আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত রংপুর-২ (বদরগঞ্জ- তারাগঞ্জ) আসনটি জিতে নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী। তবে আসনটি পুনরুদ্ধারে জাতীয় পার্টিও কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অংশ না নেওয়ায় দলটির সমর্থিত ভোট নিজেদের দিকে টানার চেষ্টা চালাচ্ছেন বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীরা। আলোচনায় থাকা জাতীয় পার্টির প্রার্থীরও মূল লক্ষ্য এসব ভোটের দিকে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনে পাঁচ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও মূল আলোচনায় রয়েছেন তিনজন। তাঁরা হলেন, বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলী সরকার, জামায়াতে ইসলামীর সাবেক ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি এ টি এম আজহারুল ইসলাম এবং জাতীয় পার্টির সাবেক সংসদ সদস্য আনিছুল ইসলাম মণ্ডল। মোহাম্মদ আলী ২০০১ সালে এবং আনিছুল ইসলাম ২০০৮ সালে জাতীয় পার্টির টিকিটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। ২০০৮ সালে জাতীয় পার্টির টিকিট না পেয়ে পরে মোহাম্মদ আলী বিএনপিতে যোগ দেন। ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আহসানুল হক চৌধুরী ডিউক সংসদ সদস্য হয়েছিলেন। স্বাধীনতার পর থেকে এ আসনে কখনো বিএনপি কিংবা জামায়াতের প্রার্থী এমপি হতে পারেননি।
রংপুর-২ আসনে ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৭৭ হাজার ৮০২। এর মধ্যে বদরগঞ্জ উপজেলায় ভোটার ২ লাখ ৫২ হাজার ৪০৭ জন। তারাগঞ্জ উপজেলায় ভোটার ১ লাখ ২৫ হাজার ৩৯৫ জন। বিভিন্ন রাজনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, বদরগঞ্জ ও তারাগঞ্জ উপজেলায় আওয়ামী লীগ-সমর্থিত ভোট রয়েছে প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার।
সরেজমিন অন্তত ৫০ ভোটারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিএনপি ও জামায়াতের ভোট দুই উপজেলার ১৫টি ইউনিয়ন এবং একটি পৌরসভায় কমবেশি রয়েছে। তবে জাতীয় পার্টি প্রার্থীর বদরগঞ্জ উপজেলার তিনটি ইউনিয়নে (দামোদরপুর, গোপীনাথপুর ও রাধানগর ইউনিয়ন) এবং তারাগঞ্জ উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নে তুলনামূলকভাবে বেশি ভোট পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সমীকরণ বলছে, এসব এলাকায় বিএনপি কিংবা জামায়াত উল্লেখযোগ্য ভোট না পেলে তাঁদের জন্য ১২ ফেব্রুয়ারি জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা অনেক কঠিন হবে।
জানা গেছে, মোহাম্মদ আলীকে বিএনপির মনোনয়ন দেওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন দলের অধিকাংশ নেতা-কর্মী। তাঁরা মোহাম্মদ আলীকে দেওয়া মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে আন্দোলনও করেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে উপজেলা বিএনপির এক নেতা বলেন, ‘শেষ পর্যন্ত সবাই একত্র হলেও ওই দ্বন্দ্ব ভোটের মাঠে অনেকটাই প্রভাব ফেলেছে।’
তবে মোহাম্মদ আলী সরকার বলেন, ‘দলে এখন আর কোনো দ্বন্দ্ব নেই। মানুষ ধানের শীষে ভোট দেওয়ার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন।’
জামায়াতে ইসলামীর সাবেক ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি এ টি এম আজহারুল ইসলাম বলেন, ‘ভোটাররা আর দুর্নীতিবাজদের ক্ষমতায় দেখতে চান না। ১২ ফেব্রুয়ারি দাঁড়িপাল্লায় সিল মেরে তারা দুর্নীতিবাজদের প্রত্যাখ্যান করবে।’
জাতীয় পার্টির প্রার্থী আনিছুল ইসলাম মণ্ডল বলেন, ‘আমি ২০০৮ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে এলাকায় ব্যাপক উন্নয়নমূলক কাজ করেছি। আমার সময়ে দুই উপজেলার মানুষ শান্তিতে ছিলেন। আশা করি,
১২ ফেব্রুয়ারি লাঙ্গল মার্কায় আবার ভোট দিয়ে জনগণ আমার কাজের মূল্যায়ন করবে।’