জাঁকজমক আয়োজনের মধ্য দিয়ে উদ্বোধন হলেও পাঁচ মাসেও চালু হয়নি শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার কেন্দ্রীয় পাবলিক লাইব্রেরি। ভবন নির্মাণ শেষ হলেও নেই বুকশেলফ, নেই বই—ফলে এটি কার্যত অচল অবস্থায় পড়ে আছে।
নালিতাবাড়ী পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের উন্নয়ন সহায়তা তহবিল থেকে ৯ লাখ ১৮ হাজার ৫০৫ টাকা ব্যয়ে লাইব্রেরিটি নির্মাণ করা হয়। গত বছরের ৪ ডিসেম্বর তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক ফারজানা আক্তার ববি তাঁর বদলির মুহূর্তে লাইব্রেরিটির উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনের সময় এটিকে তরুণদের জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হলেও বাস্তবে এখনো কোনো কার্যক্রম শুরু হয়নি।
সরেজমিন দেখা যায়, উপজেলা পরিষদ চত্বরে নির্মিত ভবনটির কাজ শেষ হলেও লাইব্রেরি হিসেবে প্রয়োজনীয় কোনো প্রস্তুতি নেই। বই রাখার বুকশেলফ স্থাপন করা হয়নি, নেই পাঠ্যপুস্তক, রেফারেন্স বই কিংবা দৈনিক পত্রিকা। কক্ষটি অধিকাংশ সময় তালাবদ্ধ থাকে। পাঠকদের বসার জন্য চেয়ার-টেবিলের ব্যবস্থাও নেই। ভবনের বারান্দায় ‘কেন্দ্রীয় পাবলিক লাইব্রেরি’ লেখা একটি সাইনবোর্ড ছাড়া কার্যক্রমের কোনো চিহ্ন দেখা যায়নি।
স্থানীয় শিক্ষার্থী আবু রাসেল বলেন, ‘লাইব্রেরি চালুর অপেক্ষায় ছিলাম। পড়াশোনার জন্য একটি শান্ত পরিবেশ দরকার। কিন্তু এখানে তো কোনো বই-ই নাই।’
জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক বিপ্লব দে কেটু বলেন, ‘দ্রুত বই সংগ্রহ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে লাইব্রেরিটি চালু করা উচিত, যাতে এটি কেবল নামেই নয়, বাস্তবেও শিক্ষার্থী ও বইপ্রেমীদের জন্য কার্যকর জ্ঞানকেন্দ্রে পরিণত হয়।’
সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) নালিতাবাড়ীর সভাপতি আব্দুল ফাত্তাহ বলেন, ‘একটি পাবলিক লাইব্রেরি শুধু ভবন নয়; বই, আলো, আসবাব ও পাঠকের উপস্থিতিতেই এর প্রাণ। প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ছাড়াই উদ্বোধন করায় সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি।’
নালিতাবাড়ী পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল ওয়াদুদ জানান, লাইব্রেরির জন্য এখনো বই ও বুকশেলফ কেনা হয়নি। কবে নাগাদ চালু হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই। নতুন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা যোগ দিলে এ বিষয়ে আলোচনা করা হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌরসভার দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশাসক মো. আল আমিন বলেন, নিয়মিত ইউএনও যোগ দিলে বিষয়টি তাঁকে অবহিত করা হবে, যাতে দ্রুত লাইব্রেরিটি চালু করা যায়।