হোম > সারা দেশ > রাজশাহী

পদ্মার চরে গরু পালন, কোরবানির বাজার ঘিরে কোটি টাকার স্বপ্ন

গোলাম তোফাজ্জল কবীর মিলন, বাঘা (রাজশাহী) 

রাজশাহীর বাঘা উপজেলার চকরাজাপুর ইউনিয়নে কোরবানীর জন্য প্রস্তুত করা গরু। ছবি: আজকের পত্রিকা

জায়েদ আলী শেখ দুটি গরুর দড়ি ধরে সামনে হাঁটছেন। পেছনে স্ত্রী খোদেজা বেগম ও ছেলে আল আমিন। সযত্নে লালন করা গরু দুটি বিক্রি করেছেন ২ লাখ ৩৪ হাজার টাকায়। এখন সেগুলো ট্রাকে তুলে ঢাকায় পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।

পথে কথা হলে খোদেজা বলেন, নদীভাঙনের সঙ্গে লড়াই করে টিকে থাকা চরাঞ্চলের মানুষের জীবনে গরু পালন এখন প্রধান জীবিকা। তবে এই গরুগুলোকে শুধু জীবিকার মাধ্যম বললে ভুল হবে। এগুলোর সঙ্গে জড়িয়ে আছে আবেগ, ভালোবাসা আর মায়ার বন্ধন। তাইতো এভাবে ছেড়ে দিতে বুকটা ভারী হয়ে আসে।

সম্প্রতি রাজশাহীর বাঘা উপজেলার পদ্মা নদীর খায়েরহাট শিমুলতলা (হালিম মাস্টারের) ঘাট এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, পুরো চরাঞ্চল জুড়ে কোরবানির পশু ঘিরে ব্যস্ততা। কোথাও খামারিরা খড়ের আঁটি তৈরি করছেন, কোথাও গরুকে খাওয়ানো বা ট্রাকে তোলার প্রস্তুতি চলছে। ঘাটের পাশে সারি সারি গরু বাঁধা।

বড় আকৃতির গরুগুলো স্থানীয় রাজশাহী সিটি হাট, রুস্তমপুর ও চণ্ডীপুর হাটে নেওয়া হচ্ছে। তবে মাঝারি আকারের গরুর চাহিদা বেশি থাকায় অনেক গরু ঢাকার বিভিন্ন পশুহাটে পাঠানো হচ্ছে।

পদ্মা নদীর ঘাটের ইজারাদার মো. আবু হানিফ জানান, গতকাল মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত পদ্মার চারটি ঘাট দিয়ে ১১৩টি ট্রাকে গরু ঢাকার বিভিন্ন পশুর হাটে পাঠানো হয়েছে। প্রতিটি ট্রাকে ১৮ থেকে ২০টি গরু পরিবহন করা হয়েছে। এ ছাড়া স্থানীয় হাটগুলোতেও দুই শতাধিক বড় গরু নেওয়া হয়েছে।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) শরিফুল ইসলাম জানান, ঈদুল আজহা উপলক্ষে উপজেলায় কোরবানিযোগ্য গবাদিপশুর সংখ্যা ৩৩ হাজার ৪৫২টি। এর মধ্যে গরু রয়েছে ৩ হাজার ৭৮০টি এবং ছাগল ২৮ হাজার ৬৩০টি।

চকরাজাপুর এলাকার ইউপি সদস্য আব্দুর রহমান নদীভাঙনের কারণে একাধিকবার বাড়ি পরিবর্তন করে বর্তমানে মানিকের চরের চৌমাদিয়া গ্রামে বসবাস করছেন। নদীর ঘাটে দুটি গরু নিয়ে ঢাকায় পাঠানোর প্রস্তুতিকালে তিনি বলেন, “দুটি গরু আড়াই লাখ টাকার বেশি দামে বিক্রি হবে বলে আশা করছি।”

একই ঘাটে খামারি আব্দুল খালেক জানান, নিজের চারটি ও কেনা আরও চারটি গরু নিয়ে তিনি ঢাকার দিয়াবাড়ি পশুহাটে যাচ্ছেন। তাঁর ধারণা, শুধু চকরাজাপুর ইউনিয়ন থেকেই এবার প্রায় ৮০ ট্রাক গরু ঢাকায় যাবে।

