলোতে গিয়ে দেখা যায়, গত কয়েক দিনের তুলনায় মোটরসাইকেলের দীর্ঘ লাইনের সংখ্যা কমে এসেছে। চালকেরা ৫০-৬০ মিনিটের মধ্যেই তেল নিতে পারছেন। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, জেলায় ইতিমধ্যে প্রায় ২০ হাজার মোটরসাইকেলচালক ফুয়েল কার্ড সংগ্রহ করেছেন।
চালকেরা জানান, আগে তেল নিতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হতো। এখন ফুয়েল কার্ড চালুর ফলে তুলনামূলক দ্রুত তেল পাওয়া যাচ্ছে। একই সঙ্গে ফুয়েল কার্ড ও গাড়ির বৈধ কাগজপত্র থাকলেই তেল দেওয়া হচ্ছে, এটিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন তাঁরা।
সোহাগ নামের এক মোটরসাইকেলচালক বলেন, ফুয়েল কার্ড চালু হওয়ায় ভোগান্তি কিছুটা কমেছে। বৈধ কাগজপত্র থাকা গাড়ির মালিকেরা তেল পাচ্ছেন, এটি ভালো উদ্যোগ।
ব্যাংকার আব্দুল মান্নান বলেন, ‘ফুয়েল কার্ডে কিছুটা সুবিধা হয়েছে। তবে যাঁরা জরুরি পেশায় বা সেবামূলক কাজে যুক্ত, তাঁদের জন্য আলাদা লাইনের ব্যবস্থা করা গেলে ভালো হতো। আজ আমাকে প্রায় ৫০ মিনিট থেকে এক ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়েছে, এতে অফিসের কাজ ব্যাহত হয়েছে।’
আরেক চালক আলমগীর হোসেন বলেন, সংকট পুরোপুরি কাটেনি। এখনো লাইনে দাঁড়িয়ে তেল নিতে হয়। তবে ফুয়েল কার্ড চালু হওয়ায় দীর্ঘ লাইনের চাপ কিছুটা কমেছে। নিয়মগুলো ঠিকভাবে তদারকি করলে পরিস্থিতি আরও উন্নত হবে।
মেসার্স পার্ক ফিলিং স্টেশনের কর্তৃপক্ষ জানায়, মঙ্গলবার তাঁদের পাম্পে প্রায় সাড়ে চার হাজার লিটার ডিজেল ও সাড়ে চার হাজার লিটার অকটেন বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বৈধ কাগজপত্রধারীদের মধ্যেই তেল বিতরণ করা হচ্ছে।
এ ছাড়া জেলা প্রশাসনের ট্যাগ অফিসাররা তেল বিতরণ কার্যক্রম তদারকি করছেন। পাম্প কর্তৃপক্ষ ডিপো থেকে সরবরাহ পাওয়া তেল গ্রহণ করে বিতরণ করছে।
এদিকে মঙ্গলবার সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরের বাঘাবাড়ী ওয়েল ডিপো থেকে রাজশাহী, রংপুর ও ময়মনসিংহ বিভাগের ২০ জেলায় ২৫৩টি পাম্পে ডিজেল ১৯ লাখ ১৬ হাজার লিটার, পেট্রল ৪ লাখ লিটার এবং অকটেন ১ লাখ ৩৬ হাজার ৫০০ লিটার সরবরাহ করা হয়েছে বলে জানায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম বলেন, কাগজপত্র যাচাই-বাছাই শেষে ইতিমধ্যেই ২০ হাজারের বেশি মোটরসাইকেলচালকের ফুয়েল কার্ড দেওয়া হয়েছে। ফুয়েল কার্ডের জন্য শৃঙ্খলা এসেছে। পর্যায়ক্রমে যে সমস্যা রয়েছে, সেগুলোও কমানোর চেষ্টা চলছে।