রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউটের প্রভাষক ও রাবির সদ্য বিদায়ী উপাচার্য অধ্যাপক আব্দুস সোবহানের জামাতা এটিএম শাহেদ পারভেজের বিরুদ্ধে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৫৫ তম শিক্ষা পরিষদ সভায় এই কমিটি গঠন করা হয়।
আড়াই মাসেরও বেশি সময় ছুটি না নিয়ে ইনস্টিটিউটে অনুপস্থিত থাকা, তাঁর অধীনে থাকা কোর্সগুলোর নম্বরপত্র জমা না দেওয়াসহ কয়েকটি বিষয় উল্লেখ করে ইনস্টিটিউটের পরিচালকের দেওয়া এক চিঠির প্রেক্ষিতে এই কমিটি গঠন করেছে শিক্ষা পরিষদ।
সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ইলিয়াস হোসাইনকে আহ্বায়ক করে গঠিত কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন-কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ফজলুল হক, ইনস্টিটিউট অব ইংলিশ অ্যান্ড আদার ল্যাংগুয়েজের পরিচালক অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল মামুন, আইন বিভাগের অধ্যাপক আবু নাসের মো. ওয়াহিদ, প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক রেজাউল করিম বাদল।
তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ইলিয়াস হোসেন বলেন, ‘আইবিএ’র এক শিক্ষকের এনওসি বাতিল করা হয়েছিল। তারপরও তিনি বাইরে চলে গেছেন। তাঁর অধীনে থাকা কোর্সগুলোর খাতা জমা দেননি। এসব অভিযোগ নিয়ে আইবিএ’র ডিরেক্টরের পক্ষ থেকে একটা চিঠি এসেছিল। তাঁর পরিপ্রেক্ষিতে এ কমিটি গঠন করা হয়েছে।’
আইবিএ সূত্রে জানা যায়, এটিএম শাহেদ পারভেজ প্রায় তিন মাস ধরে ইনস্টিটিউটে আসেন না। তাঁর অধীনে থাকা চতুর্থ ও পঞ্চম ব্যাচের যথাক্রমে ২০৬ ও ১০১ কোর্সের ইনকোর্স মার্ক ও খাতা মূল্যায়ন করেননি। ফলে ওই দুটি কোর্সের ফল প্রকাশ আটকে আছে। সেকেন্ড ব্যাচের চূড়ান্ত পরীক্ষা গত ১৫ ডিসেম্বর শুরু হয়ে ৩০ ডিসেম্বর শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু শেষ দিন অনুষ্ঠিতব্য ৪০৯ নম্বর কোর্সের প্রশ্নপত্র তৈরি না হওয়ায় পরীক্ষা স্থগিত করা হয়।
ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক জিন্নাত আরা বলেন, ‘আমি গত ১১ অক্টোবর ইনস্টিটিউটের পরিচালক হিসেবে যোগদান করি। এরপর থেকে আমাদের ওই শিক্ষক ইনস্টিটিউটে আসেননি। ইনস্টিটিউটের পক্ষ থেকে গত ২৪ অক্টোবর তাঁর রাজশাহীর ঠিকানায় এবং পরবর্তীতে তাঁর স্থায়ী ঠিকানায় চিঠি পাঠানো হয়। কিন্তু চিঠি কেউ গ্রহণ করেননি।’
জিন্নাত আরা বলেন, ‘ওই শিক্ষকের অধীনে থাকা ৪০৯ নম্বর কোর্সের প্রশ্নপত্র তৈরি না হওয়ায় পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। এ ছাড়া তাঁর অধীনে থাকা ১০১ ও ২০৬ কোর্সের কারণে চূড়ান্ত ফল প্রকাশে জটিলতা তৈরি হয়েছে। বিষয়টি আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে জানিয়েছি।’
অভিযোগের বিষয়ে জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডায়েরিতে প্রভাষক এটিএম শাহেদ পারভেজের দেওয়া নম্বরে একাধিকবার কল দিয়েও তাঁকে পাওয়া যায়নি।