চৌহালীতে তীব্র ভাঙন
যমুনার তীরঘেঁষা চৌহালী উপজেলার চর সলিমাবাদে বিকেলের আকাশ তখন মেঘলা। সামনে যমুনা নদী। একের পর এক ঢেউয়ের শব্দ। আর নদীর কাছেই মাটির চুলায় হাঁড়ি বসিয়ে রান্নায় ব্যস্ত ৬০ বছর বয়সী সাবিয়া বেগম। নদীর দিকে তাকাতেইা তাঁর চোখে পড়ে শুধু ভয়, স্মৃতি আর হারানোর গল্প।
পাঁচ মাস আগে স্বামীকে হারিয়েছেন তিনি। তারও আগে একে একে হারিয়ে গেছে তিন সন্তান। যে ঘরটি ছিল একসময় নিরাপদ আশ্রয়, সেই ভিটেমাটিও কয়েক বছর আগে গিলে খেযেছে যমুনা।
এখন সাবিয়া বেগমের ঠিকানা চর সলিমাবাদে গ্রামের অন্যের ভাড়া বাড়িতে। বছরে ৭ হাজার টাকার বিনিময়ে সেই আশ্রয়ে কোনোভাবে টিকে আছেন তিনি। আর বাকি জীবন? সেটি যেন শুধু অপেক্ষা আর অনিশ্চয়তা।
জানতে চাইলে নদীর দিকে তাকিয়ে সাবিয়া বেগম বলেন, ‘কী আর বলব বাবা...আমাদের গ্রাম, বাড়িঘর, জমিজমা—সব নদী গিলে খাচ্ছে। রাতে ঘুমাতে পারি না নদীভাঙনের চিন্তায়।’ তাঁর কণ্ঠে ক্ষোভ নয়, আছে এক গভীর অসহায়ত্ব। যে ঘর ছিল শেষ সম্বল, তা-ও আর নেই।
সাবিয়া বেগমের প্রতিবেশী সাইফুল মোল্লা অটোরিকশা চালিয়ে কোনোমতে সংসার চালাতেন। কিন্তু যমুনা তাঁর জীবনের শেষ আশ্রয়টুকুও কেড়ে নিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) চৌহালীর চর সলিমাবাদ এলাকায় তাঁর বসতভিটার অর্ধেকের বেশি এখন নদীতে বিলীন। যে ঘরটিকে তিনি জীবনের শেষ অবলম্বন ভেবেছিলেন, সেটিই এখন নদীর তলায়। এখন তিনি নিঃস্ব। পাশে দাঁড়ানোর মতো নেই কোনো জমি, নেই কোনো নিরাপদ আশ্রয়।
চর সলিমাবাদের আরেক নারী বিলকিসের চোখে একই ভয়। তিনি বলেন, ‘আমরা কিছুই চাই না। শুধু একটা স্থায়ী বেড়িবাঁধ চাই। আমরা কাজ করে খেতে পারি, কিন্তু নদীর ভাঙন থামাতে পারি না।’
বাঘুটিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য বাবুল সরকার বলেন, চর বিনানুই নদের পশ্চিম পাশে চার জায়গায় প্রায় ১০০ ফুট এলাকার জমি নদীতে বিলীন হয়েছে। তিনি বলেন, পার্শ্ববর্তী চর সলিমাবাদ গ্রামের মোল্লা সাইফুল ইসলামের বাড়িটি চোখের পলকেই যমুনায় চলে গেছে।
এ বিষয়ে কথা বলতে চৌহালীর ইউএনও মো. নুরুল আমিনের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করে সাড়া পাওয়া যায়নি। তবে সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেছুর রহমান বলেন, ‘আমি ভাঙনকবলিত এলাকায় এসেছি এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’