পঞ্চগড় থেকে রাজশাহীর দূরত্ব প্রায় ২৮০ কিলোমিটার। এত দূর থেকে রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের (রাকাব) কর্মকর্তারা রাজশাহী এসেছেন শুধু ইফতার করতে। আর এ জন্য তাঁরা কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। শুধু পঞ্চগড় নয়; দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, নীলফামারীসহ রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের ৯ জোনের কর্মকর্তারা ইফতার করতে রাজশাহীতে আসেন।
রাজশাহীতে রাকাবের প্রধান কার্যালয়ের সামনে আজ রোববার এই ইফতার মাহফিলের আয়োজন করে রাকাব অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন।
দূরদূরান্ত থেকে আসা কর্মকর্তারা এই ইফতারে অংশ নেন। সারা দিন তাঁরা অফিসে না থাকায় গ্রাহকদের সেবা পেতে নানা অসুবিধায় পড়তে হয়। তবে আয়োজকদের দাবি, ব্যাংকিং কার্যক্রমে কোনো অসুবিধা হয়নি।
আয়োজকেরা জানান, রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের ১৮টি জোন কার্যালয় রয়েছে রাকাবের। দুই বিভাগ থেকে প্রায় ৮০০ কর্মকর্তা এই ইফতারে অংশ নেন। সোমবার তাঁরা যথারীতি অফিস করবেন।
ইফতার অনুষ্ঠানে কথা হয় কয়েকজন কর্মকর্তার সঙ্গে। তাঁরা জানান, সকালে অফিসে যাওয়ার পরই তাঁরা রাজশাহীর উদ্দেশে রওনা দেন। ৮ থেকে ১০ জন কর্মকর্তা একত্রিত হয়ে মাইক্রোবাস ভাড়া করে তাঁরা রাজশাহী আসেন। ইফতারের পরই তাঁরা আবার ফিরে যাবেন।
অপর দিকে একাধিক কর্মকর্তা এ নিয়ে ক্ষোভও প্রকাশ করেন। তাঁরা জানান, রাকাব অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের চাপে তাঁরা দূরদূরান্ত থেকে আসতে বাধ্য হয়েছেন। শুধু একটি ইফতার অনুষ্ঠানের জন্য এত দূর থেকে তাঁদের রাজশাহী আনা ঠিক হয়নি বলেও তাঁরা মন্তব্য করেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রংপুরের একটি জেলা থেকে আসা এক ব্যবস্থাপক বলেন, ‘আমি ব্যাংকের ক্যাশ অফিসারকে দায়িত্ব দিয়ে সকালে রওনা হয়েছি। কিন্তু অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়েই তো ক্যাশ অফিসার সিদ্ধান্ত দিতে পারবেন না। এতে কিছুটা জটিলতা হয়েছে। কিন্তু না এসে উপায় ছিল না।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাকাব অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের ইকবাল হোসেন খান বলেন, ‘সমস্যা হয়নি। আমাদের শাখাগুলোতে লেনদেন চলে সাড়ে ৩টা পর্যন্ত। লেনদেনের পরে কর্মকর্তারা এসেছেন। দায়িত্বের অবহেলা কেউ করবে না। সব জায়গায় লেনদেন ঠিকমতো চলেছে।’