জ্বালানি তেলের সংকটের সুযোগে রাজশাহী ও গাজীপুরের কালীগঞ্জে তেল মজুত ও কালোবাজারির অভিযোগ উঠেছে। রাজশাহীতে ফিলিং স্টেশনের কর্মচারীদের সঙ্গে যোগসাজশ করে অতিরিক্ত তেল সংগ্রহ করে চড়া দামে বিক্রির অভিযোগে এক ব্যক্তিকে জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। আর কালীগঞ্জে পাম্প থেকে সরকারি মূল্যে তেল সংগ্রহ করে খোলা বাজারে দ্বিগুণ-তিন গুণ দামে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে একদল মোটরসাইকেলচালকের বিরুদ্ধে।
রাজশাহী নগরে ফিলিং স্টেশনের কর্মচারীদের সঙ্গে যোগসাজশ করে অতিরিক্ত তেল সংগ্রহ করতেন রাকিব হাসান। পরে সেই তেল বাইকারদের কাছে চড়া দামে বিক্রি করতেন। ক্রেতা সেজে গিয়ে তাঁকে হাতেনাতে ধরেন জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) সদস্যরা।
পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে রাকিব হাসানকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। রাকিব নগরের হোসনীগঞ্জ বেতপট্টি এলাকার শাহজাহান আলীর ছেলে। তিনি নগরের আলুপট্টি এলাকার একটি বহুতল ভবনের তত্ত্বাবধায়ক।
গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে ওই ভবনের বেসমেন্টে অভিযান চালানো হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন নগরের বোয়ালিয়া ভূমি অফিসের সহকারী কমিশনার (ভূমি) আরিফ হোসেন। তিনি জানান, অভিযানে ৪০ লিটার পেট্রল জব্দ করা হয়েছে। পরে তা বাজারমূল্যে বিক্রি করা হয়েছে। জরিমানার টাকা ও তেল বিক্রির অর্থ আগামী রোববার রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়া হবে।
গোয়েন্দা সংস্থা ও ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, রাকিব হাসান ফিলিং স্টেশনের কর্মচারীদের সঙ্গে যোগসাজশ করে অতিরিক্ত পেট্রল ও অকটেন সংগ্রহ করতেন। পরে ভবনের বেসমেন্টে মজুত করে রেখে প্রতি লিটার ২০০ থেকে ২৫০ টাকা দরে বিক্রি করতেন।
এনএসআইয়ের রাজশাহী মেট্রো কার্যালয়ের সদস্যরা কয়েক দিন ধরে এ বিষয়ে নজরদারি করছিলেন। বৃহস্পতিবার রাতে একজন সদস্য ক্রেতা সেজে তেল কিনতে চাইলে রাকিব বিক্রি করতে রাজি হন। তখন তাঁকে হাতেনাতে আটক করা হয়।
ভবনের বেসমেন্টে থাকা বোতল ও জার দেখে গোয়েন্দা সংস্থার ধারণা, অভিযুক্ত রাকিব হাসান সম্প্রতি প্রায় ৫০০ লিটার জ্বালানি তেল এভাবে বিক্রি করেছেন। তেলের অবৈধ মজুত ঠেকাতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানানো হয়েছে।
এদিকে গাজীপুরের কালীগঞ্জে জ্বালানি তেলের সংকটের সুযোগে কিছু অসাধু ব্যক্তি পাম্প থেকে তেল সংগ্রহ করে খোলা বাজারে চড়া দামে বিক্রি করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জ্বালানি তেলের সংকটের কারণে উপজেলার কয়েকটি পাম্পে দিনের নির্দিষ্ট সময়ে অকটেন, পেট্রল ও ডিজেল সরবরাহ করা হচ্ছে। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে একদল মোটরসাইকেলচালক রাত ৩টা থেকেই পাম্পের সামনে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকেন। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর তাঁরা সরকার নির্ধারিত ১১৬ টাকা লিটার দরে অকটেন সংগ্রহ করেন।
অভিযোগ রয়েছে, এদের অনেকে নিজেদের প্রয়োজনে ব্যবহার না করে খোলা বাজারে ১৮০ থেকে ৩৫০ টাকা পর্যন্ত দামে সেই তেল বিক্রি করছেন।
সরেজমিনে তুমলিয়া এলাকার তায়েবা ফিলিং স্টেশনে গিয়ে শত শত বাইকারের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। সেখানে তেল নিতে আসা সোহাগ মোড়ল নামে এক বাইকার বলেন, ভোর ৪টায় এসে লাইনে দাঁড়িয়েছেন তিনি। তাঁর আগে শতাধিক মানুষ দাঁড়িয়ে ছিলেন। তাঁদের মধ্যে অনেকেই বিক্রির উদ্দেশ্যে তেল নিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এ বিষয়ে কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এটিএম কামরুল ইসলাম বলেন, কেউ যদি তেলের মজুত বা কালোবাজারি করে, তাহলে প্রমাণ পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।