শরীয়তপুর সদর উপজেলায় নিখোঁজের ২৫ দিন পর একটি পুরোনো কবর থেকে মন্টু ব্যাপারী ওরফে মনু ব্যাপারী (৬৫) নামের এক বৃদ্ধের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) বিকেল ৫টার দিকে ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে সদর উপজেলার আংগারিয়া ইউনিয়নের চরচটাং গ্রামের মৃত সাহেব আলী মাদবরের পুরোনো কবর থেকে তাঁর মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত মনু ব্যাপারী একই ইউনিয়নের সিঙ্গারিয়া গ্রামের সোনাই ব্যাপারীর ছেলে।
পুলিশ ও নিহত মনু ব্যাপারীর পরিবার সূত্রে জানা গেছে, মনু ব্যাপারী চারটি বিয়ে করেন। এর মধ্যে তিনজন স্ত্রী মারা যান। শেষের স্ত্রী তাঁকে ডিভোর্স দেন। তৃতীয় স্ত্রীর ঘরে তাঁর একমাত্র মেয়ে মিম আক্তার স্বামীর সংসার নিয়ে ঢাকায় থাকেন।
মনু ব্যাপারী ঢাকার বেগমবাজারে তাঁর একমাত্র বোন মিনারা বেগমের বাসায় থাকতেন এবং প্লাস্টিক ও সিলভারের হাঁড়ি-পাতিল ফেরি করে বিক্রি করতেন। গত ঈদে মনু ব্যাপারী গ্রামে চলে আসেন এবং চরচটাং গ্রামে তাঁর মামাতো ভাই আমির মাদবরের টিনের বসতঘরের সঙ্গে একটি একচালা টিনের বারান্দা নির্মাণ করে বসবাস শুরু করেন। তিনি নিজেই রান্না করে খেতেন।
গত ২৭ মার্চ থেকে হঠাৎ করেই নিখোঁজ হয়ে যান মনু ব্যাপারী। বিষয়টি স্থানীয় বাসিন্দারাও খেয়াল করেন।
নিখোঁজের খবর পেয়ে বোন মিনারা বেগম ও মেয়ে মিম আক্তার ঢাকা থেকে গ্রামে আসেন এবং বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেন।
কোথাও না পেয়ে ৯ এপ্রিল পালং মডেল থানায় নিখোঁজের একটি সাধারণ ডায়েরি করেন বোন মিনারা বেগম।
গতকাল সোমবার সকালে চার বছর আগে মারা যাওয়া মনু ব্যাপারীর দূরসম্পর্কের মামাতো ভাই সাহেব আলী মাদবরের কবরে নতুন মাটি দেখে স্থানীয় বাসিন্দাদের সন্দেহ হয়।
এ ছাড়া সাহেব আলী মাদবরের ছেলে ফারুক মাদবরের পরিত্যক্ত ঘরের মধ্যে একটি রহস্যজনক গর্ত খুঁজে পান স্থানীয় বাসিন্দারা। এতে সন্দেহ হলে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পুরোনো কবরে মরদেহের সন্ধান পায়।
এদিকে ঘটনা জানাজানি হলে ফারুক মাদবর পরিবার নিয়ে পালিয়ে যান।
এরপর সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট ও পুলিশ সদস্যরা পুরোনো কবরটি ঘিরে রাখেন।
আজ মঙ্গলবার বিকেল ৫টার দিকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসান পলাশের উপস্থিতিতে ফারুক মাদবরের ঘরের পেছনে তাঁর বাবা সাহেব আলী মাদবরের পুরোনো কবর থেকে মনু ব্যাপারীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
ঘটনার পর থেকে নিহত মনুর মেয়ে মিম আক্তার ও বোন মিনারা বেগমকে আহাজারি করতে দেখা যায়। তাঁরা এই হত্যার বিচার দাবি করেন।
নড়িয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আশিক মাহমুদ বলেন, আদালতের নির্দেশনা অনুসরণ করে পুরোনো কবর খুঁড়ে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় শরীয়তপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসান পলাশ, থানা-পুলিশ ও সিআইডি টিম উপস্থিতি ছিল।
আশিক মাহমুদ আরও বলেন, এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহজনক কয়েকজনের নাম পাওয়া গেছে। তাঁরা বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছেন। দ্রুত সময়ের মধ্যে অপরাধীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হবে। এ বিষয়ে মামলার প্রস্তুতি চলছে।
শরীয়তপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসান পলাশ বলেন, ‘আদালতের নির্দেশে আজ বিকেল ৫টার দিকে পুরোনো কবর থেকে মরদেহ উদ্ধার করি। উদ্ধারের পর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।’