রংপুরের পীরগাছা উপজেলার কান্দির হাট স্কুল অ্যান্ড কলেজে এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া একমাত্র শিক্ষার্থীও অকৃতকার্য হয়েছে। কলেজ শাখায় নয়জন শিক্ষক কর্মরত থাকলেও একজন শিক্ষার্থীরও উত্তীর্ণ হতে না পারার ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির পাঠদানের মান ও শিক্ষার পরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিভাবক ও সচেতন মহল।
জানা গেছে, চলতি বছর মানবিক বিভাগ থেকে মাত্র একজন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। ওই শিক্ষার্থী একটি বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছে। এর আগের বছরও প্রতিষ্ঠানটি থেকে কোনো শিক্ষার্থী পাস করেনি। পরপর দুই বছর এমন ফলাফলে স্থানীয়ভাবে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বছর ফলাফল বিপর্যয়ের পর তৎকালীন অধ্যক্ষ আগামীতে ভালো ফলাফলের আশ্বাস দিয়েছিলেন। তবে শিক্ষার্থী সংকটের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটিতে মামলা-মোকদ্দমা ও পদ নিয়ে নানা জটিলতা তৈরি হয়। ফলে প্রতিষ্ঠানটির সার্বিক পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়নি।
কান্দির হাট স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ রফিকুল বারী জানান, ২০১২ সালে কলেজটি প্রতিষ্ঠিত হয়। তবে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও প্রতিষ্ঠানটি এখনো এমপিওভুক্ত হয়নি। বর্তমানে কলেজ শাখায় নয়জন শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন। নিজস্ব পাকা একাডেমিক ভবন দেখানো হলেও বাস্তবে সে ধরনের অবকাঠামো নেই। পুরোনো অবকাঠামোতেই পাঠদান কার্যক্রম চলছে।
অধ্যক্ষের দাবি, এমপিওভুক্ত না হওয়া এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও সুযোগ-সুবিধার অভাবে ভালো মানের শিক্ষার্থীরা এ কলেজে ভর্তি হতে আগ্রহী হয় না। ফলে দিন দিন শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমছে। এরই ধারাবাহিকতায় এ বছর মানবিক বিভাগ থেকে মাত্র একজন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। কিন্তু ওই শিক্ষার্থীও একটি বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছে।
প্রতিষ্ঠার এক যুগের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও কান্দির হাট স্কুল অ্যান্ড কলেজে অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও শিক্ষার্থী সংকটের সমাধান হয়নি। নয়জন শিক্ষক কর্মরত থাকা সত্ত্বেও একমাত্র পরীক্ষার্থীর অকৃতকার্য হওয়ার ঘটনা প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার মান, পাঠদান কার্যক্রম ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহল।