হোম > সারা দেশ > রংপুর

রংপুরের শ্যামাসুন্দরী খাল: খননের জন্য অর্থ বরাদ্দ পাউবো বলছে, অর্থহীন

শিপুল ইসলাম, রংপুর 

রংপুরের শ্যামাসুন্দরী খাল খননের অংশ হিসেবে বালতিতে করে ময়লা তুলছেন শ্রমিকেরা। সেসব ময়লা রাখা হচ্ছে খালপাড়েই। সম্প্রতি মহানগরীর নুরপুর এলাকায়। ছবি: আজকের পত্রিকা

দখল-দূষণে মৃতপ্রায় রংপুর নগরীর প্রাণ শ্যামাসুন্দরী খাল। খাল পুনঃখনন, দূষণ রোধ ও বনায়নের জন্য ১৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে সরকার। তবে খোদ বাস্তবায়নকারী সংস্থা পানি উন্নয়ন বোর্ডই বলছে, দখল ও পানিপ্রবাহের মূল সংকট সমাধান ছাড়া এই প্রকল্প টেকসই হবে না।

বিশেষজ্ঞ ও পরিবেশকর্মীরাও বলছেন, অবৈধ দখল উচ্ছেদ, ঘাঘট নদের সঙ্গে সংযোগ পুনরুদ্ধার এবং পূর্ণাঙ্গ খনন ছাড়া এই প্রকল্পে অর্থের অপচয় ছাড়া আর কিছু নয়।

জানা গেছে, ১৮৯০ সালে রংপুর পৌরসভার তৎকালীন চেয়ারম্যান ও ডিমলার রাজা জানকি বল্লভ সেন তাঁর মা শ্যামাসুন্দরীর স্মরণে শ্যামাসুন্দরী খাল খনন করেন। রংপুর নগরের উত্তর-পূর্ব দিকে সিও বাজার কেল্লাবন্দ ঘাঘট থেকে শুরু হয়ে শহরের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে মাহিগঞ্জ এলাকার খোখসা ঘাঘটে মিশেছে। শ্যামাসুন্দরী খালের মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ১৬ কিলোমিটার। প্রকল্পের আওতায় নগরীর চেকপোস্ট থেকে সাতমাথা পর্যন্ত ১০ কিলোমিটার সংস্কার করা হবে।

একসময় প্রায় ১৫০ ফুট প্রশস্ত শ্যামাসুন্দরী খাল এখন অনেক জায়গায় মাত্র ৩০ ফুটে নেমে এসেছে। হাঁটার মতো জায়গাও নেই। কোথাও কচুরিপানা, কোথাও কালো দুর্গন্ধযুক্ত পানি, কোথাও আবার পলিথিন ও গৃহস্থালি বর্জ্যের স্তূপ। খালের দুই পাড় দখল করে গড়ে উঠেছে ভবন, দোকান ও স্থাপনা। ফলে বৃষ্টি হলে পানিপ্রবাহ না থাকায় আশপাশের এলাকা তলিয়ে ঘরবাড়ি ডুবে যাচ্ছে পানিতে।

রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানিয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্টের আওতায় জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা প্রকল্পে গত বছরের নভেম্বরে শ্যামাসুন্দরী পুনঃখনন, দূষণ রোধ ও বনায়নের জন্য প্রায় ১৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।

সরেজমিনে দেখা গেছে, খনন করার কথা থাকলেও বালতি দিয়ে কাদা-আবর্জনা তুলে খালের পাড়ে রাখছেন শ্রমিকেরা। সেগুলো আবার বৃষ্টির পানিতে গড়িয়ে খালে পড়ছে।

নুরপুর এলাকার বাসিন্দা আশরাফুল ইসলাম বলেন, বালতি দিয়ে শ্যামাসুন্দরী খালের ময়লা তোলা হচ্ছে। সেই ময়লা পাড়ে ফেলা হয়েছে। সেগুলো বৃষ্টির পানিতে আবার খালে পড়ে জমাট বাঁধছে। এভাবে কাজ করলে কোটি কোটি টাকা নয়ছয় হবে।

গোমস্তাপাড়ার বাসিন্দা আইনুল হক বলেন, ‘প্রতিবছরই দেখি খাল পরিষ্কার হয়। কিছুদিন পর আবার আগের মতো হয়ে যায়। আসল সমস্যা তো দখল আর ড্রেনের ময়লা।’ আরেক বাসিন্দা শাহিনা বেগম বলেন, ‘বর্ষা হলেই ঘরে পানি ঢোকে। খাল ভরাট হয়ে গেছে। এখন শুধু টাকা খরচের কাজ হচ্ছে।’

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও রিভারাইন পিপলের পরিচালক ড. তুহিন ওয়াদুদ বলেন, শ্যামাসুন্দরীকে বাঁচাতে হলে আগে দখলদার উচ্ছেদ করতে হবে। ঘাঘট নদের সঙ্গে সংযোগ ফিরিয়ে আনতে হবে। শুধু ওপরের ময়লা সরিয়ে ছবি তোলার মতো প্রকল্পে কোনো লাভ হবে না।

রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম বলেন, ‘শ্যামাসুন্দরী এখন আর খাল নেই। এটি ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। খাল খনন ও সম্প্রসারণ হাইপোথিটিক্যাল হয়ে গেছে। সিটি করপোরেশনে কেউ প্ল্যান দেওয়ার না থাকায় আমরাই প্ল্যান দিয়েছিলাম। এখন এটা আমাদের গলার কাঁটা হয়ে গেছে।’

ভিজিএফের চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ, ক্ষুব্ধ নিম্ন আয়ের মানুষেরা

একের পর এক ইজিবাইক ছিনতাই: ইউএনও-ওসির কার্যালয় ঘেরাও করে বিক্ষোভ

পীরগঞ্জে পুকুরে ডুবে দুই চাচাতো ভাইয়ের মৃত্যু

পীরগঞ্জে কালবৈশাখীতে মাঠের পর মাঠ বোরো ধান লন্ডভন্ড, বিপাকে কৃষকেরা

বেরোবিতে ৩ দাবিতে ছাত্রদলের স্মারকলিপি পেশ

পীরগঞ্জে অনলাইন জুয়ার আসরে ডিবির অভিযান, আটক ৮

পীরগঞ্জে অন্তঃসত্ত্বা নারীকে হত্যায় একজনের ফাঁসির রায়

চার বছরেও সংস্কার হয়নি ‘ফুলেরজান’ সেতু, দুর্ভোগে হাজারো মানুষ

দ্বিতীয় তিস্তা সেতু সড়কের ২০ স্থানে ধস

রংপুরে হামে প্রাণ গেল আরও এক শিশুর, মৃত্যু বেড়ে ৫