রাজশাহীর পবা উপজেলায় করোনাভাইরাসের টিকা নেওয়ার পর এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলছেন, হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। ওই নারীর নাম জিন্নাতুন নেসা (২৫)। তিনি পবা উপজেলার দারুসা সাহাপুর গ্রামের মামুনুর রশীদের স্ত্রী। এলাকাটি রাজশাহী মহানগর পুলিশের কর্ণহার থানার ভেতরে।
কর্ণহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইসমাইল হোসেন জানান, ওই নারীর কোনো সন্তান নেই। তাঁর স্বামী রাজশাহীর একটি বেসরকারি হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স। মৃত ওই নারীর বাড়ি থানার পাশেই। তাই এ বিষয়ে পুলিশ খোঁজখবর নিয়েছে। মৃত্যুর পর মরদেহ দাফনের জন্য রাজশাহী নগরীর কাশিয়াডাঙ্গা গোবিন্দপুর এলাকায় ওই নারীর বাবা সাবিয়ার রহমানের বাড়ি নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
পরিবারের বরাত দিয়ে ওসি জানান, সোমবার দুপুরে জিন্নাতুন নেসা দারুসায় পবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সিনোফার্মের করোনার প্রথম ডোজ টিকা নেন। বিকেল পর্যন্ত তিনি ভালোই ছিলেন। সন্ধ্যায় তিনি জানান, তাঁর শরীর খারাপ লাগছে। শুয়ে পড়বেন। এরপর তিনি শুয়েই ছিলেন। রাতে তাঁর স্বামী গিয়ে জিন্নাতুনের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেন। তখন দেখেন তাঁর কোনো সাড়াশব্দ নেই। এরপর রাত দেড়টার দিকে ভ্যানে করে তাঁকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
এই নারীর মৃত্যুর ঘটনায় মঙ্গলবার তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রাবেয়া বাসরি। দুপুরের মধ্যে কমিটি প্রতিবেদনও দেয়। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন অনুসারে ডা. রাবেয়া বাসরি জানান, এটা টিকার কারণে মৃত্যু নয়। ঘুমের মধ্যে জিন্নাতুন নেসা হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন।
ডা. রাবেয়া বাসরি বলেন, পরিবারের সদস্যরা আগে থেকেই জানতেন তাঁর শ্বাসকষ্ট ছিল। কিন্তু হৃদ্রোগও যে ছিল এটা জানতেন না তাঁরা। টিকা নেওয়ার পর কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিলে সর্বোচ্চ ২ থেকে ৫ ঘণ্টার মধ্যে হয়। এখানে সময়ের ব্যবধান অনেক।