নওগাঁর ধামইরহাটে কুকুর জবাই করে খাসির মাংস বলে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে এন্তাজ সাঁজী (৫০) নামের এক কসাইয়ের বিরুদ্ধে। আজ রোববার সকালে উপজেলার জাহানপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের মুকুন্দপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এতে স্থানীয়দের মধ্যে চাপা ক্ষোভ লক্ষ করা গেছে। এন্তাজ সাঁজী উপজেলার জাহানপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের মুকুন্দপুর গ্রামের মৃত ওলিশার ছেলে।
স্থানীয় বাসিন্দা বুলুন নাহার বলেন, ‘গতকাল শনিবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে প্রকৃতির ডাকে ঘর থেকে বের হই। এরপর পাশের আলুখেতে এন্তাজসহ কয়েকজনের কণ্ঠ শুনতে পাই। প্রশ্ন করা হলে বলেন, “খাসি জবাই করছি।” সকালে জানতে পারি খাসি নয় কুকুর জবাই করা হয়েছে।’
অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি জানিয়ে মাজেদা বেগম নামের একজন বলেন, ‘সকালে খেত থেকে আলু তুলতে গিয়ে জবাই করা একটি কুকুরের মাথা এবং পাশেই ভুঁড়িসহ চামড়া পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়দের খবর দিই।’ তিনি বলেন, ‘প্রতিবেশী হওয়ায় তাঁর (এন্তাজ সাঁজী) কাছ থেকে অনেক মাংস কিনে খেয়েছি। গরু, খাসির নাম করে কতবার যে কুকুরের মাংস আমাদের খেতে হয়েছে, আল্লায়ই জানে।’
মুকুন্দপুরের হঠাৎপাড়া এলাকার বাসিন্দা লতিকা মুর্মু বলেন, ‘স্বামী মারা যাওয়ার পর অনেক আদর যত্ন করে কুকুরটিকে বড় করেছি। নিজের সন্তানের চাইতেও বেশি আদর করেছি, ভালোবেসেছি। শনিবার বাড়ি না ফেরায় অনেক খোঁজাখুঁজি করেও পাইনি। আজ সকালে জানতে পারি হত্যা করা হয়েছে।’ এমন নৃশংস হত্যার বিচার দাবি করেন তিনি।
ধামইরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোখলেছুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। জবাই করা কুকুরের মাংস থানা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তদন্তের মধ্য দিয়ে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে।