রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলায় পাঁচ দিন ধরে পেট্রল ও অকটেনের সংকটে চারটি তেলের পাম্পই বন্ধ রয়েছে। এতে পেট্রল ও অকটেনচালিত যানবাহনের চালকেরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। ঈদুল ফিতর পার হলেও সংকট না কাটায় ভুক্তভোগী ব্যক্তিদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। পাম্পগুলোতে জ্বালানি না থাকলেও উপজেলার বিভিন্ন বাজারে প্রতি লিটার পেট্রল ২০০ থেকে ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে অনিয়ম বা সিন্ডিকেটের আশঙ্কা করছেন ভুক্তভোগী ব্যক্তিরা।
পাম্পের মালিকেরা জানান, পাঁচ দিন পর ডিপো থেকে জ্বালানি সরবরাহ করা হলেও শুধু ডিজেল দেওয়া হয়েছে। পেট্রল ও অকটেন না থাকায় গ্রাহকদের চাপ ও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে পাম্পগুলো বন্ধ রাখতে হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার চারটি পাম্পেই পেট্রল ও অকটেন না থাকায় সামনে দড়ি টেনে বন্ধ করে রাখা হয়েছে। অনেক যানবাহনের চালক তেল নিতে এসে খালি হাতে ফিরে যাচ্ছেন।
গঙ্গাচড়া বাজারের শিহাব ফিলিং স্টেশনের সামনে কথা হয় আলমবিদিতর ইউনিয়নের বড়াইবাড়ি এলাকার বাসিন্দা আসাদুজ্জামানের সঙ্গে। তিনি আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘ঈদের ছুটিতে ঢাকা থেকে গ্রামে এসেছি। পরিবার নিয়ে ঘোরাঘুরি করার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু কোথাও পেট্রল পাচ্ছি না। এটা খুবই ভোগান্তির।’
লক্ষ্মীটারী ইউনিয়নের আনুর বাজার এলাকায় শাহ আলম ফিলিং স্টেশনের সামনে মোটরসাইকেল আরোহী আজিবর রহমান বলেন, ‘নাতনিকে আনতে মেয়ের বাড়ি যাব। তেল নিতে এসে দেখি পাম্প বন্ধ। ঈদের সময় এমন অবস্থা মেনে নেওয়া যায় না।’
আরেক চালক আব্দুল খালেক বলেন, ‘কয়েকটি পাম্প ঘুরেও তেল পাইনি। বাধ্য হয়ে বাজার থেকে ২৫০ টাকা লিটার দরে কিনেছি। পাম্পে তেল না থাকলে বাজারে আসে কোথা থেকে, এটাই প্রশ্ন।’
পাম্পের মালিকেরা বলেন, ডিপোতে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও পেট্রল ও অকটেন সরবরাহ মেলেনি। উপজেলা প্রশাসনকেও বিষয়টি জানানো হয়েছে। তাঁদের ভাষ্য, শুধু ডিজেল দিয়ে পাম্প চালু করলে মোটরসাইকেলচালকেরা এসে পেট্রল চাইবেন। তখন পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হবে। তাই বাধ্য হয়ে পাম্প বন্ধ রাখতে হচ্ছে।
এ বিষয়ে গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেসমিন আক্তার বলেন, ‘আমাদের পক্ষ থেকেও ডিপোর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। পাম্পগুলোতে পেট্রল-অকটেন সরবরাহ না পাওয়ার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানালে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতাম। খোলাবাজারে অবৈধভাবে পেট্রল বিক্রির তথ্য পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’