রংপুর নগরীর একটি আবাসিক হোটেলের ছাদ থেকে পড়ে কলেজছাত্রী নুজশাত জাহানের (১৮) মৃত্যুর ঘটনায় গ্রেপ্তার রংপুর মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী শাহরিয়ার আহমেদ সাকিনের (২৫) এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
আজ রোববার (২৮ জুন) সকালে কারাগার থেকে তাঁকে রংপুর অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন। শুনানি শেষে রংপুর অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক ড. মুহাম্মদ রাশেদ হোসাইন এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। পরে তাঁকে পুলিশি পাহারায় কারাগারে নেওয়া হয়।
এর আগে আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে করা মামলায় ২৩ জুন সাকিনকে গ্রেপ্তার করে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। নিহত নুজশাতের বাবা, সাবেক সেনাসদস্য মো. নজরুল ইসলামের দায়ের করা মামলায় তাঁকে আসামি করা হয়। মামলায় আরও চার-পাঁচজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।
বাদীপক্ষের আইনজীবী আবু হায়দার মো. আব্দুল মুবিন বলেন, মামলার উপাদান, মোবাইলের তথ্যপ্রমাণ বিশ্লেষণ করে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আদালতে তিন দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন। আদালত আজ সাকিনের এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। ১৬ জুন সাকিন রাত সাড়ে ৩টার দিকে নুজশাতকে মোবাইলে ফোন করে দীর্ঘ ৫০ মিনিট ১২ সেকেন্ড কথা বলেন। গত তিন মাসে ১১৮ বার তাঁদের মোবাইল ফোনে কথা হয় এবং মেসেজ আদান-প্রদান করা হয়। গভীর রাতে এত দীর্ঘক্ষণ কোনো ছাত্রীর সঙ্গে শিক্ষকের কথা হতে পারে না।
আসামীপক্ষের আইনজীবী আব্দুল কাইয়ুম মন্ডল বলেন, ‘৩০৬ ও ১০৯ ধারায় মামলা করার জন্য এজাহারে যে উপাদান থাকতে হয়, তার কিছুই নেই। পুলিশের কাছে দুটি মোবাইল ফোনই ছিল। তারা তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে সব ধরনের তথ্য বের করতে পারবে। এর জন্য রিমান্ডের প্রয়োজন পড়ে না। আমরা সাকিনের জামিন আবেদন করেছিলাম। আদালত যেহেতু এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন, তাই আমাদের আবেদন নাকচ হয়েছে। রিমান্ড শেষে পুনরায় জামিনের আবেদন করা হবে।’
গ্রেপ্তার শাহরিয়ার সাকিন রংপুর মেডিকেল কলেজের চূড়ান্ত বর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি মহানগরীর ধাপ চিকলী ভাটা এলাকার বাসিন্দা। নিহত নুজশাত জাহান নগরীর খলিফাপাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং রংপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন। ২২ জুন বিকেলে নগরীর পায়রা চত্বর এলাকার ৯ তলা নর্থভিউ হোটেলের ছাদ থেকে নিচে পড়ে মারা যান নুজশাত। এই ঘটনায় সাকিনসহ আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি থানায় এজাহার দায়ের করেন তাঁর বাবা।
মামলার এজাহারে তিনি উল্লেখ করেন, ঘটনাস্থলে তিনি মেয়ের মোবাইল ফোন পান, যেখানে বার্তাসহ বিভিন্ন তথ্য মুছে ফেলা অবস্থায় ছিল। পরে বিভিন্ন মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন, শাহরিয়ারের সঙ্গে তাঁর মেয়ের একসঙ্গে তোলা ছবি ও কথোপকথনের বার্তা ফোনে ছিল। এজাহারে তিনি আরও উল্লেখ করেন, শাহরিয়ারের মানসিক নির্যাতনের কারণে তাঁর মেয়ের মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে বলে তিনি সন্দেহ করছেন।