হোম > সারা দেশ > রংপুর

৫ দিনের ছুটি নিয়ে ৪ বছর উধাও চিকিৎসক

শিপুল ইসলাম, রংপুর

পাঁচ দিনের নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন দিয়ে প্রায় ৪ বছর ধরে অনুপস্থিত রয়েছেন রংপুরের এক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তার বাড়ির ঠিকানায় চিঠি পাঠালেও সেটি গ্রহণ না করায় ফেরত আসে বলে জানা গেছে। এমনকি হাসপাতালে দেওয়া মোবাইল নম্বরে কল দিলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। এ দিকে বছরের পর বছর ধরে সেবাবঞ্চিত হচ্ছেন ওই এলাকার সাধারণ জনগণ। 

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা বলছেন, ওই চিকিৎসক বিদেশে গেছেন বলে শুনেছেন তারা। তবে কোন দেশে গেছেন সেটি জানে না তিনি। 

ওই চিকিৎসক হলেন—রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সহকারী সার্জন আ ন ম কায়সার আনম। তাঁর বাড়ি পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার ভাউলাগঞ্জ সরকারপাড়া গ্রামে। আনমের বাবার নাম মো. কামাল রফিকুল আলম। 

সরেজমিনে দেখা যায়, আজ মঙ্গলবার পর্যন্ত হাসপাতালে তিনি ৩ বছর ১১ মাস ১১ দিন ধরে অনুপস্থিত। 

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সূত্রে জানা যায়, ৩৯ তম বিসিএসে স্বাস্থ্য ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত চিকিৎসক আ ন ম কায়সার আনম ২০১৯ সালের ১২ ডিসেম্বর তারাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সহকারী সার্জন হিসেবে যোগদান করেন। এরপর ২০২০ সালের ২ মার্চ হাসপাতালে পাঁচ দিনের নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করেন। ছুটি মঞ্জুর হলে ওই দিনই কায়সার আনম কর্মস্থল ত্যাগ করেন। এরপর দীর্ঘ দিন তিনি কর্মস্থলে অনুপস্থিত। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন সময় তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। ওই চিকিৎসকের ঠিকানায় ডাকযোগে চিঠি পাঠালেও তা ফেরত আসে। 

এ বিষয়ে তারাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা শাহীন সুলতানা আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘তারাগঞ্জে যোগদানের পর থেকে চিকিৎসক কায়সার আনমকে হাসপাতালে পাইনি। তাঁর সঙ্গে যোগযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। একাধিকবার ডাকযোগে চিঠি পাঠানো হলেও তা রিসিভ না হওয়ায় হাসপাতালে ফেরত আসে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে প্রতি মাসে জানিয়েছি।’ 

তিনি আরও বলেন, ‘চিকিৎসক কায়সার আনমের কোনো ট্রেসই পাওয়া যাচ্ছে না। সর্বশেষ গত বছরের ২০ নভেম্বর বিভাগীয় পরিচালক ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে তাঁর অনুপস্থিতির বিষয়টি অবহিত করেছি। লোকমুখে শুনেছি ওই চিকিৎসক বিদেশে গেছেন। তবে কোন দেশে গেছেন তা নিশ্চিত কেউ বলতে পারেন না। ওই চিকিৎসকও অফিসিয়ালভাবে জানায়নি। দীর্ঘ দিন ধরে তাঁর পদ হাসপাতালে শূন্য পড়ে রয়েছে।’ 

তারাগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আনিছুর রহমান লিটন বলেন, ‘একজন চিকিৎসক কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে তিন বছর ধরে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। কর্তৃপক্ষের উচিত ওই চিকিৎসক পদায়ন বাতিল করে সেখানে নতুন কাউকে যোগদান করানো। এতে এলাকার মানুষের স্বাস্থ্যসেবা সুনিশ্চিত হবে।’ 

তারাগঞ্জের স্বেচ্ছাসেবী সামাজিক সংগঠন ‘মানব কল্যাণ ঘর’ সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, ‘একজন চিকিৎসক পাঁচ দিনের ছুটি নিয়ে চার বছর ধরে নিরুদ্দেশ। তিনি বেঁচে আছেন কি না, দেশে আছেন না কি বিদেশে আছেন, কেউ বলতে পারেন না। হাসপাতালে তাঁর পদ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তিনি দীর্ঘ দিন অনুপস্থিত থাকায় সেবা প্রত্যাশীরা চিকিৎসাসেবা বঞ্চিত হচ্ছেন। ওই চিকিৎসকের এমন আচরণ উদ্বেগজনক। বিষয়টি কর্তৃপক্ষের খতিয়ে দেখা দরকার।’ 

উল্লেখ্য হাসপাতালে দেওয়া ওই চিকিৎসকের মোবাইল নম্বরে যোগযোগের চেষ্টা করা হলে তা বন্ধ পাওয়া যায়।

যাচাই-বাছাইয়ে জাপা প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল

সারজিসের নগদ টাকা আছে ৩ লাখ ১১ হাজার, পেশায় ব্যবসায়ী

পীরগঞ্জে তাল, খেজুরসহ বিভিন্ন গাছের মাথা কেটে দিলেন পল্লী বিদ্যুতের কর্মীরা

কোরআন-সুন্নাহবিরোধী আইন করতে দেব না, এটা আমাদের অঙ্গীকার: মির্জা ফখরুল

তীব্র শীতে কাঁপছে মানুষ গুদামে তালাবদ্ধ কম্বল

ভূরুঙ্গামারীতে বাস-মোটরসাইকেল সংঘর্ষ, যুবক নিহত

ফুলবাড়ীতে আওয়ামী লীগ নেতা গ্রেপ্তার

পঞ্চগড়ে চার দিন ধরে ঘন কুয়াশা ও কনকনে শীত

ফুলবাড়ীতে ট্রলির চাপায় সহযোগী নিহত

কাউনিয়ায় কিশোরীকে ধর্ষণচেষ্টা, যুবক গ্রেপ্তার