রংপুরের কারমাইকেল কলেজে ১৯৯০ সালে শেষবারের মতো ছাত্র সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই ছাত্র সংসদ ভেঙে দেওয়ার পর আর নির্বাচন হয়নি। তাই কারমাইকেল কলেজ ছাত্র সংসদের (কাকসু) তহবিলে অলস পড়ে আছে প্রায় ১ কোটি টাকা।
এদিকে ঢাকা ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। অন্য আরও বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় কারমাইকেল কলেজের শিক্ষার্থীরাও দাবি তুলেছেন দ্রুত ছাত্র সংসদ নির্বাচনের।
উত্তর বঙ্গের ঐতিহ্যবাহী কারমাইকেল কলেজ শুধু শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছে না; এটি শতবর্ষের অধিক সময় ধরে রাজনৈতিক চর্চারও এক শক্তিশালী কেন্দ্র। ১৯১৬ সালে প্রতিষ্ঠিত এই কলেজের ১৯টি বিভাগে বর্তমানে শিক্ষার্থী প্রায় ৩০ হাজার। এ কলেজের শিক্ষার্থীরা স্বাধীনতা আন্দোলন, গণতান্ত্রিক সংগ্রাম এবং দেশের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে শিক্ষার্থীরা এখানে নেতৃত্ব, সমাজসেবা ও রাজনৈতিক দায়বদ্ধতা শিখেছেন। তবে ৩৫ বছর ধরে কলেজ ছাত্র সংসদ নির্বাচন বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের নেতৃত্ব বিকাশ, গণতান্ত্রিক চর্চা ও অধিকার আদায়ের প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
কাকসুর সাবেক জিএস শহিদুল ইসলাম মিজু বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের গণতান্ত্রিক চর্চা, নেতৃত্ব বিকাশ আর অধিকার আদায়ের ক্ষেত্রে কাকসু নির্বাচনের বিকল্প নেই।’
কলেজ প্রশাসনের তথ্যানুযায়ী, ১৯৯০ সালে শেষবারের মতো ছাত্র সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই ছাত্র সংসদ ভেঙে দেওয়ার পর আর নির্বাচন হয়নি। তবে ২০১৯ সালে কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী ওসমান গণির করা রিটে হাইকোর্ট প্রশ্ন তোলেন—ভোট বন্ধ রাখা কেন অবৈধ নয়? তবে বিষয়টি আর এগোয়নি। এদিকে কারমাইকেল কলেজ ছাত্র সংসদের ফান্ডে পড়ে আছে প্রায় ১ কোটি টাকা। কিন্তু ছাত্র সংসদ কার্যকর না থাকায় তা অব্যবহৃত পড়ে আছে।
শিক্ষার্থীরা বলছেন, কারমাইকেল কলেজের ঐতিহ্য পুনরুদ্ধার করতে হলে দ্রুত কাকসু নির্বাচন দিতে হবে। তাঁরা আশা করছেন, প্রশাসন একাডেমিক কাউন্সিলে বিষয়টি আলোচনার পর যথাসম্ভব দ্রুত নির্বাচন আয়োজন করবে।
কারমাইকেল কলেজের ছাত্র সমন্বয়ক মো. আসাদ বলেন, ‘যত ধরনের কার্যক্রম আছে—সবকিছু প্রসেসিং করে আমরা চাই দুই-তিন মাসের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক। আগামী এক মাসের মধ্যে প্রশাসনকে নির্বাচনী রোডম্যাপ ঘোষণা করতে হবে। শিক্ষার্থীদের এটাই প্রত্যাশা। আশা করি, প্রশাসন তা করবে।’
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির কারমাইকেল কলেজ শাখার সভাপতি আবু সুফিয়ান বলেন, কাকসু নির্বাচনের মধ্য দিয়ে যোগ্য নেতৃত্ব তৈরি হবে। শিক্ষার্থীদের সমস্যাগুলো সমাধানের একটি অন্যতম প্ল্যাটফর্ম হবে ছাত্র সংসদ। তাই দ্রুত নির্বাচন দিতে হবে।
কাকসুর ফান্ডে প্রায় কোটি টাকা পড়ে থাকার বিষয়টি উল্লেখ করে অধ্যক্ষ মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, শিক্ষার্থীরা নির্বাচন চাচ্ছে, একাডেমিক কাউন্সিলে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হবে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত ছাত্র সংসদ নির্বাচনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার চেষ্টা করা হবে।