শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে গতকাল রোববার দুপুরে একই গ্রামের তিন মাদ্রাসাশিক্ষার্থী নিখোঁজ হয়। মাদ্রাসা থেকে বের হওয়ার পর তারা আর বাড়িতে ফেরেনি।
নিখোঁজ শিক্ষার্থীদের স্বজনেরা জানান, সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তাঁদের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি ও পরিচয় প্রকাশ করে সন্ধান চাওয়া হচ্ছে।
এ নিয়ে নালিতাবাড়ী উপজেলায় গত ১২ দিনে পাঁচ মাদ্রাসাশিক্ষার্থী নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। নিখোঁজদের বয়স ১১ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে। এতে করে অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
নিখোঁজ শিক্ষার্থীরা হলো, উপজেলার বুরুঙ্গা কালাপানি গ্রামের আব্দুল হাইয়ের ছেলে ইসরাফিল (১৫), পাঁচগাঁও গ্রামের খন্দকার মোবারক হোসেনের ছেলে খন্দকার মাশরাফি (১৩), উকিল মিয়ার ছেলে রাব্বানী (১১), মানিক মিয়ার ছেলে তোফায়েল (১২) এবং আব্দুল আওয়ালের ছেলে রাসেল (১৩)।
পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত ২৭ মে সকাল ১০টার দিকে ইসরাফিল দোকানে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয়। সে স্থানীয় একটি হাফেজিয়া মাদ্রাসার শিক্ষার্থী। এরপর তার আর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
এরপর গত ৬ জুন নালিতাবাড়ী শহরের আড়াইআনী বাজার এলাকার তাহফিজুল কোরআন মডেল মাদ্রাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় খন্দকার মাশরাফি। পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি।
পরদিন ৭ জুন দুপুরে উপজেলার পাঁচগাঁও গ্রামের ইকরা মডেল হাফেজিয়া মাদ্রাসা থেকে বের হওয়ার পর একই গ্রামের তিন শিক্ষার্থী—রাব্বানী, তোফায়েল ও রাসেল নিখোঁজ হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, একসঙ্গে নিখোঁজ হওয়া তিন শিক্ষার্থীর মধ্যে রাব্বানী ও তোফায়েল এর আগেও বাড়ি থেকে পালিয়ে গিয়েছিল। পরে আত্মীয়স্বজনের বাড়ি থেকে তাদের উদ্ধার করা হয়। স্থানীয়দের ভাষ্য, তারা পড়াশোনায় অমনোযোগী।
অল্প সময়ের ব্যবধানে একাধিক মাদ্রাসাশিক্ষার্থী নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত শিক্ষার্থীদের উদ্ধার এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেছেন।
নালিতাবাড়ী সার্কেলের জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার আফসান আল আলম বলেন, “ইসরাফিল ও মাশরাফির পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। পাঁচগাঁও থেকে নিখোঁজ তিন শিক্ষার্থীর অভিভাবকেরাও জিডি করতে থানায় এসেছেন। নিখোঁজ শিশুদের উদ্ধারে পুলিশ প্রয়োজনীয় খোঁজখবর ও অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে।”
আফসান আল আলম আরও বলেন, “শিশুদের অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য জানা থাকলে দ্রুত নিকটস্থ থানায় অথবা সংশ্লিষ্ট পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানানো হচ্ছে।”