মানিকের চর এলাকার সোনামুদ্দিন নিজের সাতটি ও কেনা আরও তিনটি গরু নিয়ে ঢাকার তেজগাঁও পশুহাটে যাচ্ছেন। তিনি জানান, গরুগুলোর সম্ভাব্য মূল্য প্রায় ১৬ লাখ টাকা।

স্থানীয় বাসিন্দা ফজলুর রহমান বলেন, “নদীভাঙনে অনেকের জমিজমা হারিয়ে গেছে। তাই গরু ও ছাগল পালনই এখন চরবাসীর প্রধান জীবিকা। প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই দুই থেকে চারটি গরু রয়েছে।”

হালিম মাস্টারের ঘাটে খামারি সাদেক মোল্লা জানান, তাঁর মোট ২০টি গরু রয়েছে। এর মধ্যে ছয়টি নিজে পালন করেছেন, বাকিগুলো কেনা। পাঁচ বছর ধরে গরুর ব্যবসা করছেন তিনি। তাঁর ভাষায়, “এ ব্যবসায় লাভ-লোকসানের নিশ্চয়তা নেই। কখনো ভালো লাভ হয়, আবার কখনো গরু বিক্রি না হলে ফেরত আনতে হয়।”

ঘাটের পাশে আমবাগানে পরিবার নিয়ে গরু বিদায় দিতে এসেছেন অনেকেই। চাঁদপুর গ্রামের আম্বিয়া বেগম বলেন, “নিজের হাতে লালন করা গরুর প্রতি মায়া তো থাকেই। তাই সন্তানদের নিয়ে বিদায় দিতে এসেছি।”

অন্যদিকে চরকরাজাপুর ইউনিয়নের নিচ পলাশী ফতেপুর গ্রামের দশম শ্রেণির ছাত্র আরিফুল ইসলামের জীবনে গরুর ব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে আছে এক বেদনাদায়ক স্মৃতি। গত বছর গরু নিয়ে ঢাকা যাওয়ার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় তার বাবা মারা যান। বাবার দাফন শেষে আবার হাটে ফিরতে হয়েছিল তাকে। এবার পরিবারের তিনটি গরুর মধ্যে দুটি বাড়িতেই বিক্রি করা হয়েছে, আর একটি আগামী বছরের জন্য রেখে দেওয়া হয়েছে।

পদ্মার চরাঞ্চলের মানুষের কাছে গরু তাই শুধু অর্থ উপার্জনের মাধ্যম নয়; এটি তাদের বেঁচে থাকার সংগ্রাম, স্বপ্ন এবং ভবিষ্যতের আশার প্রতীক হয়ে উঠেছে।

সৌদির সঙ্গে মিল রেখে রাজশাহীর পুঠিয়ায় ঈদের নামাজ, মুসল্লি ৫ জন

টাঙ্গাইলে সড়ক দুর্ঘটনায় আহতদের চিকিৎসার ব্যয় বহন করবে সরকার

রাজশাহীর পশুর হাট: হাসিলে বাড়তি টাকা আদায়

রাজশাহীতে পাওনা ৪৫০ টাকার জন্য বন্ধুকে ছুরিকাঘাতে হত্যা

কোরবানির পশু পরিবহন: চাঁদার চাপে চ্যাপ্টা চালক

কমিউনিটি ক্লিনিক তালাবদ্ধ রেখে পান নিয়ে হাটে গেছেন সিএইচসিপি, সেবা নেই

পদ্মা থেকে উদ্ধার হাত বাঁধা লাশটির পরিচয় মেলেনি

সেদ্ধ হচ্ছে না টিসিবির ডাল

এবার চলবে না ম্যাঙ্গো ও ক্যাটল স্পেশাল ট্রেন

শিক্ষিকার মৃত্যুর খবরে শিক্ষার্থীর মৃত্যু: শোকাহত দুই পরিবারের পাশে এমপি ফজলে হুদা