রংপুরের কাউনিয়ায় ‘ভুয়া মামলায়’ ঋণগ্রহীতা রিনা বেগম নামের এক নারীকে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে বেসরকারি ঋণদান সংস্থা ইএসডিও এনজিও কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী ওই নারী আজ বুধবার মামলার বাদীর বিচার চেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন। ভুক্তভোগী নারী হলেন উপজেলার গঙ্গানারায়ণ গ্রামের শহিদুল ইসলামের স্ত্রী রিনা বেগম।
অভিযোগে বলা হয়েছে, রিনা বেগম ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে ইএসডিও উপজেলা শাখা থেকে চুক্তিপত্র মোতাবেক ১ লাখ টাকা ঋণ তোলেন। ওই সময় ইএসডিওর শাখা ব্যবস্থাপক আরিফ হোসেন রিনা বেগমের জনতা ব্যাংকে করা হিসাবের (অ্যাকাউন্ট) ফাঁকা চেকে স্বাক্ষরসহ একটি পাতা জমা নেন।
এদিকে আগের ঋণের টাকা পরিশোধের পর আবার ২০২৫ সালের ১৮ মে ৪৯ হাজার টাকা ঋণ নেন এবং কিস্তিতে ঋণের টাকা জমা দিতে থাকেন রিনা বেগম। চলতি ২০ জানুয়ারিও তিনি ওই শাখায় কিস্তির সাড়ে ৪ হাজার টাকা জমা দেন। কিন্তু ইএসডিও রংপুর জোন কর্তৃপক্ষ ও উপজেলা শাখা ব্যবস্থাপক তাঁদের কাছে জমা রাখা ঋণগ্রহীতার জনতা ব্যাংক অ্যাকাউন্টের ফাঁকা চেকের একটি পাতায় ২০২৫ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি তারিখ বসিয়ে এবং চেকে ৫৬ হাজার টাকা উল্লেখ করে জনতা ব্যাংকে ইএসডিওর অ্যাকাউন্টে জমা করেন। কিন্তু ব্যাংকে রিনার অ্যাকাউন্টে টাকা না থাকায় ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ২০২৫ সালের ২৯ জুলাই চেকটি ডিজঅনার করে।
এরপর ২০২৫ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর ইএসডিও রংপুর জোনের সহকারী আইন সহায়তাকারী আরিফ ইফতেখার বাদী হয়ে রিনা বেগমের বিরুদ্ধে রংপুর আদালতে চেক ডিজঅনারের মামলা করেন। ইএসডিও কর্তৃপক্ষ মামলার বিষয়টি গোপন রাখে ঋণগ্রহীতার কাছে। ভুক্তভোগী নারী আদালতে হাজির না হওয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। গত শনিবার দিবাগত রাতে রিনা বেগমকে বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে রোববার সকালে আদালতে পাঠায় কাউনিয়া থানা-পুলিশ। তবে ওই দিনই রিনা বেগমকে জামিন দেন আদালত।
ভুক্তভোগী রিনা বেগম বলেন, ‘আমি গত বছরের ১৮ মে ইএসডিও থেকে ৪৯ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছি এবং কিস্তিও দিচ্ছি। কিন্তু ইএসডিও কর্তৃপক্ষ আমার বিরুদ্ধে ভুয়া চেক ডিজঅনার মামলা করে। আমার স্বামী প্রায় ১৮ হাজার টাকা খরচ করে আমাকে জামিন করিয়েছেন।’ তিনি বলেন, ‘ভুয়া মামলায় আমি গ্রেপ্তার হওয়ায় আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি এবং আমার মানহানি হয়েছে। এ ঘটনার বিচার চেয়ে গতকাল ইউএনওর দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেছি।’
ভুক্তভোগীর স্বামী শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘এমন ঘটনা যেন আর কোনো ঋণগ্রহীতার সঙ্গে না ঘটে, প্রশাসন তদন্ত করে ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে, এই দাবি জানাই।’
এ ব্যাপারে মামলার বাদী ইএসডিও রংপুর জোনের সহকারী আইন সহায়তাকারী আরিফ ইফতেখার বলেন, প্রতিষ্ঠানের নির্দেশক্রমে বিধি মোতাবেক মামলাটি করা হয়েছে। যদি কোনো অসংগতি থাকে মামলার নথি না দেখে কিছু বলা যাচ্ছে না। তবে উপজেলা শাখা ব্যবস্থাপক ভালো বলতে পারবেন।
ডিজঅনার হওয়া চেকে উল্লিখিত তারিখের বিষয়ে জানতে চাইলে ইএসডিও রংপুর জোনাল ম্যানেজার লোকমান হোসাইন বলেন, ‘মামলার বিষয়টি জানি। কিন্তু চেকে উল্লিখিত তারিখের বিষয়টি জানা নেই।’ তিনি খোঁজ নিয়ে পরে জানাতে পারবেন বলে দাবি করেন।
এদিকে বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন কাউনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পাপিয়া সুলতানা। তিনি বলেন, ‘এনজিও শাখা ব্যবস্থাপকের কাছ থেকে শুনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’