রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার হাসারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩৩ নম্বর ভোটকেন্দ্র থেকে সিল মারা ব্যালট পেপার উদ্ধার করা হয়েছে। খবর পেয়ে সেখানে যান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা পপি খাতুন। সেখানে তাঁকে অবরুদ্ধ করে রাখে উত্তেজিত জনতা। পরে তাঁর গাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আজ সোমবার সকালে বিদ্যালয়ের দুটি কক্ষ পরিষ্কার করার সময় দুই শিক্ষক ও দুই শিশু কয়েকটি কাগজ পায়। পরে সেগুলো বিদ্যালয়ের এক শিক্ষকের কাছে জমা দেওয়া হয়। প্রাপ্ত কাগজের মধ্যে ধানের শীষ প্রতীকে সিল মারা দুটি ব্যালট এবং ‘হ্যাঁ-না’ ভোটের চারটি ব্যালট পেপার ছিল।
বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় লোকজন বিদ্যালয় চত্বরে জড়ো হয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। খবর পেয়ে ইউএনও পপি খাতুন উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আজিজুর রহমানকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরে তিনি শিক্ষকদের কাছ থেকে ব্যালট পেপারগুলো নিয়ে জব্দ করেন।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, ঘটনাস্থলে গিয়ে ইউএনও ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং ওই শিক্ষক ও শিশুকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নেওয়ার কথা জানান। এতে জনতা আরও ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ বিদ্যালয় এলাকায় জড়ো হতে থাকেন। শিক্ষক ও শিশুদের নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হলে তা প্রতিহতের ঘোষণা দেন তাঁরা।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ইউএনওকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। পরে শিক্ষক ও শিশুদের না নেওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়ে ইউএনও ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। এ সময় উত্তেজিত জনতা তাঁর গাড়িতে হামলা করে কাচ ভাঙচুর করে।
এ বিষয়ে ইউএনও পপি খাতুনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, সামগ্রিক বিষয় পরে জানানো হবে।