রাজশাহীর তানোরে স্বামীর মারধরে আহত হওয়া গৃহবধূ মালেকা বেগম (৪৫) মারা গেছেন। আজ বুধবার সকালে অভিযুক্ত স্বামী আবু বাক্কারকে (৫৫) গ্রেপ্তার করেছে তানোর থানা-পুলিশ। এর আগে গতকাল মঙ্গলবার রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (রামেক) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান মালেকা।
থানা-পুলিশ ও ভুক্তভোগীর অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার কামারগাঁ গ্রামের আবু বাক্কারের সঙ্গে প্রায় ৩৩ বছর আগে একই ইউনিয়নের হাতিশাইল পিয়াদাপাড়া গ্রামের মালেকা বেগমের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই পারিবারিক নানা কারণে মালেকার ওপর অত্যাচার করতেন আবু বাক্কার।
গত সোমবার গভীর রাতে পারিবারিক কলহের জেরে অভিযুক্ত আবু বাক্কার স্ত্রী মালেকা বেগমকে বেধড়ক মারপিট করে নিজ ঘরে ফেলে রাখেন। পরদিন মঙ্গলবার সকালে মুমূর্ষু অবস্থায় মালেকা বেগমকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন আবু বাক্কার। সেদিন দুপুরেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
নিহতের ভাতিজা জুলফিকার আলী বলেন, প্রায়ই আমার ফুপুকে মারপিট ও নির্যাতন করত ফুপা। গত সোমবার গভীর রাতে ফুপুকে বেধড়ক মারপিট করে অচেতন অবস্থায় ঘরের মেঝেতে ফেলে রাখা হয়। পরদিন সকালে রামেক হাসপাতালে ভর্তি করালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। আমরা এ হত্যার বিচার চাই।
তানোর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুজ্জামান মিয়া বলেন, এ ঘটনায় নিহতের আপন ভাতিজা জুলফিকার আলী বাদী হয়ে আজ সকালে ৩০২ পেনাল কোড ধারায় তানোর থানায় মামলা করেছেন। মামলা নম্বর-০৩। এরই মধ্যে হত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত আবু বাক্কারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ওসি আরও বলেন, ময়নাতদন্ত শেষে মালেকা বেগমের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।