দলের ভেতরে গ্রুপিং এবং জাতীয় পার্টি ও আওয়ামী লীগের লোকদের কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগ তুলে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) রংপুর জেলা কমিটির যুগ্ম সদস্যসচিব শেখ রেজওয়ান পদত্যাগ করেছেন। আজ শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি দলের সব পদ ও দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন।
পদত্যাগের বিষয়ে শেখ রেজওয়ান বলেন, ‘এনসিপির রংপুর জেলা ও মহানগর কমিটির নেতৃত্বে এমন ব্যক্তিদের আনা হয়েছে, যারা জুলাই আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল না।’ তাঁর দাবি, যারা জাতীয় পার্টি ও আওয়ামী লীগের লোক ছিল, তারা নেতৃত্বে এসেছে। যা জাতীয় নাগরিক পার্টির মতো একটি বিপ্লবী দলে মেনে নেওয়া যায় না।’
জেলা কমিটির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব নিয়েও অভিযোগ করেন এই নেতা। তিনি দাবি করেন, জেলা কমিটির সদস্যসচিব এরশাদ হোসেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে কর্মরত থাকায় তাঁকে তাঁর পদ থেকে সরানোর পর সেই পদ নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব মনিরুজ্জামান মনির ওই পদে আসার কথা থাকলেও তিনি রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ান।
শেখ রেজওয়ান জানান, জেলা কমিটির ১ নম্বর যুগ্ম সদস্যসচিব হলেও গ্রুপিংয়ের কারণে তাঁকে (শেখ রেজওয়ানকে) দায়িত্ব না দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে পদটি শূন্য রেখে দল পরিচালনা করা হচ্ছে। তাঁর (শেখ রেজওয়ানের) সঙ্গে দলের যুগ্ম মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সাদিয়া ফারজানা দিনা ও আসাদুল্লাহ আল গালিবের দ্বন্দ্বের কারণে তাঁকে নেতৃত্ব থেকে সরানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
জেলা কমিটির আহ্বায়ক আল মামুনের বিরুদ্ধেও অভিযোগ তুলে শেখ রেজওয়ান বলেন, দলের মধ্যে গ্রুপিং ও বিভাজন চরম আকার ধারণ করেছে। এখানে ছোটরা বড়দের সম্মান করে না, দলীয় শৃঙ্খলা নেই। বিভিন্ন দলের লোক দলে ঢুকে পড়ায় সংকট তৈরি হয়েছে।
এর আগে, গত বছরের ২ ডিসেম্বর জাতীয় পার্টির ছাত্রসংগঠন জাতীয় ছাত্র সমাজের সাবেক সভাপতি আল মামুনকে সভাপতি ও এরশাদ হোসেনকে সদস্যসচিব করে রংপুর জেলা আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। এ নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হলে এরশাদ হোসেনকে ওই পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। একই সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস।