সাতক্ষীরার কলারোয়া পৌরসভার শ্রীপতিপুর গ্রামের সুরঞ্জন দাস ভ্যান চালিয়ে সংসার চালান। তিন ছেলে, এক মেয়ে ও স্ত্রীকে নিয়ে তাঁর অভাবের সংসার। বড় ছেলে শান্তি দাস বিয়ে করে অন্যত্র বসবাস করেন। মেয়ে সাধনা দাস কলারোয়া সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের নবম শ্রেণিতে পড়ে। ছোট ছেলে সুদীপ দাস পড়ে স্থানীয় প্রাইমারিতে। সংসারের বিশাল খরচ বহন করতে হিমশিম খাচ্ছিলেন সুরঞ্জন দাস। তাই ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য নিলেন কঠিন এক চ্যালেঞ্জ। মাত্র এক শতক জমির ওপর থাকা শেষ আশ্রয়স্থল ভিটেবাড়ি বিক্রি করে সঙ্গে আরও ৪ লাখ টাকা সমিতি ও স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে চড়া সুদে ঋণ নিয়ে মেজ ছেলে শুভকে পাঠান লেবাননে।
বাড়ি বিক্রির পর একই গ্রামে ১ হাজার টাকার ভাড়া বাসায় বসবাস করতে থাকে পরিবারটি। প্রতি মাসে শুভর পাঠানো ৩৫ হাজার টাকা দিয়ে ঋণ শোধের পাশাপাশি ছেলেমেয়েদের পড়াশোনা ও সংসারের খরচ চলে যেত। কিন্তু ভাগ্যের পরিহাস! গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে মোবাইলে আসে সেই ভয়ংকর সংবাদটি। জানানো হয়, সোমবার রাতে লেবাননের মাইফাদুন এলাকায় সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে চলাচলের সময় ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় মারা গেছেন শুভ। সেখানে মাইফাদুন এলাকায় একটি বাড়ি দেখাশোনা ও বাড়ি-সংলগ্ন বাগানে কাজ করতেন শুভ। সংবাদটি পাওয়ার পর থেকে সহায়সম্বল হারানো মা-বাবা শোকে পাথর হয়ে আছেন।
শুভর মা শিখা রানী দাস বলেন, ‘ভেবেছিলাম আরও কিছুদিন লেবাননে থাকার পর দেশে নিয়ে এসে শুভকে বিয়ে দেব। ভগবান বুঝি আমাদের সুখ সহ্য করতে পারলেন না। তাই এভাবে কেড়ে নিলেন আমার ছেলেটাকে!'
কলারোয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম বলেন, শুভর পরিবার যাতে দ্রুত লাশ ফিরে পেতে পারে, সে জন্য তাঁরা সার্বিক চেষ্টা চালাবেন। একই সঙ্গে সরকারি সব ধরনের সহায়তা পাওয়ার উদ্যোগও তাঁরা নেবেন।
প্রসঙ্গত, রবি ও সোমবার লেবাননে কর্মরত সাতক্ষীরা জেলার তিনজন রেমিট্যান্স যোদ্ধা ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় নিহত হলেন।
সাতক্ষীরার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বিষ্ণুপদ পাল জানান, শুভসহ তিনজনের মরদেহ লেবানন থেকে ফেরানোর চেষ্টা চলছে।