রাজশাহীর পুঠিয়া রাজবাড়ি কমপ্লেক্সের একটি ভবন ভেঙে দেওয়ার ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর। আজ মঙ্গলবার পুঠিয়া রাজবাড়ির কাস্টডিয়ান হাফিজুর রহমান থানায় এই জিডি করেন। এ বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
যে ভবনটি ভাঙার চেষ্টা করা হচ্ছে, সেটি রাজবাড়ির সামনের অংশে পুঠিয়া-আড়ানী সড়কের পাশে অবস্থিত। ভবনটিতে একসময় রাজবাড়ির দারোয়ান নিতাই সিং বাস করতেন বলে জানেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এখন বাস করেন পুঠিয়া পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মনিরুল ইসলাম সাবু। তিনি কার্যক্রম নিষিদ্ধ ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা কমিটির সদস্য। কিছুদিন ধরে তিনি ভবনটি পুরোপুরি ভাঙার চেষ্টা করছেন। দুই দফা তাঁর কাজ বন্ধ করেছে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর। এটি কেনা সম্পত্তি বলে দাবি করছেন এই আওয়ামী লীগ নেতা। তবে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর ও গবেষকেরা বলছেন, ভবনটি পুঠিয়া রাজবাড়ি কমপ্লেক্সের ভেতরেই। ১৮২৩ থেকে ১৮৩০ সালের দিকে ভবনটি নির্মিত হয়েছিল। এর প্রত্নতাত্ত্বিক মূল্যও রয়েছে। রাজবাড়ির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ভবনটি নির্মিত হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়।
কাস্টডিয়ান হাফিজুর রহমানের করা জিডিতে বলা হয়, প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী ভবনটির ওপরের অংশ ভেঙে ফেলা হয়েছে এবং অবশিষ্ট অংশ ভেঙে ফেলার চেষ্টা চলছে। গত ১৪ এপ্রিল ভাঙার কাজে বাধা দেওয়া হয়েছে। পরে আবার ৩ মে ভাঙার চেষ্টা করলে পুনরায় বাধা দেওয়া হয়। বারবার নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ভবনটি ভাঙার চেষ্টা করা হচ্ছে। প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী ভবনটি আর যাতে ভাঙতে না পারে, সে জন্য আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
পুঠিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদুল ইসলাম জানান, তদন্তের অনুমতি চেয়ে জিডিটি আদালতে পাঠানো হবে। অনুমতি পাওয়া গেলে তদন্তসাপেক্ষে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মূল রাজবাড়ি থেকে ঢিল ছোড়া দূরত্বে পুঠিয়া-আড়ানী সড়কের পাশে এই ভবন অবস্থিত। এর পাশেই রাজবাড়ির ঐতিহ্যবাহী বড় শিবমন্দির ও দোলমন্দির। সম্প্রতি ভবনটি থেকে বিভিন্ন জিনিসপত্রও সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তখন একটি প্রাচীন আসবাবপত্রও সরিয়ে নিতে দেখা যায়। এটি দেখতে চেয়ারের মতো, কিন্তু আয়নাও লাগানো আছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের ধারণা, এই আসবাবপত্রও রাজপরিবারের। তবে আওয়ামী লীগ নেতা মনিরুল ইসলাম তা অস্বীকার করছেন। তিনি বলছেন, এটি পুরোনো, তবে রাজপরিবারের নয়।
মনিরুল দাবি করছেন, যে বাড়ি তিনি ভাঙছেন, সেটি মারোয়ারি সম্প্রদায়ের সম্পত্তি ছিল। তাঁর দাদা ইয়াকুব আলী স্বর্ণকার পাকিস্তান আমলে বাড়িসহ এই ৫ শতাংশ জমি কিনেছেন। এখন প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর ভাঙতে বাধা দিচ্ছে। সে ক্ষেত্রে সরকারকে কিনে নিতে হবে।