রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার টুকুরিয়া ইউনিয়নের টিওরমারী গ্রামসংলগ্ন করতোয়া নদী থেকে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় প্রভাবশালী একটি চক্রের বিরুদ্ধে। প্রতিদিন ট্রাক্টর ও ট্রলিতে করে গ্রামের ভেতরের সরু রাস্তা দিয়ে বালু পরিবহন করায় গ্রামীণ সড়কগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে বসতবাড়ি ও কৃষিজমিও ঝুঁকির মুখে পড়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
এ অবস্থায় অতিষ্ঠ হয়ে ৫ এপ্রিল অবৈধ বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে গ্রামবাসী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগ পাওয়ার পর ওই দিনই ইউএনও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে যৌথ অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দেন। তবে বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) পর্যন্ত সেখানে কোনো অভিযান পরিচালনা করা হয়নি বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
স্থানীয়দের দাবি, প্রায় সাত বছর ধরে করতোয়া নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে ট্রাক্টর ও ট্রলির মাধ্যমে টিওরমারী গ্রামের সরু রাস্তা ব্যবহার করে বালু পরিবহন করা হচ্ছে। এতে গ্রামীণ সড়কগুলো চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ধুলাবালির কারণে বসতবাড়ি ও ফসলি জমিও ক্ষতির মুখে পড়ছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, বালু ব্যবসায়ী আব্দুর রাজ্জাকের নেতৃত্বে একটি প্রভাবশালী চক্র এসব কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে। প্রতিবাদ করলে হামলা ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও দাবি করেছেন তাঁরা।
স্থানীয়রা জানান, গত ২৩ ফেব্রুয়ারি অবৈধ বালু পরিবহনের প্রতিবাদ করায় রুবেল ও আনোয়ার নামে দুই যুবককে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। বর্তমানে বালুসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা প্রকাশ্যে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মহড়া দিচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে, যা গ্রামবাসীর মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
টিওরমারী গ্রামের বাসিন্দা আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘প্রশাসনের কাছে বারবার গিয়েও কোনো প্রতিকার পাচ্ছি না। ইউএনও স্যার লিখে দেওয়ার পরও যদি অভিযান না হয়, তাহলে আমরা কোথায় যাব?’
স্থানীয় বাসিন্দা ফারুক মিয়া বলেন, ‘বালুর ট্রলি চলাচলে রাস্তাঘাট ভেঙে যাচ্ছে। ধুলাবালিতে আমাদের জীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে।’
অপর বাসিন্দা সহির উদ্দিন বলেন, ‘প্রতিবাদ করলে মারধর ও হুমকি দেওয়া হয়। আমরা পরিবার নিয়ে আতঙ্কে আছি।’
রাজু মিয়া নামের আরেক বাসিন্দা বলেন, ‘দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।’
এ অবস্থায় অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ, জড়িতদের আইনের আওতায় আনা এবং গ্রামবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রংপুর জেলা প্রশাসকের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগীরা।
পীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজমুল হক বলেন, ‘আমরা প্রস্তুত আছি। এসি ল্যান্ড বললেই সেখানে যাব।’
এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তানভীর আহমেদকে মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পপি খাতুন বলেন, ‘আমি ওই বালু পয়েন্টে অভিযান পরিচালনার জন্য এসি ল্যান্ড ও ওসিকে নির্দেশ দিয়েছি। কিন্তু কেন সেখানে অভিযান চালানো হচ্ছে না, তা খোঁজ নিয়ে দেখব।’